করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত দুই বছর বই উৎসব হয়নি। মহামারি নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তাই আজ নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎসব করে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হচ্ছে।
রবিবার (০১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় চুয়াডাঙ্গা আদর্শ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান। নতুন বই পেয়ে খুশি শিক্ষার্থীরা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে বই উৎসবের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাজমুল হামিদ রেজা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিম ভুইয়া।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল জানান, বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়ে উদাহরণ তৈরি করতে পেরেছে সরকার। বিশ্বের অন্য কোনও দেশে একযোগে বছরের প্রথম দিনেই একসঙ্গে এত বই বিতরণ করতে পারেনি।
তিনি আরও জানান, একমাত্র শিক্ষাই পারে একটা দেশের পরিবর্তন করতে, দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে। তাই মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনার সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তার এই সুফল আজকের বিনামূল্যে বই বিতরণ উৎসব।
ডলার ও সংকট দাম ঊর্ধ্বমুখী, ছাপা সরঞ্জামের বাড়তি মূল্য লোডশেডিং, গ্যাস সংকটের কারণে বই উৎসব নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে এসব পাশ কাটিয়ে বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে পাঠ্যবই। দেশের সকল উপজেলায় বই পৌঁছে গেছে। পৌঁছে গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও।
সরকার ২০১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ শুরু করে এবং এ পর্যন্ত মোট ৪৩৪ কোটি ৪৫ লাখ ৮০ হাজার ২১১টি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করেছে।
এনসিটিবির সূত্র বলছে, এবার প্রাথমিকে ৯ কোটি ৬৬ লাখ ৮ হাজার ২৪৫টি এবং মাধ্যমিকে ২৩ কোটি ৮৩ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৮টি বই ছাপানো হচ্ছে। এ বছর চুয়াডাঙ্গা জেলায় পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭৮ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেওয়া হবে।
অনলাইন ডেস্ক 















