মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ১০দিনের অনুষ্ঠানমালার পর্দা উঠলো বুধবার (১৭ মার্চ) বিকেলে।
রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ‘মুজিব চিরন্তন’ নামের ১০ দিনের অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখন শুধু আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। পেছনে ফিরে তাকানোর কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ‘সকল বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে দেশকে আমরা জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের শোষণ-বঞ্চনামুক্ত, ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতামুক্ত, অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবই, ইনশাআল্লাহ। এটাই আজকের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা।’
বুধবার বিকেলে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘সকল বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে দেশকে আমরা জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের শোষণ-বঞ্চনামুক্ত, ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতামুক্ত, অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবই, ইনশাআল্লাহ। এটাই আজকের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা।’
বুধবার বিকেলে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বাধীনতার অর্ধশতক পরও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। বাংলাদেশবিরোধী অপশক্তি এখনও দেশে-বিদেশে সক্রিয় রয়েছে। তারা নানা অপতৎপরতার মাধ্যমে এ অর্জনকে নস্যাৎ করতে চায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের শুভ জন্মদিনে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সকল অপতৎপরতা প্রতিহত করে প্রিয় মাতৃভূমিকে উন্নয়ন-অগ্রগতির পথ ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই।’
জাপানের প্রধান মন্ত্রী ইউসি হিদে সুগা

ভিডিও বার্তায় তিনি জাপানের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি ৫০ বছর আগে বিশ্বের অল্প যে ক’টি দেশ প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, জাপান তাদের মধ্যে অন্যতম।’ ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের সাথে সাথে জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হলেও বাঙালিদের সাথে জাপানিজদের সম্পর্ক শতাব্দী প্রাচীন। জাপানকে ঐতিহাসিক ভাবে বাঙালীরা বন্ধু রাষ্ট্র মনে করে।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুই এশিয়ার জাপান ও বাংলাদেশ এই দুই দেশের মধ্যে মৈত্রী প্রতিষ্ঠার প্রথম রূপকার। বাংলাদেশ থেকে জাপানে বঙ্গবন্ধুর শীর্ষ সফরের সময় জাপান-বাংলাদেশ আর্থিক সহযোগিতাi দিগন্ত উন্মোচিত হয়।
তিনি বঙ্গবন্ধুর জাপান ভ্রমণের কথা উল্লেখ করে বলেন,জাপান সফরের সময় শেখ মুজিবুর রহমান স্বভাবগতভাবেই ইচ্ছা প্রকাশ করে কয়েকবার বলেন, তিনি জাপানের মডেলে তার বাংলাদেশকে গড়ে তুলবেন। তাকে স্বাগত জানিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর অফিসে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মি. তানাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে মন্তব্য করেন, “তিনি যেন আমাদের হিরোভূমি ইতো” ইতো ছিলেন জাপানের প্রধান জাতীয় নেতা।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

চীন বাংলাদেশের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।এক ভিডিও বার্তায় ওই কথা বলেন শি জিনপিং।
এসময় শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সংস্কার কার্যক্রম ও উন্নয়নে এগিয়ে চলেছে। দ্রুত প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের উন্নতিতে চীন উচ্ছ্বসিত।
শি জিনপিং বলেন, পঞ্চাশ বছর আগে শেখ মুজিবুর রহমানই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি তার দেশ ও জনগণের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। বাংলাদেশের জনগণ তাকে গভীর ভালোবাসায় এখনও স্মরণ করে। এছাড়া চীনের জনগণের পুরনো এবং ভালো বন্ধু ছিলেন তিনি।
চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে চীন সফর করেছিলেন। চেয়ারম্যান মাও সে তুং ও প্রধানমন্ত্রী চৌ এনলাই-এর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো

বুধবার (১৭ মার্চ) বিকেলে শুভেচ্ছা বাণী পাঠান কানাডার প্রধান মন্ত্রী জান্টিন ট্রুডো। ভিডিও বার্তায় তিনি কানাডার সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখার আশা প্রকাশ করে বলেন, তার বাবার সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এবং ১৯৮৩ সালে তার বাবার সাথে বাংলাদেশ সফরের মধুর স্মৃতিচারণ করেন।
জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘আমি সব সময়ই গর্ববোধ করি, আজ থেকে ৫০ বছর আগে বিশ্বের অল্প যে ক’টি দেশ প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, কানাডা তাদের একটি। ’ গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করেছে। এই সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছে, দারিদ্রতা কমেছে, শিক্ষার হার বেড়েছে এবং স্বাস্থ্য সেবার প্রসার ঘটেছে।
তার ভিডিও বার্তার শেষ অংশে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ দিন দিন শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে এগিয়ে যাচ্ছে। ইকনোমিক গ্রোথ, অর্থনীতিতে বাংলাদেশি মেয়েদের এগিয়ে যাওয়া এবং বাংলাদেশ যেভাবে করোনা মোকাবেলায় সাফল্য অনস্বীকার্য।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ

দেশের স্বাস্থ্যখাত ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ। একইসঙ্গে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় মালদ্বীপ বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বুধবার বিকেলে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে শুরু হয় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর জাতীয় আয়োজন ‘মুজিব চিরন্তন’। এ আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের বক্তব্যে এ কথা বলেন ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ।
তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দু’দেশের সম্পর্ক আরও অনন্য উচ্চতায় যাবে। এখন বাংলাদেশের অনেক কর্মী মালদ্বীপে কাজ করছে। আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিতে চাই, আমাদের দেশে থাকা বিদেশিদের অধিকার আমরা রক্ষা করব। কভিড-১৯ টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সব বিদেশিদের বিবেচনায় নেব। সবাইকে বিনামূল্যে আমরা টিকা দেব। নাগরিক-অনাগরিক বলে আমরা বৈষম্য করব না।
অনলাইন ডেস্ক 












