ঢাকা ১১:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
কুয়েতে মার্কিন সামরিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ইরানের ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা বাড়ছে, ইসরায়েলে আসছে একাধিক রিফুয়েলিং বিমান! ভাঙ্গায় বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে প্রাণ নাশের হুমকি, আতঙ্কে পরিবার ফরিদপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর পাটক্ষেত থেকে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে রাতে মুখোমুখি ফ্রান্স-ইংল্যান্ড ইয়ামালকে ‘অন্তত এবার’ ঐতিহাসিক কিছু গড়ার সুযোগ দেবেন না মেসি পরিবেশ দূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা ২০ জুলাই এসএসসির ফল প্রকাশ হচ্ছে না বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে তৈরি সেই ভাস্কর্য অপসারণের কারণ জানা গেলো শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে: জয়সওয়াল

কুয়েতে মার্কিন সামরিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ইরানের

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির একটি সামরিক রাডার স্থাপনা ধ্বংস করেছে। ক্যাম্প আরিফজানে মার্কিন সেনাদের জড়ো হওয়ার একটি স্থানে হামলা চালানোরও দাবি করেছে তারা। অপারেশন নাসর-২ অভিযানের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, তাদের স্থল বাহিনী ক্যাম্প আরিফজানে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি রসদ সরবরাহকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ড্রোন হামলা চালিয়ে আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানি বাহিনী একটি অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার ও ড্রোন রাখার একটি স্থানে হামলা চালিয়েছে।

স্থল বাহিনীর পাল্টা অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে আইআরজিসি।

বিপ্লবী বাহিনীর অভিযোগ, সরাসরি যুদ্ধে সফল না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। তাদের দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে যুক্তরাষ্ট্র হাসপাতাল, সেতু, রেললাইন, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্থল বাহিনীর প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আইআরজিসি আলাদা আরেকটি বিবৃতিতে বলেছে, গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তাদের নৌবাহিনী সমন্বিতভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ইরানি বাহিনী কুয়েতের আল আহমাদি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরের জ্বালানি সরবরাহ ঘাঁটি, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বিমানের একটি স্থাপনা এবং বাহরাইনে বাতেলকো নামের একটি গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির নৌবাহিনী কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংকেত ও যোগাযোগকেন্দ্র ধ্বংস করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই অভিযান পরিচালনার সময় আইআরজিসির নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তারা আরও বিস্তৃতভাবে জবাব দেবে। একই সময়ে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন জাহাজে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

ইরানের দাবি, গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার দেশটির ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ আগ্রাসনের অংশ।

ইরান আরও বলেছে, গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলেও এসব হামলা বন্ধ হয়নি। ওই সমঝোতার প্রথম শর্ত ছিল সব ধরনের সামরিক আগ্রাসন বন্ধ রাখা।

সূত্র: প্রেস টিভি

Tag :
জনপ্রিয়

কুয়েতে মার্কিন সামরিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ইরানের

কুয়েতে মার্কিন সামরিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ইরানের

Update Time : ০৪:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির একটি সামরিক রাডার স্থাপনা ধ্বংস করেছে। ক্যাম্প আরিফজানে মার্কিন সেনাদের জড়ো হওয়ার একটি স্থানে হামলা চালানোরও দাবি করেছে তারা। অপারেশন নাসর-২ অভিযানের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, তাদের স্থল বাহিনী ক্যাম্প আরিফজানে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি রসদ সরবরাহকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ড্রোন হামলা চালিয়ে আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানি বাহিনী একটি অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার ও ড্রোন রাখার একটি স্থানে হামলা চালিয়েছে।

স্থল বাহিনীর পাল্টা অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে আইআরজিসি।

বিপ্লবী বাহিনীর অভিযোগ, সরাসরি যুদ্ধে সফল না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। তাদের দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে যুক্তরাষ্ট্র হাসপাতাল, সেতু, রেললাইন, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্থল বাহিনীর প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আইআরজিসি আলাদা আরেকটি বিবৃতিতে বলেছে, গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তাদের নৌবাহিনী সমন্বিতভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ইরানি বাহিনী কুয়েতের আল আহমাদি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরের জ্বালানি সরবরাহ ঘাঁটি, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বিমানের একটি স্থাপনা এবং বাহরাইনে বাতেলকো নামের একটি গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির নৌবাহিনী কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংকেত ও যোগাযোগকেন্দ্র ধ্বংস করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই অভিযান পরিচালনার সময় আইআরজিসির নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তারা আরও বিস্তৃতভাবে জবাব দেবে। একই সময়ে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন জাহাজে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

ইরানের দাবি, গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার দেশটির ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ আগ্রাসনের অংশ।

ইরান আরও বলেছে, গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলেও এসব হামলা বন্ধ হয়নি। ওই সমঝোতার প্রথম শর্ত ছিল সব ধরনের সামরিক আগ্রাসন বন্ধ রাখা।

সূত্র: প্রেস টিভি