ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সরকারের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপকর্মে জড়ালে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘেও ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ইতোমধ্যেই ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে, ‘বিপুল পরিমাণ তেল’ যাচ্ছে: ট্রাম্প আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ফরিদপুরে ইবিএলের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু ফরিদপুরে ‘বেতাল সুরে মাটির গান লোক উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত

জাতিসংঘেও ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ Time View

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে- জাতিসংঘের মঞ্চে এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক করে তোলা বা এর পরিণতি থেকে দায়মুক্তির কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখা নিয়েও পাকিস্তানের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভারতের জাতীয় বক্তব্য দেওয়ার সময় জয়শঙ্কর বলেন, আগের দিন পাকিস্তানের একজন ‘ধারাবাহিক সন্ত্রাসচর্চাকারী’ এই পরিষদের সামনে ঘটনাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন। তার ভাষ্য, সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং এর পরিণতি থেকে দায়মুক্তির দাবি তোলার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জয়শঙ্কর বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার আমাদের অধিকার প্রয়োগ করা হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মদদে সীমান্তপারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত সরকারগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানে কোনো ধরনের শিথিলতা না আনার কথাও উঠে আসে।

শাহবাজের কাশ্মীর মন্তব্যের পাল্টা জবাব

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, কাশ্মীর ও ২০২৫ সালের সামরিক সংঘাতের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি কাশ্মীরকে পাকিস্তানের ‘জুগুলার ভেইন’ বা ‘জীবনধমনি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ভারতের সমালোচনা করেন। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার দেশটির সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ কায়েম করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সামরিক সংঘাতের কথাও জাতিসংঘে তুলে ধরেন শাহবাজ। ওই সংঘাতে পাকিস্তান আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সময়োপযোগী হস্তক্ষেপের’ প্রশংসা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

এর জবাবেই জয়শঙ্কর বলেন, সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক করার কোনো যুক্তি গ্রহণ করা হবে না। রাষ্ট্রীয় মদদে পরিচালিত ও সীমান্তপারের উদ্দেশ্যসম্পন্ন সন্ত্রাসবাদে জড়িত সরকারগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়েও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

জাতিসংঘের মঞ্চে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার আরেকটি বড় বিষয় ছিল সিন্ধু পানি চুক্তি। শাহবাজ শরীফ তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ভারত চুক্তিটি স্থগিত রেখে পানি ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ করছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রাপ্য সিন্ধু নদের পানি বন্ধ, বাধাগ্রস্ত বা অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা ‘যুদ্ধের কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

শাহবাজ আরও বলেন, ভারত একতরফাভাবে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। পাকিস্তানের দাবি, চুক্তিটি এখনো কার্যকর ও বাধ্যতামূলক।

এর পাল্টা জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, বন্ধুত্ব ও সদিচ্ছা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে একসঙ্গে চলতে পারে না। সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিস্থিতিতে সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো সমঝোতাগুলো স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থাৎ, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার বিষয়টিকে শুধু পানি বণ্টনের প্রশ্ন হিসেবে নয়, সন্ত্রাসবাদ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে।

জাতিসংঘে কূটনীতিকদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

জয়শঙ্করের বক্তব্যের আগে দিনেই জাতিসংঘে ভারত ও পাকিস্তানের কূটনীতিকদের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের বক্তব্যের জবাবে ভারতের পক্ষ থেকে ‘রাইট টু রিপ্লাই’ বা বক্তব্যের জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি পেটাল গেহলট পাকিস্তানের সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেন ও কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও পাল্টা জবাব দেওয়া হয়। পাকিস্তানি কূটনীতিক সাইমা সালিম কাশ্মীরের প্রসঙ্গ তুলে ভারতের সমালোচনা করেন ও সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থানের বিরোধিতা করেন। ফলে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বক্তব্যের পাশাপাশি কূটনৈতিক পর্যায়েও জাতিসংঘের মঞ্চে পাল্টাপাল্টি অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শুধু পাকিস্তান নয়, বৈশ্বিক সংঘাত নিয়েও জয়শঙ্কর

তবে জয়শঙ্করের জাতিসংঘের বক্তব্যের পুরোটা জুড়ে শুধু পাকিস্তান বা দ্বিপক্ষীয় বিরোধ ছিল না। চলমান বিভিন্ন সংঘাতের কারণে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, সেটিও তুলে ধরেন তিনি।

বিশেষ করে, উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর তৈরি হওয়া ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করে তিনি উত্তেজনা কমানো, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং জ্বালানি ও বাণিজ্যের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য ভারত কীভাবে চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি, সার, জীবিকা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচি চালাচ্ছে, সেটিও বক্তব্যে তুলে ধরেন জয়শঙ্কর। আফ্রিকাসহ উন্নয়নশীল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভারতের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তবে জাতিসংঘে এবারের ভারত-পাকিস্তান পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসবাদ, কাশ্মীর এবং সিন্ধু নদীর পানি নিয়ে দুই দেশের পুরোনো বিরোধের নতুন উত্তাপ। শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের এক দিন পর জয়শঙ্করের জবাব সেই উত্তেজনাকে আবারও আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। সূত্র: দ্য হিন্দু

Tag :

সরকারের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপকর্মে জড়ালে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন

জাতিসংঘেও ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়

Update Time : ০৬:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে- জাতিসংঘের মঞ্চে এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক করে তোলা বা এর পরিণতি থেকে দায়মুক্তির কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখা নিয়েও পাকিস্তানের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভারতের জাতীয় বক্তব্য দেওয়ার সময় জয়শঙ্কর বলেন, আগের দিন পাকিস্তানের একজন ‘ধারাবাহিক সন্ত্রাসচর্চাকারী’ এই পরিষদের সামনে ঘটনাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন। তার ভাষ্য, সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং এর পরিণতি থেকে দায়মুক্তির দাবি তোলার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জয়শঙ্কর বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার আমাদের অধিকার প্রয়োগ করা হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মদদে সীমান্তপারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত সরকারগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানে কোনো ধরনের শিথিলতা না আনার কথাও উঠে আসে।

শাহবাজের কাশ্মীর মন্তব্যের পাল্টা জবাব

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, কাশ্মীর ও ২০২৫ সালের সামরিক সংঘাতের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি কাশ্মীরকে পাকিস্তানের ‘জুগুলার ভেইন’ বা ‘জীবনধমনি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ভারতের সমালোচনা করেন। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার দেশটির সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ কায়েম করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সামরিক সংঘাতের কথাও জাতিসংঘে তুলে ধরেন শাহবাজ। ওই সংঘাতে পাকিস্তান আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সময়োপযোগী হস্তক্ষেপের’ প্রশংসা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

এর জবাবেই জয়শঙ্কর বলেন, সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক করার কোনো যুক্তি গ্রহণ করা হবে না। রাষ্ট্রীয় মদদে পরিচালিত ও সীমান্তপারের উদ্দেশ্যসম্পন্ন সন্ত্রাসবাদে জড়িত সরকারগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়েও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

জাতিসংঘের মঞ্চে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার আরেকটি বড় বিষয় ছিল সিন্ধু পানি চুক্তি। শাহবাজ শরীফ তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ভারত চুক্তিটি স্থগিত রেখে পানি ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ করছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রাপ্য সিন্ধু নদের পানি বন্ধ, বাধাগ্রস্ত বা অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা ‘যুদ্ধের কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

শাহবাজ আরও বলেন, ভারত একতরফাভাবে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। পাকিস্তানের দাবি, চুক্তিটি এখনো কার্যকর ও বাধ্যতামূলক।

এর পাল্টা জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, বন্ধুত্ব ও সদিচ্ছা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে একসঙ্গে চলতে পারে না। সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিস্থিতিতে সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো সমঝোতাগুলো স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থাৎ, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার বিষয়টিকে শুধু পানি বণ্টনের প্রশ্ন হিসেবে নয়, সন্ত্রাসবাদ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে।

জাতিসংঘে কূটনীতিকদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

জয়শঙ্করের বক্তব্যের আগে দিনেই জাতিসংঘে ভারত ও পাকিস্তানের কূটনীতিকদের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের বক্তব্যের জবাবে ভারতের পক্ষ থেকে ‘রাইট টু রিপ্লাই’ বা বক্তব্যের জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি পেটাল গেহলট পাকিস্তানের সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেন ও কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও পাল্টা জবাব দেওয়া হয়। পাকিস্তানি কূটনীতিক সাইমা সালিম কাশ্মীরের প্রসঙ্গ তুলে ভারতের সমালোচনা করেন ও সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থানের বিরোধিতা করেন। ফলে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বক্তব্যের পাশাপাশি কূটনৈতিক পর্যায়েও জাতিসংঘের মঞ্চে পাল্টাপাল্টি অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শুধু পাকিস্তান নয়, বৈশ্বিক সংঘাত নিয়েও জয়শঙ্কর

তবে জয়শঙ্করের জাতিসংঘের বক্তব্যের পুরোটা জুড়ে শুধু পাকিস্তান বা দ্বিপক্ষীয় বিরোধ ছিল না। চলমান বিভিন্ন সংঘাতের কারণে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, সেটিও তুলে ধরেন তিনি।

বিশেষ করে, উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর তৈরি হওয়া ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করে তিনি উত্তেজনা কমানো, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং জ্বালানি ও বাণিজ্যের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য ভারত কীভাবে চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি, সার, জীবিকা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচি চালাচ্ছে, সেটিও বক্তব্যে তুলে ধরেন জয়শঙ্কর। আফ্রিকাসহ উন্নয়নশীল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভারতের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তবে জাতিসংঘে এবারের ভারত-পাকিস্তান পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসবাদ, কাশ্মীর এবং সিন্ধু নদীর পানি নিয়ে দুই দেশের পুরোনো বিরোধের নতুন উত্তাপ। শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের এক দিন পর জয়শঙ্করের জবাব সেই উত্তেজনাকে আবারও আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। সূত্র: দ্য হিন্দু