ঢাকা ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
শুক্রবার পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুরে ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকির হত্যার আসামীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আন্দোলন কতদিন চলবে, যা বলছে ককরোচ পার্টি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে হোটেলকক্ষের গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করুন মোবাইল দিয়েই গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করেছে জামায়াত ফরিদপুরে যাত্রা শুরু করল ‘পেয়ালা ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ ফরিদপুরে নারীর মানসিক স্বাস্থ্য: সচেতনতা, সহমর্মিতা ও করণীয় বিষয়ক নন্দিতা সুরক্ষার কর্মশালা অনুষ্ঠিত

পদ্মা সেতু প্রকল্প রক্ষা বাঁধে ভাঙন ঠেকাতে দুদিন ধরে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবো

শরীয়তপুরের জাজিরার মাঝিকান্দি এলাকায় পদ্মা সেতু প্রকল্প রক্ষা বাঁধে ভাঙন ঠেকাতে দুদিন ধরে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবো। সেখানে স্থানীয়রা ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুর থেকে শতাধিক শ্রমিক ও দুটি বার্জ দিয়ে ভাঙনকবলিত এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। এর ফলে রাত থেকে নতুন করে আর কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি ভাঙনের কবলে পড়েনি বলে পাউবো জানিয়েছে।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পদ্মা নদীতে বিলীন হবে এলাকার রাস্তাাঘাট, হাট-বাজারসহ শতাধিক বসতবাড়ি। জাজিরা উপজেলার আলম খাঁর কান্দি, উকিল উদ্দিন মুন্সি কান্দি ও ওছিম উদ্দিন মুন্সি কান্দি গ্রামের অন্তত ৭০০ পরিবার এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে আছেন।

ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে এক হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। যদিও তাতে খুব একটা কাজ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সোমবার বিকালে পদ্মার ভাঙনে জাজিরা উপজেলার মাঝিরঘাট এলাকার পদ্মা সেতু প্রকল্প রক্ষা বাঁধের ২০০ মিটার বিলীন হয়ে যায়। এতে পদ্মা পারের ১০টি বসতঘর ও নয়টি দোকানঘর ভাঙনের শিকার হয়। এ ছাড়া বেশ কিছু দোকানপাট ও বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পাউবো জানায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে জাজিরার পদ্মা সেতু ল্যান্ডিং পয়েন্ট থেকে মাঝিরঘাট জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার ভাটিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

গত বছরের ৩ নভেম্বরে মাঝিরঘাট জিরো পয়েন্ট এলাকায় বাঁধটির প্রায় ১০০ মিটার ধসে পড়ে। এ বছর বাঁধটির সংস্কারে দায়িত্ব দেওয়া হয় পাউবোকে। দুই কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক ফেলার কাজ শুরু করে তারা।

গত কোরবানির ঈদের দিন ভোররাতে জিরো পয়েন্টে আবারও ভাঙন দেখা দেয়। ওই সময় বাঁধের আড়াইশ মিটার অংশ নদীতে তলিয়ে যায়। ওই সময় ১৩টি বসতঘর ও দুটি দোকান ঘর সরিয়ে নেন এলাকাবাসী।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ওয়াহিদ হোসেন, জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায়, পাউবো ফরিদপুরের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাজাহান সিরাজ, পাউবো শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তারেক হাসান ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

জাজিরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, ‘সোমবার রাত থেকে নতুন করে না ভাঙলেও আমরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।’

মঙ্গল মাঝির ঘাট বাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন দেওয়ান বলেন, ‘আকস্মিক ভাঙনের কারণে শ্রমিক সংকট শুরু হয়েছে। পাশাপাশি তিন দিন ধরে প্রচন্ড বৃষ্টি, তাতে আমাদের অনেক কষ্ট বেড়ে গেছে। এজন্য পরিবারের সদস্যরাই নিজেদের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। যে কোনো উপায়ে ভাঙন রোধে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করছি আমরা।’

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ‘নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে পাড়ের কাছে চলে আসায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বছর থেকে এই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। আমরা এলাকাবাসী আতঙ্কের মধ্যে আছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে।’

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায় বলেন, ‘ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ পুনর্নিমাণের চেষ্টা চলছে। বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়া ৩০টি পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। যাদের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে, তাদের মধ্যে দুই বান্ডেল টিন ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করছে প্রশাসন।’

শরীয়তপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তারেক হাসান বলেন, ‘আমরা মঙ্গলবার দুপুর থেকে জরুরি কাজের অংশ হিসেবে ভাঙন কবলিত এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছি।’

Tag :
জনপ্রিয়

শুক্রবার পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

পদ্মা সেতু প্রকল্প রক্ষা বাঁধে ভাঙন ঠেকাতে দুদিন ধরে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবো

Update Time : ০৪:৫৯:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

শরীয়তপুরের জাজিরার মাঝিকান্দি এলাকায় পদ্মা সেতু প্রকল্প রক্ষা বাঁধে ভাঙন ঠেকাতে দুদিন ধরে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবো। সেখানে স্থানীয়রা ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুর থেকে শতাধিক শ্রমিক ও দুটি বার্জ দিয়ে ভাঙনকবলিত এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। এর ফলে রাত থেকে নতুন করে আর কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি ভাঙনের কবলে পড়েনি বলে পাউবো জানিয়েছে।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পদ্মা নদীতে বিলীন হবে এলাকার রাস্তাাঘাট, হাট-বাজারসহ শতাধিক বসতবাড়ি। জাজিরা উপজেলার আলম খাঁর কান্দি, উকিল উদ্দিন মুন্সি কান্দি ও ওছিম উদ্দিন মুন্সি কান্দি গ্রামের অন্তত ৭০০ পরিবার এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে আছেন।

ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে এক হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। যদিও তাতে খুব একটা কাজ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সোমবার বিকালে পদ্মার ভাঙনে জাজিরা উপজেলার মাঝিরঘাট এলাকার পদ্মা সেতু প্রকল্প রক্ষা বাঁধের ২০০ মিটার বিলীন হয়ে যায়। এতে পদ্মা পারের ১০টি বসতঘর ও নয়টি দোকানঘর ভাঙনের শিকার হয়। এ ছাড়া বেশ কিছু দোকানপাট ও বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পাউবো জানায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে জাজিরার পদ্মা সেতু ল্যান্ডিং পয়েন্ট থেকে মাঝিরঘাট জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার ভাটিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

গত বছরের ৩ নভেম্বরে মাঝিরঘাট জিরো পয়েন্ট এলাকায় বাঁধটির প্রায় ১০০ মিটার ধসে পড়ে। এ বছর বাঁধটির সংস্কারে দায়িত্ব দেওয়া হয় পাউবোকে। দুই কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক ফেলার কাজ শুরু করে তারা।

গত কোরবানির ঈদের দিন ভোররাতে জিরো পয়েন্টে আবারও ভাঙন দেখা দেয়। ওই সময় বাঁধের আড়াইশ মিটার অংশ নদীতে তলিয়ে যায়। ওই সময় ১৩টি বসতঘর ও দুটি দোকান ঘর সরিয়ে নেন এলাকাবাসী।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ওয়াহিদ হোসেন, জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায়, পাউবো ফরিদপুরের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাজাহান সিরাজ, পাউবো শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তারেক হাসান ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

জাজিরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, ‘সোমবার রাত থেকে নতুন করে না ভাঙলেও আমরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।’

মঙ্গল মাঝির ঘাট বাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন দেওয়ান বলেন, ‘আকস্মিক ভাঙনের কারণে শ্রমিক সংকট শুরু হয়েছে। পাশাপাশি তিন দিন ধরে প্রচন্ড বৃষ্টি, তাতে আমাদের অনেক কষ্ট বেড়ে গেছে। এজন্য পরিবারের সদস্যরাই নিজেদের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। যে কোনো উপায়ে ভাঙন রোধে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করছি আমরা।’

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ‘নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে পাড়ের কাছে চলে আসায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বছর থেকে এই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। আমরা এলাকাবাসী আতঙ্কের মধ্যে আছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে।’

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায় বলেন, ‘ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ পুনর্নিমাণের চেষ্টা চলছে। বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়া ৩০টি পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। যাদের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে, তাদের মধ্যে দুই বান্ডেল টিন ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করছে প্রশাসন।’

শরীয়তপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তারেক হাসান বলেন, ‘আমরা মঙ্গলবার দুপুর থেকে জরুরি কাজের অংশ হিসেবে ভাঙন কবলিত এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছি।’