ঢাকা ০৩:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে এবার নতুন এক ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংগীতশিল্পী সঞ্জয় ফরিদপুর জেলা পরিষদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন মরক্কোর বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে নামতে পারে ব্রাজিল মরক্কো ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে বড় দুঃসংবাদ আদ্-দ্বীন থেকে রেফার্ড রোগীদের তাৎক্ষণিক ও যথাযথ চিকিৎসা দিতে ৬ হাসপাতালকে নির্দেশ আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা নিজেদের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতেছে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের তৃতীয় ও শেষ পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ম্যাচে ‘অপরাজিত’ স্বাদ পেয়েছে কানাডা জমকালো উৎসব, আলো আর বিশ্বমানের তারকাদের সুরের মূর্ছনায় সম্পন্ন হলো কানাডা পর্বের রাজকীয় উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার, নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ: স্বজন ও সহপাঠীদের

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২১
  • ৩৩৪ Time View

রাজধানীর বনানী ২ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে ইলমা চৌধুরী মেঘলা (২৬) নামের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ঢাবির নৃত্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ইলমার স্বামী ইফতেখারকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে গুলশান ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।

মৃত ইলমার খালু ইকবাল হোসেন জানান, ইলমা ঢাকার ধামরাই উপজেলার সাইফুল ইসলামের মেয়ে। বর্তমানে কানাডা প্রবাসী স্বামী ইফতেখারকে নিয়ে বনানীর বাসায় থাকতেন তিনি। ইলমা ঢাবি নৃত্যকলা বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

মঙ্গলবার রাতে ইলমার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ছুটে আসেন তার সহপাঠী এবং শিক্ষকরা। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে ইলমা চৌধুরী মেঘলার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ইলমার খালু ইকবাল হোসেন জানান, ইলমা ঢাকার ধামরাই উপজেলার সাইফুল ইসলামের মেয়ে। কানাডা প্রবাসী স্বামী ইফতেখারের বনানীর বাসায় থাকতেন। ঢাবি নৃত্যকলা বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

তিনি আরো জানান, ৬ মাস আগে কানাডা প্রবাসী ইফতেখার আবেদীনের সঙ্গে বিয়ে হয় ইলমার। পাঁচ দিন আগে কানাডা থেকে ঢাকার বাসায় আসে তার স্বামী।

ইকবাল অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাগ্নিকে স্বামী এবং শশুড় বাড়ির লোকজন মেরে ফেলেছ। আমরা এর বিচার দাবি করছি। ইলমার শরীরে আমরা অনেক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি। গলায়ও আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। ইলমা আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করা হয়েছে।

সসহপাঠীরা অভিযোগ করেন, ইলমার ওপর অমানসিক নির্যাতন চালাত তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা।  সহপাঠী মজিদা নাসরিন মম বলেন, বিয়ের আগ পর্যন্ত বেগম সুফিয়া কামাল হলে থাকতো ইলমা। বিয়ের পর থেকে বনানী শশুরবাড়িতে থাকতো। গত সেপ্টেম্বরে তার সঙ্গে শোষ দেখা হয়। একটি পরীক্ষা দিতে আসছিল। এর পরে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। আমরা শুনেছি তার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিত না। প্রতিনিয়ত সন্দেহ করতো ওকে।

মজিদা নাসরিন অভিযোগ করে বলেন, এমনকি ফোন দিলেও শাশুড়ি রিসিভ করতো। আমরা ওর শরীরের আঘাতগুলো দেখেছি। ওর শশুড়বাড়ির লোকজন বলেছে আত্মহত্যা করেছে। ইলমা কোনোভাবে আত্মহত্যা করে নাই। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

নৃত্যকলা বিভাগের প্রভাষক তামান্না রহমান বলেন, আমরা ইলমার শরীরের আঘাত দেখেছি। এটা কোনোভাবে আত্মহত্যা মেনে নেওয়া যায় না। আমি শুনেছি ইলমা যখন গত সেপ্টেম্বরে বিশ্বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিল তখন ওর সঙ্গে একজন বডিগার্ড ছিল। কতটা অবিশ্বাস এবং সন্দেহ করতো তাকে।

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আজম মিয়া জানান, সন্ধ্যার দিকে সংবাদ পেয়ে ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করি। শরীরের অনেক জায়গায় পুরাতন ও নতুন জখম রয়েছে।

ওসি আরো জানান, পরিবারের লোকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইলমার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় রাখা হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

Tag :

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে এবার নতুন এক ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংগীতশিল্পী সঞ্জয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার, নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ: স্বজন ও সহপাঠীদের

Update Time : ০৬:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২১

রাজধানীর বনানী ২ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে ইলমা চৌধুরী মেঘলা (২৬) নামের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ঢাবির নৃত্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ইলমার স্বামী ইফতেখারকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে গুলশান ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।

মৃত ইলমার খালু ইকবাল হোসেন জানান, ইলমা ঢাকার ধামরাই উপজেলার সাইফুল ইসলামের মেয়ে। বর্তমানে কানাডা প্রবাসী স্বামী ইফতেখারকে নিয়ে বনানীর বাসায় থাকতেন তিনি। ইলমা ঢাবি নৃত্যকলা বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

মঙ্গলবার রাতে ইলমার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ছুটে আসেন তার সহপাঠী এবং শিক্ষকরা। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে ইলমা চৌধুরী মেঘলার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ইলমার খালু ইকবাল হোসেন জানান, ইলমা ঢাকার ধামরাই উপজেলার সাইফুল ইসলামের মেয়ে। কানাডা প্রবাসী স্বামী ইফতেখারের বনানীর বাসায় থাকতেন। ঢাবি নৃত্যকলা বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

তিনি আরো জানান, ৬ মাস আগে কানাডা প্রবাসী ইফতেখার আবেদীনের সঙ্গে বিয়ে হয় ইলমার। পাঁচ দিন আগে কানাডা থেকে ঢাকার বাসায় আসে তার স্বামী।

ইকবাল অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাগ্নিকে স্বামী এবং শশুড় বাড়ির লোকজন মেরে ফেলেছ। আমরা এর বিচার দাবি করছি। ইলমার শরীরে আমরা অনেক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি। গলায়ও আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। ইলমা আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করা হয়েছে।

সসহপাঠীরা অভিযোগ করেন, ইলমার ওপর অমানসিক নির্যাতন চালাত তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা।  সহপাঠী মজিদা নাসরিন মম বলেন, বিয়ের আগ পর্যন্ত বেগম সুফিয়া কামাল হলে থাকতো ইলমা। বিয়ের পর থেকে বনানী শশুরবাড়িতে থাকতো। গত সেপ্টেম্বরে তার সঙ্গে শোষ দেখা হয়। একটি পরীক্ষা দিতে আসছিল। এর পরে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। আমরা শুনেছি তার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিত না। প্রতিনিয়ত সন্দেহ করতো ওকে।

মজিদা নাসরিন অভিযোগ করে বলেন, এমনকি ফোন দিলেও শাশুড়ি রিসিভ করতো। আমরা ওর শরীরের আঘাতগুলো দেখেছি। ওর শশুড়বাড়ির লোকজন বলেছে আত্মহত্যা করেছে। ইলমা কোনোভাবে আত্মহত্যা করে নাই। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

নৃত্যকলা বিভাগের প্রভাষক তামান্না রহমান বলেন, আমরা ইলমার শরীরের আঘাত দেখেছি। এটা কোনোভাবে আত্মহত্যা মেনে নেওয়া যায় না। আমি শুনেছি ইলমা যখন গত সেপ্টেম্বরে বিশ্বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিল তখন ওর সঙ্গে একজন বডিগার্ড ছিল। কতটা অবিশ্বাস এবং সন্দেহ করতো তাকে।

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আজম মিয়া জানান, সন্ধ্যার দিকে সংবাদ পেয়ে ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করি। শরীরের অনেক জায়গায় পুরাতন ও নতুন জখম রয়েছে।

ওসি আরো জানান, পরিবারের লোকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইলমার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় রাখা হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।