ঢাকা ০৮:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সেনাবাহিনীর সদস্যদের ব্যারাকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার এইচএসসি শিক্ষার্থীরা পাবেন ৬ হাজার টাকা ভর্তি সহায়তা, আবেদন যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও তেলের দাম হ্রাস ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতার লক্ষ্যে প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে সহিংসতা নির্বাচনে পরাজয় বরণের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ প্রত্যাখ্যান করলেন মমত, সংবিধান দেখিয়ে দেন শুভেন্দু বহুল আলোচিত ‘অ্যাভাটার’ ফিচারটি ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ বিলাসবহুল একটি প্রমোদতরীতে প্রাণঘাতী হান্তাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, ৩ জনের মৃত্যু আজকের নামাজের সময়সূচি: ৬ মে ২০২৬ ঈদুল আজহার আগে নখ ও চুল কাটা নিয়ে ইসলামি বিধান কী?

নৌকায় ভোট দেয়ার ওয়াদা নিলেন শেখ হাসিনা

আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে নেতাকর্মীদের কাছে ওয়াদা নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে স্বাধীনতা পেয়েছি, নৌকায় উন্নয়ন হয়েছে তাই আগামী নির্বাচনে আপনারা ওয়াদা করেন নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন। এসময় নেতাকর্মীরা নৌকা নৌকা বলে ওয়াদা করেন।

বুধবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসেন আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে সর্বত্র যেন উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। জনসভাস্থলে পৌঁছে তিনি জাতীয় পতাকা নেড়ে নেতা-কর্মীদের উৎসাহিত করেন।

লন্ডন থেকে তারেক রহমানের নির্দেশে বাসে ট্রেনে আগুন দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ যখন উন্নয়নের পক্ষে বিএনপি তখন জ্বালাও-পোড়াও করছে। লন্ডনে বসে কুলাঙ্গার হুকুম দেয় আর দেশে বিএনপি নেতাকর্মীরা বাসে আগুন দেয়।

শেখ হাসিনা বলেন, সিলেটের মানুষ আমাদের সাথে আছে। সিলেট বিভাগ আমাদের করে দেয়া। জনগণ বারবার নৌকায় ভোট দিচ্ছে বলে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। গ্যাস বিক্রির প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারে নাই। যে কূপে বিএনপি গ্যাস পায় নাই, আওয়ামী লীগ গ্যাস পেয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, এ নৌকা নূহ নবীর নৌকা। এ নৌকায় কিন্তু মানবজাতিকে রক্ষা করেছেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নৌকায় ভোট দিয়ে এদেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। আবার নৌকা যখন ক্ষমতায় এসেছে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়েছে।

বাণিজ্য করেই বিএনপি নির্বাচন ধ্বংস করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, একজন লণ্ডনে বসে মনোনয়নপত্র বিক্রি করেছে। আরেকজন গুলশানে বসে মনোনয়ন বিক্রি করেছে। এ ছাড়া পল্টন থেকেও আরেকবার বিক্রি করেছে। এভাবে তারা নির্বাচনকে বাণিজ্যে পরিণত করে নির্বাচনকে ধ্বংস করেছে।

এর আগে হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে সরকার প্রধান বলেন, যারা নির্বাচন করবে না, করবে না। কিন্তু আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা, জনগণের সম্পত্তি নষ্ট করা, এগুলো সন্ত্রাসী কাজ, জঙ্গিবাদী কাজ। আর এগুলো করে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোট জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। যারা জনগণকে ভোট দিতে বাধা দেবে, মানুষ তাদের উৎখাত করবে। মানুষ ভোটের পক্ষে, তারা হরতাল চায় না। বিএনপির হরতালে মানুষ সাড়াও দিচ্ছে না।

আসন্ন নির্বাচনে আবারও জয়ের আশা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ৭ জানুয়ারির ভোটে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় এলে জনগণের সব চাওয়া পূরণ হবে, কেউ গৃহহীন থাকবে না, কারো দুঃখ থাকবে না।

আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরি করার পরিকল্পনা করেছি। আমাদের হারাবার কিছু নেই। এই দেশ স্বাধীন করেছেন আমার বাবা। একটাই লক্ষ্য দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তোলা। চা-শ্রমিকের উন্নয়নে কাজ করেছি, তাদের মজুরি বাড়িয়েছি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমেদ। বুধবার সকাল থেকেই আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সিলেট বিভাগের ৪ জেলা থেকে নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করেন। দলীয় সভানেত্রীর নির্বাচনী প্রচারণার জনসভায় যোগ দিতে মিছিলে মিছিলে জড়ো হন নেতা-কর্মীরা। নগরের বিভিন্ন সড়কে ছোট-বড় মিছিল নিয়ে নৌকার স্লোগান দিয়ে জড়ো হচ্ছেন তারা।

সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আশপাশের এলাকা, চৌহাট্টা, রিকাবীবাজারসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ভিড় করেন। লিফলেট বিতরণ করেন। কেউ কেউ পুরো শরীরজুড়ে নৌকা প্রতীক এঁকেছেন, কেউবা ছোট ছোট রঙিন নৌকা বানিয়ে মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়ান। শেখ হাসিনার পক্ষে ‘উন্নয়নের মার্কা নৌকা’ বলে স্লোগান দেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার নির্বাচনী সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হবেন শেখ হাসিনা। বিকেল ৩টায় রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় ও লালমনিরহাট, রাজশাহী বিভাগের নাটোর ও পাবনা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের খাগড়াছড়িতে ভার্চ্যুয়ালি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া ২৯ ডিসেম্বর বরিশাল সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন বিকেল ৩টায় বরিশাল জেলা সদরে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।

পরদিন ৩০ ডিসেম্বর নিজ জেলা গোপালগঞ্জ, তারপর মাদারীপুরে যাবেন তিনি। ওই দিন প্রথমে গোপালগঞ্জ-৩ নির্বাচনী এলাকায় জনসভায় বক্তব্য দেবেন। তারপর মাদারীপুর-৩ আসনের নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

Tag :
জনপ্রিয়

সেনাবাহিনীর সদস্যদের ব্যারাকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

নৌকায় ভোট দেয়ার ওয়াদা নিলেন শেখ হাসিনা

Update Time : ০২:১৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৩

আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে নেতাকর্মীদের কাছে ওয়াদা নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে স্বাধীনতা পেয়েছি, নৌকায় উন্নয়ন হয়েছে তাই আগামী নির্বাচনে আপনারা ওয়াদা করেন নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন। এসময় নেতাকর্মীরা নৌকা নৌকা বলে ওয়াদা করেন।

বুধবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসেন আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে সর্বত্র যেন উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। জনসভাস্থলে পৌঁছে তিনি জাতীয় পতাকা নেড়ে নেতা-কর্মীদের উৎসাহিত করেন।

লন্ডন থেকে তারেক রহমানের নির্দেশে বাসে ট্রেনে আগুন দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ যখন উন্নয়নের পক্ষে বিএনপি তখন জ্বালাও-পোড়াও করছে। লন্ডনে বসে কুলাঙ্গার হুকুম দেয় আর দেশে বিএনপি নেতাকর্মীরা বাসে আগুন দেয়।

শেখ হাসিনা বলেন, সিলেটের মানুষ আমাদের সাথে আছে। সিলেট বিভাগ আমাদের করে দেয়া। জনগণ বারবার নৌকায় ভোট দিচ্ছে বলে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। গ্যাস বিক্রির প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারে নাই। যে কূপে বিএনপি গ্যাস পায় নাই, আওয়ামী লীগ গ্যাস পেয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, এ নৌকা নূহ নবীর নৌকা। এ নৌকায় কিন্তু মানবজাতিকে রক্ষা করেছেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নৌকায় ভোট দিয়ে এদেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। আবার নৌকা যখন ক্ষমতায় এসেছে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়েছে।

বাণিজ্য করেই বিএনপি নির্বাচন ধ্বংস করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, একজন লণ্ডনে বসে মনোনয়নপত্র বিক্রি করেছে। আরেকজন গুলশানে বসে মনোনয়ন বিক্রি করেছে। এ ছাড়া পল্টন থেকেও আরেকবার বিক্রি করেছে। এভাবে তারা নির্বাচনকে বাণিজ্যে পরিণত করে নির্বাচনকে ধ্বংস করেছে।

এর আগে হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে সরকার প্রধান বলেন, যারা নির্বাচন করবে না, করবে না। কিন্তু আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা, জনগণের সম্পত্তি নষ্ট করা, এগুলো সন্ত্রাসী কাজ, জঙ্গিবাদী কাজ। আর এগুলো করে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোট জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। যারা জনগণকে ভোট দিতে বাধা দেবে, মানুষ তাদের উৎখাত করবে। মানুষ ভোটের পক্ষে, তারা হরতাল চায় না। বিএনপির হরতালে মানুষ সাড়াও দিচ্ছে না।

আসন্ন নির্বাচনে আবারও জয়ের আশা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ৭ জানুয়ারির ভোটে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় এলে জনগণের সব চাওয়া পূরণ হবে, কেউ গৃহহীন থাকবে না, কারো দুঃখ থাকবে না।

আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরি করার পরিকল্পনা করেছি। আমাদের হারাবার কিছু নেই। এই দেশ স্বাধীন করেছেন আমার বাবা। একটাই লক্ষ্য দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তোলা। চা-শ্রমিকের উন্নয়নে কাজ করেছি, তাদের মজুরি বাড়িয়েছি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমেদ। বুধবার সকাল থেকেই আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সিলেট বিভাগের ৪ জেলা থেকে নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করেন। দলীয় সভানেত্রীর নির্বাচনী প্রচারণার জনসভায় যোগ দিতে মিছিলে মিছিলে জড়ো হন নেতা-কর্মীরা। নগরের বিভিন্ন সড়কে ছোট-বড় মিছিল নিয়ে নৌকার স্লোগান দিয়ে জড়ো হচ্ছেন তারা।

সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আশপাশের এলাকা, চৌহাট্টা, রিকাবীবাজারসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ভিড় করেন। লিফলেট বিতরণ করেন। কেউ কেউ পুরো শরীরজুড়ে নৌকা প্রতীক এঁকেছেন, কেউবা ছোট ছোট রঙিন নৌকা বানিয়ে মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়ান। শেখ হাসিনার পক্ষে ‘উন্নয়নের মার্কা নৌকা’ বলে স্লোগান দেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার নির্বাচনী সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হবেন শেখ হাসিনা। বিকেল ৩টায় রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় ও লালমনিরহাট, রাজশাহী বিভাগের নাটোর ও পাবনা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের খাগড়াছড়িতে ভার্চ্যুয়ালি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া ২৯ ডিসেম্বর বরিশাল সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন বিকেল ৩টায় বরিশাল জেলা সদরে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।

পরদিন ৩০ ডিসেম্বর নিজ জেলা গোপালগঞ্জ, তারপর মাদারীপুরে যাবেন তিনি। ওই দিন প্রথমে গোপালগঞ্জ-৩ নির্বাচনী এলাকায় জনসভায় বক্তব্য দেবেন। তারপর মাদারীপুর-৩ আসনের নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।