ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ফরিদপুরের পদ্মায় মাছ ধরা বড়শিতে উঠল কুমির।। জনমনে আতঙ্ক। ফরিদপুরে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ১৫৪ শিক্ষার্থীর ওএমআর শিট গায়েব কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে র‍্যাব নারীদের এবার এলপিজি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী যশোরের শার্শায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৩ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে: আবহাওয়া অধিদপ্তর অত্যাধুনিক মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা প্রযুক্তি নকলের কাজ শুরু করেছে ইরান : আইআরজিসি হরমুজ প্রণালি আবার চালু করাসহ চলমান যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের একটি নতুন প্রস্তাব যশোর সফরে তারেক রহমান এক নজরে বিশ্ব সংবাদ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬

এখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মধ্যে ‘খোলা যুদ্ধ’; সমুচিত জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:১৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮০ Time View

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে রাতভর একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১টা ৫০ মিনিট থেকে বিস্ফোরণ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন আলজাজিরার কাবুল প্রতিনিধি নেসার শহিদ।

সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দাবি করেন, পাকিস্তানি বিমান আবারও কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে বোমাবর্ষণ করেছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক্সে লিখেছেন, এটি এখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মধ্যে ‘খোলা যুদ্ধ’। সমুচিত জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

এদিকে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, আফগানিস্তান ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বৃহৎ পরিসরের আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনা করছে।

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত, যা ডুরান্ড লাইন নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। সাম্প্রতিক এই হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে কাবুলসহ একাধিক এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো নজর রাখছে।

আফগানিস্তানে নিহত ১৩৩

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, পাকিস্তান বিমান বাহিনী (পিএএফ) আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে একটি বড় অস্ত্র ও গোলাবারুদের ডিপোতে বিমান হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করেছে।

জিওটিভি নিউজকে পাকিস্তানের সরকারি এক কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, সীমান্তে উসকানিমূলক হামলার জবাবে নেওয়া অভিযানে আফগান তালেবান প্রশাসনের ১৩৩ জন সদস্য নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিরাপত্তা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তালেবান বাহিনীর পদক্ষেপের জবাবে পাকিস্তানি বাহিনী ‘গাজাব-লিল-হক’ নামে একটি অভিযান শুরু করে। ভোর ৩টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলমান সংঘর্ষের হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক গণমাধ্যমবিষয়ক মুখপাত্র মুশাররফ জাইদি বলেন, পাকিস্তানের পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হচ্ছে।

তার দাবি, কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় অতিরিক্ত হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ২৭টি তালেবান চৌকি ধ্বংস এবং ৯টি দখল করা হয়েছে।

সরকারের মুখপাত্র আরও দাবি করেন, হামলায় দুটি কোর সদর দপ্তর, তিনটি ব্রিগেড সদর দপ্তর, দুটি গোলাবারুদ ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, তিনটি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর এবং দুটি সেক্টর সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৮০টির বেশি ট্যাংক, কামান ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মুশাররফ জাইদি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাকিস্তানের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয়

ফরিদপুরের পদ্মায় মাছ ধরা বড়শিতে উঠল কুমির।। জনমনে আতঙ্ক।

এখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মধ্যে ‘খোলা যুদ্ধ’; সমুচিত জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার

Update Time : ০৪:১৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে রাতভর একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১টা ৫০ মিনিট থেকে বিস্ফোরণ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন আলজাজিরার কাবুল প্রতিনিধি নেসার শহিদ।

সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দাবি করেন, পাকিস্তানি বিমান আবারও কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে বোমাবর্ষণ করেছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক্সে লিখেছেন, এটি এখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মধ্যে ‘খোলা যুদ্ধ’। সমুচিত জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

এদিকে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, আফগানিস্তান ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বৃহৎ পরিসরের আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনা করছে।

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত, যা ডুরান্ড লাইন নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। সাম্প্রতিক এই হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে কাবুলসহ একাধিক এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো নজর রাখছে।

আফগানিস্তানে নিহত ১৩৩

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, পাকিস্তান বিমান বাহিনী (পিএএফ) আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে একটি বড় অস্ত্র ও গোলাবারুদের ডিপোতে বিমান হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করেছে।

জিওটিভি নিউজকে পাকিস্তানের সরকারি এক কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, সীমান্তে উসকানিমূলক হামলার জবাবে নেওয়া অভিযানে আফগান তালেবান প্রশাসনের ১৩৩ জন সদস্য নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিরাপত্তা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তালেবান বাহিনীর পদক্ষেপের জবাবে পাকিস্তানি বাহিনী ‘গাজাব-লিল-হক’ নামে একটি অভিযান শুরু করে। ভোর ৩টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলমান সংঘর্ষের হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক গণমাধ্যমবিষয়ক মুখপাত্র মুশাররফ জাইদি বলেন, পাকিস্তানের পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হচ্ছে।

তার দাবি, কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় অতিরিক্ত হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ২৭টি তালেবান চৌকি ধ্বংস এবং ৯টি দখল করা হয়েছে।

সরকারের মুখপাত্র আরও দাবি করেন, হামলায় দুটি কোর সদর দপ্তর, তিনটি ব্রিগেড সদর দপ্তর, দুটি গোলাবারুদ ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, তিনটি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর এবং দুটি সেক্টর সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৮০টির বেশি ট্যাংক, কামান ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মুশাররফ জাইদি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাকিস্তানের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া চলমান রয়েছে।