ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় সরকার গঠন করে খুনি-লুটেরাদের বিচার করা হবে – বরকতউল্লা বুলু

  • মাহবুব পিয়াল
  • Update Time : ০৫:১২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ২০৬ Time View

ফরিদপুর প্রতিনিধি: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু বলেছেন, বিএনপি এককভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাবেনা। আগামী দিনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্র্রীয়ভাবে জাতীয় সরকার গঠন করে খুনি-লুটেরাদের বিচার করা হবে। আন্তর্জাতিক আদালতে খুনিদের বিচার করতে হবে। একটি মন্ত্রণালয় গঠন করে আন্দোলনে হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সকলের তালিকা করে তাদের পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। তিনি বলেন, এই আন্দোলন কারো একক কৃতিত্ব নয়। সারা বাংলাদেশের মানুষ এক হয়ে আন্দোলন করায় শেখ হাসিনার বিদায় হয়েছে।


বিশ্ব গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে বিএনপির বিভাগীয় শোভাযাত্রা পূর্ব এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরকতউল্লা বুলু একথা বলেন। মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শহরের ব্রহ্মসমাজ সড়কে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল র‍্যালী শহর প্রদক্ষিণ করে।
বরকতউল্লা বুলু তার বক্তব্যে বলেন, গত আন্দোলনে ১০ হাজার মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা ডাক দিয়েছেন।  আমরা ৮ মাস পরিশ্রম করে ৪২টি রাজনৈতিক দলের সাথে একসাথে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য ৩১ দফা প্রণয়ন করেছি। তিনি বলেন, এই একমাসে আমাদের ৪২২ জন নেতাকর্মী শাহাদাত বরণ করেছেন। আমি খোঁজ নিয়েছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ছাত্র নিহত হন নাই। তাদের অনেকে আহত হয়েছেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র শহীদ হয়েছেন। মাদ্রাসার অনেক ছাত্র, স্কুল-কলেজের অনেক ছাত্র এমনকি আমরা কোনদিন শুনিনি নটরডেম কলেজের ছেলেরা কোন আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিয়েছে। এবারের আন্দোলনে সেই নটরডেম কলেজের একজন ছাত্রও শহীদ হয়েছেন।
বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, যারা এই ১৭ বছরে শহীদ হয়েছেন তাদের হত্যাকারীদের বিচার করতে হবে। তিনি বলেন, যারা এই ১৭ বছরে শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন, ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়েছেন, যারা এই জুলাই-আগস্ট মাসে শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, প্রত্যেকটি পরিবারকে পূনর্বাসন করা হবে।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এএফএম কাইয়ুম জঙ্গির সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক, সেলিমুজ্জামান সেলিম, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক জায়নুল আবেদিন মেজবাহ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোদাররেস আলী ঈসা, মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমায়ন কবির, সাইফুল ইসলাম পটু, মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাফর আলী, রাজবাড়ী বিএনপির সদস্য সচিব কামরুল ইসলাম।
সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একে কিবরিয়া স্বপন ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ। এছাড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল হোসেন খান পলাশ এবং জুলফিকার হোসেন জুয়েল শেষ পর্যায়ে সভা সঞ্চালনায় অংশ নেন।
সমাবেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আকরাম হোসেন। ফরিদপুর জেলা মহানগর ও বিভিন্ন উপজেলা সহ মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও শরিয়তপুর জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এতে যোগ দেন।

Tag :
জনপ্রিয়

জাতীয় সরকার গঠন করে খুনি-লুটেরাদের বিচার করা হবে – বরকতউল্লা বুলু

Update Time : ০৫:১২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪

ফরিদপুর প্রতিনিধি: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু বলেছেন, বিএনপি এককভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাবেনা। আগামী দিনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্র্রীয়ভাবে জাতীয় সরকার গঠন করে খুনি-লুটেরাদের বিচার করা হবে। আন্তর্জাতিক আদালতে খুনিদের বিচার করতে হবে। একটি মন্ত্রণালয় গঠন করে আন্দোলনে হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সকলের তালিকা করে তাদের পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। তিনি বলেন, এই আন্দোলন কারো একক কৃতিত্ব নয়। সারা বাংলাদেশের মানুষ এক হয়ে আন্দোলন করায় শেখ হাসিনার বিদায় হয়েছে।


বিশ্ব গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে বিএনপির বিভাগীয় শোভাযাত্রা পূর্ব এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরকতউল্লা বুলু একথা বলেন। মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শহরের ব্রহ্মসমাজ সড়কে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল র‍্যালী শহর প্রদক্ষিণ করে।
বরকতউল্লা বুলু তার বক্তব্যে বলেন, গত আন্দোলনে ১০ হাজার মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা ডাক দিয়েছেন।  আমরা ৮ মাস পরিশ্রম করে ৪২টি রাজনৈতিক দলের সাথে একসাথে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য ৩১ দফা প্রণয়ন করেছি। তিনি বলেন, এই একমাসে আমাদের ৪২২ জন নেতাকর্মী শাহাদাত বরণ করেছেন। আমি খোঁজ নিয়েছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ছাত্র নিহত হন নাই। তাদের অনেকে আহত হয়েছেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র শহীদ হয়েছেন। মাদ্রাসার অনেক ছাত্র, স্কুল-কলেজের অনেক ছাত্র এমনকি আমরা কোনদিন শুনিনি নটরডেম কলেজের ছেলেরা কোন আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিয়েছে। এবারের আন্দোলনে সেই নটরডেম কলেজের একজন ছাত্রও শহীদ হয়েছেন।
বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, যারা এই ১৭ বছরে শহীদ হয়েছেন তাদের হত্যাকারীদের বিচার করতে হবে। তিনি বলেন, যারা এই ১৭ বছরে শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন, ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়েছেন, যারা এই জুলাই-আগস্ট মাসে শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, প্রত্যেকটি পরিবারকে পূনর্বাসন করা হবে।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এএফএম কাইয়ুম জঙ্গির সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক, সেলিমুজ্জামান সেলিম, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক জায়নুল আবেদিন মেজবাহ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোদাররেস আলী ঈসা, মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমায়ন কবির, সাইফুল ইসলাম পটু, মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাফর আলী, রাজবাড়ী বিএনপির সদস্য সচিব কামরুল ইসলাম।
সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একে কিবরিয়া স্বপন ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ। এছাড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল হোসেন খান পলাশ এবং জুলফিকার হোসেন জুয়েল শেষ পর্যায়ে সভা সঞ্চালনায় অংশ নেন।
সমাবেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আকরাম হোসেন। ফরিদপুর জেলা মহানগর ও বিভিন্ন উপজেলা সহ মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও শরিয়তপুর জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এতে যোগ দেন।