ঢাকা ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
স্কুল ভর্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ে আরো নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার জ্বালানি তেল পাচার রোধ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে সরকারের তেলের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী রিমান্ডে ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু হাম উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু ইউএনজিএ ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে: তেহরান কোথাও গভীর ভালোবাসা, কোথাও বিশ্বাসভঙ্গের বেদনা, আবার কোথাও রয়েছে আক্ষেপ, ক্ষোভ ও আত্মসম্মান;উদ্ধার মরিয়মের রেখে যাওয়া শেষ চিঠি ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের দেশটি ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চ্যুয়াল দূতাবাস

পবিত্র রমজানের রহমতের তৃতীয় দিন আজ

পবিত্র রমজানের রহমতের তৃতীয় দিন আজ। সর্বজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময় মহান আল্লাহতায়ালা এ পৃথিবীতে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন এর কোনোটিই অনর্থক ও উদ্দেশ্যবিহীন নয়। তিনি উদ্দেশ্যবিহীনভাবে কোনো কিছুই সৃষ্টি করেননি। মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ পাক আল-কোরআনে ইরশাদ করেছেন, আমি মানুষ এবং জীনকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি। (সুরা জারিয়াত, আয়াত-৫৬) এর দ্বারা বুঝা যায়, আল্লাহর ইবাদতবিমুখ মানুষ আল্লাহ পাকের নাফরমান বান্দা ছাড়া কিছুই নয়। ইবাদতের জন্য মাহে রমজান একটি মোক্ষম সময়।

এ মাসের সিয়াম সাধনা তাকওয়া ও পরহেজগারি অর্জন করা, রাত জেগে নামাজ আদায় করা, সেহরি খাওয়া, ইফতার করা এবং যাবতীয় পাপাচার ও কামাচার হতে বিরত থাকা এবং মিথ্যা সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড বর্জন করা- সবই ইবাদতের মধ্যে শামিল। শুধু তাই নয়, এ মাসে অধিক হার কোরআন মজিদ তেলাওয়াত করা, জিকির ও তাসবিহ-তাহলিল পাঠ করা এবং নিজেকে পাপমুক্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা কর্তব্য। মোটকথা মাহে রমজান নেকি ও পূণ্য অর্জনের উপযুক্ত মৌসুম। কারণ সিয়াম সাধনার মাঝে এমন কিছু বিশেষত্ব রয়েছে, যা অন্য ইবাদতের মধ্যে পাওয়া যায় না। আর এজন্যই এর সওয়াব ও বিনিময়ের ব্যাপারটি আল্লাহ নিজের কাছে রেখেছেন এবং এর পরিমাণ কতটুকু হবে এবং কী পরিমাণ বর্ধিত করা হবে, তাও নির্দিষ্ট করেননি।

আল কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে: আল্লাহ পাক যাকে চান বহুগুণে সওয়াব বর্ধিত করেন। (সুরা বাকারাহ, আয়াত-২৬১) মহান আল্লাহ সিয়াম সাধনাকারীর তাকওয়া, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং একাগ্রতার মানদণ্ড অনুসারেই রোজার প্রতিদান প্রদানের ব্যাপারে হ্রাস-বৃদ্ধি করে থাকেন। বস্তুত সিয়াম সাধনার বিনিময় বা পুরস্কার একান্তভাবে আল্লাহতায়ালার ইচ্ছার ওপরই নির্ভরশীল। তিনি প্রজ্ঞাময় সর্বদ্রষ্টা ও ন্যায় বিচারক। তার পক্ষে সবকিছুর সূক্ষাতিসূক্ষ্ম পরিমাণ নির্ধারণ করা ও একে বহুগুণে বৃদ্ধি করা মোটেই কষ্টসাধ্য ব্যাপার নয়। বরং এ কাজ তার জন্য খুবই সহজ, তিনি প্রাচুর্যময় ও প্রজ্ঞাময়, তার ভাণ্ডরে কোনো কিছুই কমতি নেই।

অতএব মহান আল্লাহর দরবারে সিয়াম সাধনার ভেতর দিয়ে মুমিন বান্দাদের জন্য মুক্তি-নিষ্কৃতি ও অসীম সওয়াব লাভের যে সুবর্ণ সুযোগ উপস্থিত হয় তা নষ্ট করা কিছুতেই সমীচীন নয়। মাহে রমজান মুমিন বান্দার জন্য এমন একটি নিয়ামত, যার শোকরগুজারি একমাত্র ইবাদত বন্দেগি, সিয়াম-সাধনা এবং তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমেই সম্ভব। আল্লাহ পাক আমদের তাওফিক দান করুন। আমিন।

Tag :

স্কুল ভর্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ে আরো নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

পবিত্র রমজানের রহমতের তৃতীয় দিন আজ

Update Time : ০৩:১৭:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মার্চ ২০২৩

পবিত্র রমজানের রহমতের তৃতীয় দিন আজ। সর্বজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময় মহান আল্লাহতায়ালা এ পৃথিবীতে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন এর কোনোটিই অনর্থক ও উদ্দেশ্যবিহীন নয়। তিনি উদ্দেশ্যবিহীনভাবে কোনো কিছুই সৃষ্টি করেননি। মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ পাক আল-কোরআনে ইরশাদ করেছেন, আমি মানুষ এবং জীনকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি। (সুরা জারিয়াত, আয়াত-৫৬) এর দ্বারা বুঝা যায়, আল্লাহর ইবাদতবিমুখ মানুষ আল্লাহ পাকের নাফরমান বান্দা ছাড়া কিছুই নয়। ইবাদতের জন্য মাহে রমজান একটি মোক্ষম সময়।

এ মাসের সিয়াম সাধনা তাকওয়া ও পরহেজগারি অর্জন করা, রাত জেগে নামাজ আদায় করা, সেহরি খাওয়া, ইফতার করা এবং যাবতীয় পাপাচার ও কামাচার হতে বিরত থাকা এবং মিথ্যা সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড বর্জন করা- সবই ইবাদতের মধ্যে শামিল। শুধু তাই নয়, এ মাসে অধিক হার কোরআন মজিদ তেলাওয়াত করা, জিকির ও তাসবিহ-তাহলিল পাঠ করা এবং নিজেকে পাপমুক্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা কর্তব্য। মোটকথা মাহে রমজান নেকি ও পূণ্য অর্জনের উপযুক্ত মৌসুম। কারণ সিয়াম সাধনার মাঝে এমন কিছু বিশেষত্ব রয়েছে, যা অন্য ইবাদতের মধ্যে পাওয়া যায় না। আর এজন্যই এর সওয়াব ও বিনিময়ের ব্যাপারটি আল্লাহ নিজের কাছে রেখেছেন এবং এর পরিমাণ কতটুকু হবে এবং কী পরিমাণ বর্ধিত করা হবে, তাও নির্দিষ্ট করেননি।

আল কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে: আল্লাহ পাক যাকে চান বহুগুণে সওয়াব বর্ধিত করেন। (সুরা বাকারাহ, আয়াত-২৬১) মহান আল্লাহ সিয়াম সাধনাকারীর তাকওয়া, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং একাগ্রতার মানদণ্ড অনুসারেই রোজার প্রতিদান প্রদানের ব্যাপারে হ্রাস-বৃদ্ধি করে থাকেন। বস্তুত সিয়াম সাধনার বিনিময় বা পুরস্কার একান্তভাবে আল্লাহতায়ালার ইচ্ছার ওপরই নির্ভরশীল। তিনি প্রজ্ঞাময় সর্বদ্রষ্টা ও ন্যায় বিচারক। তার পক্ষে সবকিছুর সূক্ষাতিসূক্ষ্ম পরিমাণ নির্ধারণ করা ও একে বহুগুণে বৃদ্ধি করা মোটেই কষ্টসাধ্য ব্যাপার নয়। বরং এ কাজ তার জন্য খুবই সহজ, তিনি প্রাচুর্যময় ও প্রজ্ঞাময়, তার ভাণ্ডরে কোনো কিছুই কমতি নেই।

অতএব মহান আল্লাহর দরবারে সিয়াম সাধনার ভেতর দিয়ে মুমিন বান্দাদের জন্য মুক্তি-নিষ্কৃতি ও অসীম সওয়াব লাভের যে সুবর্ণ সুযোগ উপস্থিত হয় তা নষ্ট করা কিছুতেই সমীচীন নয়। মাহে রমজান মুমিন বান্দার জন্য এমন একটি নিয়ামত, যার শোকরগুজারি একমাত্র ইবাদত বন্দেগি, সিয়াম-সাধনা এবং তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমেই সম্ভব। আল্লাহ পাক আমদের তাওফিক দান করুন। আমিন।