ঢাকা ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করোনার ৩ ডোজ টিকা নেয়া ওমর ফারুকের মানসিক সুস্থতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৪৪:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১
  • ৩৪৫ Time View

করোনাভাইরাসের তিনটি টিকা একসাথে গ্রহণের দাবিদার নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ওমর ফারুক এখনো সুস্থ আছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শেখ ফজিলাতুন্নেছা কনভেনশন সেন্টারে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। টিকা নেয়ার পর তার জ্বর, সর্দি, কাশি কিংবা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি।

বৃহস্পতিবার বিএসএমএমইউ’র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

গত মঙ্গলবার ওমর ফারুক একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানান, বিএসএমএমইউ টিকাদান কেন্দ্রের তিনটি বুথ থেকে তাকে তিনবার টিকা দেয়া হয়েছে। এরপর ওই ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলেও গণমাধ্যমে খবর আসে। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বুধবার তার সন্ধান পেয়ে তাকে একাধিকবার ফোন দিয়ে হাসপাতালে যেতে বলে। কিন্তু তিনি না যাওয়া দুপুরে মেডিক্যাল টিম এসে তাকে ফতুল্লার ভুইগড় এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায়।

ওমর ফারুকের বোন ফারজানা আক্তার বলেন, তিন ডোজ টিকা নেয়ার পর তার ভাইয়ের শরীরে হালকা জ্বর ও শরীর ব্যথা হয়েছিল। এছাড়া তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। টিকা নেয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তাকে বিএসএমএমইউতে যাওয়ার জন্য অনেকবার ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু তার ভাই ভয়ে ফোন না ধরে পরে ফোন বন্ধ করে রাখেন। পরে বুধবার দুপুরে মেডিক্যাল টিম পরিচয়ে হাসপাতাল থেকে লোকজন এসে তার ভাইকে তুলে নিয়ে গেছে।

ফারুকের বোন বলেন, ভাইয়ের সাথে তার স্বামী গোলাম সারোয়ার নাহিদকে দেয়া হলেও তাকে রেখে গেছেন ওই টিমের সদস্যরা এর আগে মঙ্গলবার একসাথে তিন ডোজ টিকা নেয়ার এমন খবর মিথ্যা ও গুজব বলে দাবি করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ভিসি অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ।

ভিসি বলেন, ‘অভিযোগকারী’ টিকাগ্রহণকারী ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টার পাশাপাশি এই ‘অপপ্রচারের’ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলছেন বিএসএমএমই ভিসি।

তিনি বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমি সংশ্লিষ্টদের ডেকেছিলাম। এক ব্যক্তি তিন ডোজ টিকা নিতে পারেন না। এটা সম্ভব না। কারণ নিবন্ধন দেখেই টিকা দেয়া হয়। এমন ঘটনা ভুল খবর।

তিনি আরো বলেন, ওই ব্যক্তিকে নিয়ে আসার জন্য বলেছি। তিন ডোজ টিকা নেয়া ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা হবে। লোকটি পাগল হতে পারে। তাকে খুঁজে বের করা হবে। সুস্থ মানুষের পক্ষে এমন ঘটনা ঘটানো সম্ভব না।

তিনি বলেন, ‘বিএসএমএমইউ ভিসি এবং তিনি বৃহস্পতিবার সকালেও ওমর ফারুকের সাথে কথা বলেছেন। তিন ডোজ টিকা নেয়ার কথা বললেও তার হাতে কোনো চিহ্ন নেই। সাধারণত এক ডোজ টিকা নিলেই সামান্য জ্বর, সর্দি কিংবা কাশি হতে পারে। কিন্তু তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিন ডোজ দিয়ে টিকা নেয়ার পরও তার কোনো ধরনের জ্বর-সর্দি-কাশি নেই।

তিনি আরো বলেন, ওমর ফারুক নামের এই যুবক মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ কারণে তিন সদস্যের কমিটিতে একজন মানসিক বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।’ সূত্র: নয়া দিগন্ত

Tag :

করোনার ৩ ডোজ টিকা নেয়া ওমর ফারুকের মানসিক সুস্থতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে

Update Time : ০৯:৪৪:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১

করোনাভাইরাসের তিনটি টিকা একসাথে গ্রহণের দাবিদার নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ওমর ফারুক এখনো সুস্থ আছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শেখ ফজিলাতুন্নেছা কনভেনশন সেন্টারে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। টিকা নেয়ার পর তার জ্বর, সর্দি, কাশি কিংবা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি।

বৃহস্পতিবার বিএসএমএমইউ’র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

গত মঙ্গলবার ওমর ফারুক একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানান, বিএসএমএমইউ টিকাদান কেন্দ্রের তিনটি বুথ থেকে তাকে তিনবার টিকা দেয়া হয়েছে। এরপর ওই ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলেও গণমাধ্যমে খবর আসে। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বুধবার তার সন্ধান পেয়ে তাকে একাধিকবার ফোন দিয়ে হাসপাতালে যেতে বলে। কিন্তু তিনি না যাওয়া দুপুরে মেডিক্যাল টিম এসে তাকে ফতুল্লার ভুইগড় এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায়।

ওমর ফারুকের বোন ফারজানা আক্তার বলেন, তিন ডোজ টিকা নেয়ার পর তার ভাইয়ের শরীরে হালকা জ্বর ও শরীর ব্যথা হয়েছিল। এছাড়া তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। টিকা নেয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তাকে বিএসএমএমইউতে যাওয়ার জন্য অনেকবার ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু তার ভাই ভয়ে ফোন না ধরে পরে ফোন বন্ধ করে রাখেন। পরে বুধবার দুপুরে মেডিক্যাল টিম পরিচয়ে হাসপাতাল থেকে লোকজন এসে তার ভাইকে তুলে নিয়ে গেছে।

ফারুকের বোন বলেন, ভাইয়ের সাথে তার স্বামী গোলাম সারোয়ার নাহিদকে দেয়া হলেও তাকে রেখে গেছেন ওই টিমের সদস্যরা এর আগে মঙ্গলবার একসাথে তিন ডোজ টিকা নেয়ার এমন খবর মিথ্যা ও গুজব বলে দাবি করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ভিসি অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ।

ভিসি বলেন, ‘অভিযোগকারী’ টিকাগ্রহণকারী ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টার পাশাপাশি এই ‘অপপ্রচারের’ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলছেন বিএসএমএমই ভিসি।

তিনি বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমি সংশ্লিষ্টদের ডেকেছিলাম। এক ব্যক্তি তিন ডোজ টিকা নিতে পারেন না। এটা সম্ভব না। কারণ নিবন্ধন দেখেই টিকা দেয়া হয়। এমন ঘটনা ভুল খবর।

তিনি আরো বলেন, ওই ব্যক্তিকে নিয়ে আসার জন্য বলেছি। তিন ডোজ টিকা নেয়া ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা হবে। লোকটি পাগল হতে পারে। তাকে খুঁজে বের করা হবে। সুস্থ মানুষের পক্ষে এমন ঘটনা ঘটানো সম্ভব না।

তিনি বলেন, ‘বিএসএমএমইউ ভিসি এবং তিনি বৃহস্পতিবার সকালেও ওমর ফারুকের সাথে কথা বলেছেন। তিন ডোজ টিকা নেয়ার কথা বললেও তার হাতে কোনো চিহ্ন নেই। সাধারণত এক ডোজ টিকা নিলেই সামান্য জ্বর, সর্দি কিংবা কাশি হতে পারে। কিন্তু তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিন ডোজ দিয়ে টিকা নেয়ার পরও তার কোনো ধরনের জ্বর-সর্দি-কাশি নেই।

তিনি আরো বলেন, ওমর ফারুক নামের এই যুবক মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ কারণে তিন সদস্যের কমিটিতে একজন মানসিক বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।’ সূত্র: নয়া দিগন্ত