মাহবুব পিয়াল,ফরিদপুর : ফরিদপুরের ভাঙ্গায় জমি-জমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বসতবাড়ির বেড়া ভেঙ্গে জায়গা দলখ করে পরিবার সহ তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের সদস্যরা।
গত ১৬ জুলাই সকালে উপজেলার রায়পাড়া সদরদী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: লোকমান হোসেন (৭৫)।

ঘটনার বিবরণ ও ভাঙ্গা থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা পৌরসভার ০৭নং ওয়ার্ডের রায়পাড়া সদরদী এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: লোকমান হোসেনের সাথে একই এলাকার রতন কাজী (৭০), ফরিদ কাজী (৩৫), মমিন কাজী (৫০) এবং মেজবাউদ্দিন কাজী (৪৫) সহ বেশ কিছু ব্যক্তির জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও শত্রুতা চলে আসছিল।
জায়গা নিয়ে বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে এর আগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সরকারি আমিন দ্বারা বিরোধীয় সম্পত্তি পরিমাপ করা হয়। পরিমাপ শেষে আমিন অভিযুক্তদের ভাগের সম্পত্তি বুঝিয়ে দিলেও, বীর মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেনের সম্পত্তি সঠিকভাবে বুঝিয়ে না দেওয়ায় তিনি উক্ত পরিমাপ অমান্য করেন এবং অভিজ্ঞ আমিন দ্বারা পুনরায় সঠিক পরিমাপের প্রস্তাব দেন।
এরপর থেকেই অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে লোকমান হোসেনের কিছু সম্পত্তি বেড়া ভেংগে নিয়ে যায় এবং জায়গা দখল করার পাঁয়তারা শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার দীর্ঘদিনের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে এবং সম্পত্তিতে থাকা গাছপালা কেটে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।
বসতবাড়ির সামনে এসে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়। সর্বশেষ গত ১৬ জুলাই সকাল আনুমানিক সকাল ৯ টার দিকে সে জড়ো হয়। তারা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলে যে, ভবিষ্যতে তারা এই সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করবে, বাড়িঘর ভাঙচুর করবে এবং সম্পত্তিতে থাকা গাছপালা কেটে নিয়ে যাবে। এতে বাধা দিলে ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের সদস্যদের “জীবনের তরে শেষ” (জানমাল শেষ) করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। আতঙ্কে পড়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।
এই ঘটনার পর থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: লোকমান হোসেন এবং তার পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যেকোনো সময় তাদের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং সম্পত্তি দখলের আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় এলাকাবাসীও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন বলেন, “আমি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আজ নিজ দেশে নিজ ভূমিতে আমি ও আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা চরম আতঙ্কে আছি। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও আমাদের নিরাপত্তার দাবি জানাচ্ছি।”
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ভাঙ্গা থানা পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মমিন কাজী বলেন, আমার চাচা হাজী রতন কাজী তার বাপ দাদা কালের সম্পত্তি। এই সম্পত্তি নিয়ে এর আগে তিনবার শালিসি হয়েছে। এরপর হাবিলদার লোকমান হোসেন এসিস্ট্যান্ট অফিস থেকে লোক এনে মাফ দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দেয় কিন্তু তিনি কোন সালিশ বর্গর কথা মানেন না। তিনি আমাদেরকে হয়রানি করছেন। লোকমান হোসেন ২১ শতাংশ জায়গা পাবে। তার জায়গায় আমিন দিয়ে মেপে তাকে বুঝ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা লোকমান হোসেনের বেড়া দেয়ার মধ্যে আমরা জায়গা পাব। স্থানীয় সালিশ বর্গ তার বেড়া ও গাছপালা কেটে আমাদের জায়গা খালি করে দিতে বলেছেন কিন্তু তিনি সালিশ বর্গের কথা অমান্য করে বেড়া সরান না ও গাছপালা কাটেন না এবং আমাদের জায়গা বুঝ করে দেন নাই। এইজন্য আমরা তার বেলা ভেঙে ফেলেছি।
মাহবুব পিয়াল 






















