ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের হামলায় ইরানের শীর্ষ ২০ সিনিয়র কমান্ডার নিহত

ইসরায়েলি হামলায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার ইন চিফ জেনারেল হোসেইন সালামি, বিমানবাহিনীর কমান্ডার আমির আলী হাজিজাদেহসহ কমপক্ষে শীর্ষ ২০ জন সিনিয়র কমান্ডার নিহত হয়েছেন। এসব হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসেইন বাকেরি, খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় ঘাঁটির প্রধান মেজর জেনারেল গোলাম আলী রাশিদ, এবং অন্তত ছয়জন পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হন। শুক্রবার দু’টি আঞ্চলিক সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, শুক্রবার ভোররাতে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক স্থানে হামলা চালায় ইসরায়েল। এ সময় তেহরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সদর দপ্তরে হামলা হয়। এ সময় আইআরজিসির সদর দপ্তরে ছিলেন হোসেইন সালামি।

এদিকে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ইসলামী রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার ইন চিফ জেনারেল হোসাইন সালামি, খাতাম-আল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার গোলাম আলী রাশিদ ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি নিহত হন। এছাড়া ছয় বিজ্ঞানীকে হত্যা করা হয়। তারা হলেন আব্দুল­াহ মিনৌচেহর, আহমাদ রেজা জলফাঘারি, সায়েদ আমির হোসেন ফাকহি, মোতলাবিজাদেহ, ফারেদুন আব্বাসি এবং মোহাম্মদ মেহেদি তেহরানচি।

শুক্রবার ভোরে ইরানে পাঁচ ধাপে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। অজ্ঞাত এক সামরিক কমকর্তা টাইমস অব ইসরায়েলকে জানিয়েছেন, ইরানে শত শত হামলা চালানো হয়েছে এবং অন্তত আটটি স্থানে (শহরে) লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন রাইসিং লায়ন’ নামে ইরানে হামলা করে ইসরায়েল। ইসরায়েলের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ব্যর্থ করে দিতে এই হামলা করা হয়।
প্রাথমিক ভাবে পাওয়া বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানের ছয়টি স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে।

আর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় অন্তত দু’টি ধাপে হামলা চালানো হয়। তবে নিশ্চিত না হলেও এখন তৃতীয় দফার হামলা চলমান থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যেসব স্থানে হামলার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে রাজধানী তেহরান ও এর আশপাশের সামরিক স্থাপনা; তেহরানের দক্ষিণে নাতানজ শহর, যেখানে ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র অবস্থিত; তেহরানের উত্তর-পশ্চিমে তাবরিজ শহর, যেখানে একটি পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র ও দু’টি সামরিক ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে; তেহরানের দক্ষিণে ইস্পাহান শহর; তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে আরাক শহর ও পশ্চিমে কেরমানশাহ শহর।
ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, তেহরানজুড়ে ৬ থেকে ৯টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলা হয়েছে আবাসিক ভবনেও।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী এসব হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে তেহরান।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বলছে, ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তেহরানসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামিও নিহত হয়েছেন। তেহরানে আইআরজিসি সদর দপ্তরেও হামলা হয়েছে বলে জানায় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। হামলার সময় আইআরজিসি-এর সদর দপ্তরে ছিলেন হোসেইন সালামি। এছাড়া ইরানের দুই পরমাণু বিজ্ঞানীও নিহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন, ফেরেদুন আব্বাসি ও মোহাম্মদ মেহদি তেহরানচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিহত দুই বিজ্ঞানীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেরেদুন আব্বাসি ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার (এইওআই) সাবেক প্রধান। ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর দেখাশোনা করে থাকে এইওআই। ২০১০ সালে তেহরানের একটি সড়কে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তখন প্রাণে বেঁচে যান তিনি। নিহত অপর বিজ্ঞানী মোহাম্মদ মেহদি তেহরানচি তেহরানের ইসলামিক আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
হোসেইন সালামি ২০১৯ সাল থেকে বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ইরানের পরমাণু ও সামরিক কৌশল নির্ধারণে তিনি ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তার নেতৃত্বেই ইরান আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে একাধিক সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে এসেছে, বিশেষত ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস মূলত একটি সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তি যা দেশটির ইসলামি শাসন ব্যবস্থার প্রতি ভেতর ও বাইরে থেকে আসা যে কোনো হুমকিকে প্রতিরোধে কাজ করে।
বিবিসি বলছে, আইআরজিসি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি শক্তিশালী শাখা, যার রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব দেশটির ভেতরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গার্ডস বাহিনী বিশেষত ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জরুরি অবস্থা জারি ইসরায়েলে: ইরানে হামলার পরপরই নিজ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে ইসরায়েলি সরকার। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরিই ইসরায়েলের ওপর পাল্টা হামলা’ চালাতে পারে ইরান। ইরানের ওপর যখন হামলা চালানো হয় ইসরায়েলের মানুষ তখন ঘুমাচ্ছিলেন।
জেরুজালেমে অবস্থানরত একজন বিবিসি সংবাদদাতা জানিয়েছেন, সাইরেনের বিকট শব্দে এবং মোবাইলে জরুরি সতর্কবার্তা পেয়ে তারা জেগে ওঠেন।
ইরানের স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর কিছু সময় পর, তেহরানে তখন ভোর ৫টা ৩০ মিনিট এবং ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান শহর তেল আবিবে ভোর ৫টা, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ইরানে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘যতদিন প্রয়োজন, ততদিন এ হামলা অব্যাহত থাকবে। এই হামলা ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে।’ শুক্রবার হামলার পর এক ভিডিও বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য’ ইরানি হুমকি প্রতিহত করতে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ শুরু করেছে ইসরায়েল। রাজধানী তেহরান থেকে ২২৫ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর নাতানজ্-এ হামলা চালানোর কথা জানান নেতানিয়াহু। এ জায়গাটিকে সমৃদ্ধকরণের মূল এলাকা হিসেবে উলে­খ করে তিনি বলেন, ইসরায়েল ‘বোমা তৈরিতে কাজ করা’ ইরানি বিজ্ঞানীদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। এই হামলা ‘যত দিন সময় লাগে তত দিন চলবে।’

Tag :

ইসরায়েলের হামলায় ইরানের শীর্ষ ২০ সিনিয়র কমান্ডার নিহত

Update Time : ০৪:৫৮:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

ইসরায়েলি হামলায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার ইন চিফ জেনারেল হোসেইন সালামি, বিমানবাহিনীর কমান্ডার আমির আলী হাজিজাদেহসহ কমপক্ষে শীর্ষ ২০ জন সিনিয়র কমান্ডার নিহত হয়েছেন। এসব হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসেইন বাকেরি, খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় ঘাঁটির প্রধান মেজর জেনারেল গোলাম আলী রাশিদ, এবং অন্তত ছয়জন পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হন। শুক্রবার দু’টি আঞ্চলিক সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, শুক্রবার ভোররাতে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক স্থানে হামলা চালায় ইসরায়েল। এ সময় তেহরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সদর দপ্তরে হামলা হয়। এ সময় আইআরজিসির সদর দপ্তরে ছিলেন হোসেইন সালামি।

এদিকে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ইসলামী রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার ইন চিফ জেনারেল হোসাইন সালামি, খাতাম-আল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার গোলাম আলী রাশিদ ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি নিহত হন। এছাড়া ছয় বিজ্ঞানীকে হত্যা করা হয়। তারা হলেন আব্দুল­াহ মিনৌচেহর, আহমাদ রেজা জলফাঘারি, সায়েদ আমির হোসেন ফাকহি, মোতলাবিজাদেহ, ফারেদুন আব্বাসি এবং মোহাম্মদ মেহেদি তেহরানচি।

শুক্রবার ভোরে ইরানে পাঁচ ধাপে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। অজ্ঞাত এক সামরিক কমকর্তা টাইমস অব ইসরায়েলকে জানিয়েছেন, ইরানে শত শত হামলা চালানো হয়েছে এবং অন্তত আটটি স্থানে (শহরে) লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন রাইসিং লায়ন’ নামে ইরানে হামলা করে ইসরায়েল। ইসরায়েলের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ব্যর্থ করে দিতে এই হামলা করা হয়।
প্রাথমিক ভাবে পাওয়া বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানের ছয়টি স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে।

আর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় অন্তত দু’টি ধাপে হামলা চালানো হয়। তবে নিশ্চিত না হলেও এখন তৃতীয় দফার হামলা চলমান থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যেসব স্থানে হামলার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে রাজধানী তেহরান ও এর আশপাশের সামরিক স্থাপনা; তেহরানের দক্ষিণে নাতানজ শহর, যেখানে ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র অবস্থিত; তেহরানের উত্তর-পশ্চিমে তাবরিজ শহর, যেখানে একটি পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র ও দু’টি সামরিক ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে; তেহরানের দক্ষিণে ইস্পাহান শহর; তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে আরাক শহর ও পশ্চিমে কেরমানশাহ শহর।
ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, তেহরানজুড়ে ৬ থেকে ৯টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলা হয়েছে আবাসিক ভবনেও।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী এসব হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে তেহরান।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বলছে, ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তেহরানসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামিও নিহত হয়েছেন। তেহরানে আইআরজিসি সদর দপ্তরেও হামলা হয়েছে বলে জানায় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। হামলার সময় আইআরজিসি-এর সদর দপ্তরে ছিলেন হোসেইন সালামি। এছাড়া ইরানের দুই পরমাণু বিজ্ঞানীও নিহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন, ফেরেদুন আব্বাসি ও মোহাম্মদ মেহদি তেহরানচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিহত দুই বিজ্ঞানীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেরেদুন আব্বাসি ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার (এইওআই) সাবেক প্রধান। ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর দেখাশোনা করে থাকে এইওআই। ২০১০ সালে তেহরানের একটি সড়কে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তখন প্রাণে বেঁচে যান তিনি। নিহত অপর বিজ্ঞানী মোহাম্মদ মেহদি তেহরানচি তেহরানের ইসলামিক আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
হোসেইন সালামি ২০১৯ সাল থেকে বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ইরানের পরমাণু ও সামরিক কৌশল নির্ধারণে তিনি ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তার নেতৃত্বেই ইরান আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে একাধিক সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে এসেছে, বিশেষত ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস মূলত একটি সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তি যা দেশটির ইসলামি শাসন ব্যবস্থার প্রতি ভেতর ও বাইরে থেকে আসা যে কোনো হুমকিকে প্রতিরোধে কাজ করে।
বিবিসি বলছে, আইআরজিসি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি শক্তিশালী শাখা, যার রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব দেশটির ভেতরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গার্ডস বাহিনী বিশেষত ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জরুরি অবস্থা জারি ইসরায়েলে: ইরানে হামলার পরপরই নিজ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে ইসরায়েলি সরকার। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরিই ইসরায়েলের ওপর পাল্টা হামলা’ চালাতে পারে ইরান। ইরানের ওপর যখন হামলা চালানো হয় ইসরায়েলের মানুষ তখন ঘুমাচ্ছিলেন।
জেরুজালেমে অবস্থানরত একজন বিবিসি সংবাদদাতা জানিয়েছেন, সাইরেনের বিকট শব্দে এবং মোবাইলে জরুরি সতর্কবার্তা পেয়ে তারা জেগে ওঠেন।
ইরানের স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর কিছু সময় পর, তেহরানে তখন ভোর ৫টা ৩০ মিনিট এবং ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান শহর তেল আবিবে ভোর ৫টা, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ইরানে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘যতদিন প্রয়োজন, ততদিন এ হামলা অব্যাহত থাকবে। এই হামলা ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে।’ শুক্রবার হামলার পর এক ভিডিও বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য’ ইরানি হুমকি প্রতিহত করতে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ শুরু করেছে ইসরায়েল। রাজধানী তেহরান থেকে ২২৫ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর নাতানজ্-এ হামলা চালানোর কথা জানান নেতানিয়াহু। এ জায়গাটিকে সমৃদ্ধকরণের মূল এলাকা হিসেবে উলে­খ করে তিনি বলেন, ইসরায়েল ‘বোমা তৈরিতে কাজ করা’ ইরানি বিজ্ঞানীদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। এই হামলা ‘যত দিন সময় লাগে তত দিন চলবে।’