ঢাকা ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত।

কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে তার ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনায় পদ স্থগিত করার পর শুক্রবার (২৯ আগস্ট) তাকে পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের আগস্টে দেশটির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন পেতোংতার্ন। কিন্তু মাত্র এক বছর পরই ক্ষমতা হারাতে হলো এই প্রভাবশালী সিনাওয়াত্রা পরিবারের সদস্যকে।

ফাঁস হওয়া ফোনকলে পেতোংতার্নকে হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে সম্বোধন করতে শোনা যায়। এ সময় তিনি থাই সেনাবাহিনীকে সমালোচনা করে বলেন, তাদের কারণেই কম্বোডিয়ার এক সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। ফোনকলে আরও শোনা যায়, তিনি হুন সেনকে আশ্বস্ত করছেন—“যে কোনো কিছু চাইলে, আমাকে বলবেন। আমি বিষয়টি দেখব।”

ফোনালাপটি প্রকাশিত হলে থাইল্যান্ডজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এর কিছুদিন পর দুই দেশের সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় থেমে যায়।

বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে, পেতোংতার্ন জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছেন। ব্যাপক সমালোচনার মুখে তিনি প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, উত্তেজনা প্রশমনের কৌশল হিসেবেই তিনি এমনভাবে কথা বলেছিলেন।

এরপর গত ১ জুলাই সাংবিধানিক আদালত তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। তবে তিনি সংস্কৃতিমন্ত্রীর দায়িত্বে তখনও বহাল ছিলেন। অবশেষে শুক্রবার আদালতের রায়ে তিনি স্থায়ীভাবে ক্ষমতাচ্যুত হলেন।

সূত্র: সিএনএন

Tag :

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত

Update Time : ০১:০৭:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত।

কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে তার ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনায় পদ স্থগিত করার পর শুক্রবার (২৯ আগস্ট) তাকে পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের আগস্টে দেশটির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন পেতোংতার্ন। কিন্তু মাত্র এক বছর পরই ক্ষমতা হারাতে হলো এই প্রভাবশালী সিনাওয়াত্রা পরিবারের সদস্যকে।

ফাঁস হওয়া ফোনকলে পেতোংতার্নকে হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে সম্বোধন করতে শোনা যায়। এ সময় তিনি থাই সেনাবাহিনীকে সমালোচনা করে বলেন, তাদের কারণেই কম্বোডিয়ার এক সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। ফোনকলে আরও শোনা যায়, তিনি হুন সেনকে আশ্বস্ত করছেন—“যে কোনো কিছু চাইলে, আমাকে বলবেন। আমি বিষয়টি দেখব।”

ফোনালাপটি প্রকাশিত হলে থাইল্যান্ডজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এর কিছুদিন পর দুই দেশের সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় থেমে যায়।

বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে, পেতোংতার্ন জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছেন। ব্যাপক সমালোচনার মুখে তিনি প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, উত্তেজনা প্রশমনের কৌশল হিসেবেই তিনি এমনভাবে কথা বলেছিলেন।

এরপর গত ১ জুলাই সাংবিধানিক আদালত তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। তবে তিনি সংস্কৃতিমন্ত্রীর দায়িত্বে তখনও বহাল ছিলেন। অবশেষে শুক্রবার আদালতের রায়ে তিনি স্থায়ীভাবে ক্ষমতাচ্যুত হলেন।

সূত্র: সিএনএন