ঢাকা ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
শুক্রবার পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুরে ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকির হত্যার আসামীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আন্দোলন কতদিন চলবে, যা বলছে ককরোচ পার্টি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে হোটেলকক্ষের গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করুন মোবাইল দিয়েই গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করেছে জামায়াত ফরিদপুরে যাত্রা শুরু করল ‘পেয়ালা ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ ফরিদপুরে নারীর মানসিক স্বাস্থ্য: সচেতনতা, সহমর্মিতা ও করণীয় বিষয়ক নন্দিতা সুরক্ষার কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে শহরে (আল-খলিল) অবস্থিত ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

শুক্রবার (২৯ মে) স্থানীয় সময় সকালে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিধায় মসজিদে জুমার নামাজও আদায় করতে পারেনি ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা।

মসজিদটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাম্মাম আবু মারাখিয়া বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী শুক্রবার সকালে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ মসজিদটি বন্ধ করে দিয়েছে। মসজিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা গার্ড, তত্ত্বাবধায়ক, কর্মচারী ও মুসল্লিদের জোরপূর্বক বের করে দিয়েছে।

দলখলদার ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে মসজিদের পবিত্রতার ‘প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ এবং মুসলমানদের ইবাদতস্থলে প্রবেশের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।

আবু মারাখিয়া আরও বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী ওই স্থানটির চারপাশে বিধিনিষেধ কঠোর করেছে এবং মসজিদের দিকে যাওয়ার সামরিক চেকপয়েন্ট ও ইলেকট্রনিক গেটগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।

ফিলিস্তিনি আওকাফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশের অধিকারের ওপর সরাসরি আক্রমণ বলে অভিহিত করেছে।

বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, এই পদক্ষেপটি মসজিদটির ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে চলমান ইসরায়েলি নীতিরই প্রতিফলন।

এতে সতর্ক করা হয়েছে যে, অব্যাহত বিধিনিষেধের ফলে ওই স্থানের অভ্যন্তরে একটি ‘নতুন বাস্তবতা’ চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে। আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে হস্তক্ষেপ করে মুসল্লিদের জন্য অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

আনাদোলু জানিয়েছে, গত ২৭ মে কঠোর ইসরায়েলি বিধিনিষেধের মধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদে সীমিত সংখ্যক ফিলিস্তিনি ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মসজিদের ফটকগুলো বন্ধ করে দেয় এবং প্রবেশপথে মুসল্লিদের তল্লাশি করে। এর ফলে মসজিদে ঢুকতে দেরি হওয়ায় অনেকে অন্য মসজিদে যেতে বাধ্য হন।

এর দুদিন আগে ইসরায়েলি বাহিনী মসজিদটির কাছে স্টান গ্রেনেডও নিক্ষেপ করে। এতে মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে ঈদের জামাতে মাত্র ৩০০ জন মুসল্লি উপস্থিত হতে পেরেছিলেন।

হেবরনের গভর্নর খালেদ জানান, ঈদুল আজহা মুসলমানদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব। কিন্তু দখলদার বাহিনী ইব্রাহিমি মসজিদের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। মুসল্লিদের ওপর স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে।

ইব্রাহিমি মসজিদটি হেবরনের পুরাতন শহরে অবস্থিত। ওই এলাকাটি সম্পূর্ণ ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন। এই এলাকায় প্রায় ৪০০ বসতি স্থাপনকারীর নিরাপত্তার জন্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইসরায়েলি সৈন্য মোতায়েন করা রয়েছে।

১৯৯৪ সালে এক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী হামলা চালিয়ে ২৯ জন ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে হত্যা করে। এরপর ইসরায়েল মসজিদ এলাকা ভাগ করে দেয়; অর্থাৎ ৬৩ শতাংশ ইহুদিদের এবং ৩৭ শতাংশ মুসলমানদের জন্য।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইসরায়েলি সেনা অভিযান, গ্রেপ্তার ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলাও বেড়েছে।

ফিলিস্তিনিদের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে ১ হাজার ১৬৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত, ১২ হাজার ৬৬৬ জন আহত, প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ ঘরছাড়া এবং প্রায় ২৩ হাজার মানুষ আটক হয়েছেন।

Tag :
জনপ্রিয়

শুক্রবার পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী

Update Time : ০১:৫০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে শহরে (আল-খলিল) অবস্থিত ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

শুক্রবার (২৯ মে) স্থানীয় সময় সকালে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিধায় মসজিদে জুমার নামাজও আদায় করতে পারেনি ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা।

মসজিদটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাম্মাম আবু মারাখিয়া বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী শুক্রবার সকালে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ মসজিদটি বন্ধ করে দিয়েছে। মসজিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা গার্ড, তত্ত্বাবধায়ক, কর্মচারী ও মুসল্লিদের জোরপূর্বক বের করে দিয়েছে।

দলখলদার ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে মসজিদের পবিত্রতার ‘প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ এবং মুসলমানদের ইবাদতস্থলে প্রবেশের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।

আবু মারাখিয়া আরও বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী ওই স্থানটির চারপাশে বিধিনিষেধ কঠোর করেছে এবং মসজিদের দিকে যাওয়ার সামরিক চেকপয়েন্ট ও ইলেকট্রনিক গেটগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।

ফিলিস্তিনি আওকাফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশের অধিকারের ওপর সরাসরি আক্রমণ বলে অভিহিত করেছে।

বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, এই পদক্ষেপটি মসজিদটির ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে চলমান ইসরায়েলি নীতিরই প্রতিফলন।

এতে সতর্ক করা হয়েছে যে, অব্যাহত বিধিনিষেধের ফলে ওই স্থানের অভ্যন্তরে একটি ‘নতুন বাস্তবতা’ চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে। আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে হস্তক্ষেপ করে মুসল্লিদের জন্য অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

আনাদোলু জানিয়েছে, গত ২৭ মে কঠোর ইসরায়েলি বিধিনিষেধের মধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদে সীমিত সংখ্যক ফিলিস্তিনি ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মসজিদের ফটকগুলো বন্ধ করে দেয় এবং প্রবেশপথে মুসল্লিদের তল্লাশি করে। এর ফলে মসজিদে ঢুকতে দেরি হওয়ায় অনেকে অন্য মসজিদে যেতে বাধ্য হন।

এর দুদিন আগে ইসরায়েলি বাহিনী মসজিদটির কাছে স্টান গ্রেনেডও নিক্ষেপ করে। এতে মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে ঈদের জামাতে মাত্র ৩০০ জন মুসল্লি উপস্থিত হতে পেরেছিলেন।

হেবরনের গভর্নর খালেদ জানান, ঈদুল আজহা মুসলমানদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব। কিন্তু দখলদার বাহিনী ইব্রাহিমি মসজিদের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। মুসল্লিদের ওপর স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে।

ইব্রাহিমি মসজিদটি হেবরনের পুরাতন শহরে অবস্থিত। ওই এলাকাটি সম্পূর্ণ ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন। এই এলাকায় প্রায় ৪০০ বসতি স্থাপনকারীর নিরাপত্তার জন্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইসরায়েলি সৈন্য মোতায়েন করা রয়েছে।

১৯৯৪ সালে এক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী হামলা চালিয়ে ২৯ জন ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে হত্যা করে। এরপর ইসরায়েল মসজিদ এলাকা ভাগ করে দেয়; অর্থাৎ ৬৩ শতাংশ ইহুদিদের এবং ৩৭ শতাংশ মুসলমানদের জন্য।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইসরায়েলি সেনা অভিযান, গ্রেপ্তার ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলাও বেড়েছে।

ফিলিস্তিনিদের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে ১ হাজার ১৬৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত, ১২ হাজার ৬৬৬ জন আহত, প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ ঘরছাড়া এবং প্রায় ২৩ হাজার মানুষ আটক হয়েছেন।