ঢাকা ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে-কে আটক করেছে পুলিশ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ জনের প্রাণ গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানালেন রাষ্ট্রপতি মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট বাধ্যতামূলক, সময় বেঁধে দিল বিআরটিএ বাজারজুড়েই সবজির পসরা; বেশিরভাগ সবজির গায়েই আগুন শারদীয় দুর্গোৎসব মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে আজ আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি : ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ফরিদপুরের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী বাকীগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রথম অ্যালামনাই কনফারেন্স আগামী ২৪ অক্টোবর

গাজার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটা থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়

টানা ১৫ মাস ধরে চলা সংঘাতের পর অবশেষে গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে হামাস ও ইসরায়েল। গাজার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটা থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়।

যুদ্ধবিরতি শুরুর আগে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এক বক্তৃতায় হুঁশিয়ারি দিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হলে হামাসের বিরুদ্ধে ফের যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত ইসরায়েল। খবর বিবিসি’র।

ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন সহ্য করবে না জানিয়ে নেতানিয়াহু জনিয়েছেন, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের কাছে থাকা জিম্মিদের মুক্তির তালিকা না পাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকরে অগ্রসর হবে না ইসরায়েল।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) যুদ্ধবিরতি কার্যকরের দিন ইসরায়েলি জিম্মিদের মধ্যে তিনজনকে মুক্তি দিবে হামাস। ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্ট কানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজকের (রোববার) মধ্যেই মুক্তি পাওয়া তিন জিম্মির নাম পেতে পারে।

ইসরায়েলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে যে ৩৩ জিম্মিকে মুক্তি দেয়া হবে, তার একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এখনো তালিকার বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। ইসরায়েলের কর্তৃপক্ষগুলো বলছে, রোববার যে তিন জিম্মিকে মুক্তি দেয়া হবে তাদের নাম এখনো পাননি। এ বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেছে, জিম্মিদের মধ্যে ৩৩ জন ইসরায়েলে ফিরছে। যেহেতু তারা বেঁচে রয়েছেন। এজন্য তার সরকার যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হয়েছে।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতায় অর্জিত হয়েছে। তবে ‘যুদ্ধবিরতি সাময়িক’ এবং ‘অভিযান এখনো শেষ হয়নি’ জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, আবার গাজায় হামলা চালানোর অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, উভয়ে সমর্থন করবেন। আমরা যদি আবার হামলা শুরু করি, তা হবে আরও জোরালো।

‘আমরা মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা বদলে দিয়েছি’ জানিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামাস বর্তমানে ‘সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ’।

এর আগে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, জিম্মিদের মধ্যে কাদের মুক্তি দেয়া হচ্ছে, হামাসের সেই তালিকা আমাদের হাতে না আসা পর্যন্ত ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি করবে না। চুক্তির লঙ্ঘন সহ্য করবে না ইসরায়েল।

এদিকে টানা ১৫ মাস যুদ্ধের পর ইসরায়েল ও হামাস গত বুধবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি ৪২ দিনের। গাজার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটা থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ৩৩ জিম্মিকে মুক্তি দেয়ার বিনিময়ে ১ হাজার ৮৯০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দীকে ছেড়ে দেবে ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতির অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর এ তথ্য জানিয়েছে।

যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের ১৬তম দিনে দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই ধাপে ‘স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দেয়া হবে’। দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই ধাপে অন্য সব জীবিত জিম্মিদের মুক্তি দেয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিনিময়ে আরও ফিলিস্তিনিকে কারাগার ও বন্দিশালা থেকে ছেড়ে দেবে ইসরায়েল।

Tag :
জনপ্রিয়

‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে-কে আটক করেছে পুলিশ

গাজার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটা থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়

Update Time : ০৫:০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৫

টানা ১৫ মাস ধরে চলা সংঘাতের পর অবশেষে গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে হামাস ও ইসরায়েল। গাজার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটা থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়।

যুদ্ধবিরতি শুরুর আগে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এক বক্তৃতায় হুঁশিয়ারি দিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হলে হামাসের বিরুদ্ধে ফের যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত ইসরায়েল। খবর বিবিসি’র।

ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন সহ্য করবে না জানিয়ে নেতানিয়াহু জনিয়েছেন, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের কাছে থাকা জিম্মিদের মুক্তির তালিকা না পাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকরে অগ্রসর হবে না ইসরায়েল।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) যুদ্ধবিরতি কার্যকরের দিন ইসরায়েলি জিম্মিদের মধ্যে তিনজনকে মুক্তি দিবে হামাস। ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্ট কানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজকের (রোববার) মধ্যেই মুক্তি পাওয়া তিন জিম্মির নাম পেতে পারে।

ইসরায়েলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে যে ৩৩ জিম্মিকে মুক্তি দেয়া হবে, তার একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এখনো তালিকার বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। ইসরায়েলের কর্তৃপক্ষগুলো বলছে, রোববার যে তিন জিম্মিকে মুক্তি দেয়া হবে তাদের নাম এখনো পাননি। এ বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেছে, জিম্মিদের মধ্যে ৩৩ জন ইসরায়েলে ফিরছে। যেহেতু তারা বেঁচে রয়েছেন। এজন্য তার সরকার যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হয়েছে।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতায় অর্জিত হয়েছে। তবে ‘যুদ্ধবিরতি সাময়িক’ এবং ‘অভিযান এখনো শেষ হয়নি’ জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, আবার গাজায় হামলা চালানোর অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, উভয়ে সমর্থন করবেন। আমরা যদি আবার হামলা শুরু করি, তা হবে আরও জোরালো।

‘আমরা মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা বদলে দিয়েছি’ জানিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামাস বর্তমানে ‘সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ’।

এর আগে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, জিম্মিদের মধ্যে কাদের মুক্তি দেয়া হচ্ছে, হামাসের সেই তালিকা আমাদের হাতে না আসা পর্যন্ত ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি করবে না। চুক্তির লঙ্ঘন সহ্য করবে না ইসরায়েল।

এদিকে টানা ১৫ মাস যুদ্ধের পর ইসরায়েল ও হামাস গত বুধবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি ৪২ দিনের। গাজার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটা থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ৩৩ জিম্মিকে মুক্তি দেয়ার বিনিময়ে ১ হাজার ৮৯০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দীকে ছেড়ে দেবে ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতির অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর এ তথ্য জানিয়েছে।

যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের ১৬তম দিনে দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই ধাপে ‘স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দেয়া হবে’। দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই ধাপে অন্য সব জীবিত জিম্মিদের মুক্তি দেয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিনিময়ে আরও ফিলিস্তিনিকে কারাগার ও বন্দিশালা থেকে ছেড়ে দেবে ইসরায়েল।