আজ ভোর থেকে সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা গতকাল বৃহস্পতিবার ধর্মঘটের ডাক দেয়। ঘোষণা অনুযায়ী আজ শুক্রবার (৫ নভেম্বর) সকাল ছয়টা থেকে সারাদেশে একযোগে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়।
পরিবহন ধর্মঘট শুরু হওয়ায় রাজধানীসহ সারাদেশের যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। আজ ১৪ টি প্রতিষ্ঠানের ভর্তি ও চাকরির পরীক্ষা রয়েছে। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে শিক্ষার্থী এবং চাকরি প্রত্যাশীরা সময়মতো পরীক্ষার কেন্দ্রে পৌঁছতে পারছেন না।
শুক্রবার (০৫ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, ট্রাক-বাস মালিক অ্যাসোসিয়েশন এবং ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি। তাই নগরীতে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভ্যান গাড়ি, রিকশা ও সিএনজি চালিত অটোরিকশায় যাত্রীরা চড়া ভাড়া দিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছেন।
রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা রহিম জানান, তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। শুক্রবার সরকারি বন্ধ থাকলেও তার অফিস খোলা থাকে। তিনি অফিসে যাবেন। কিন্তু রাস্তায় কোনো গণপরিবহণ নেই। এদিকে সড়কে চলমান অটোরিকশা থাকলেও চওড়া ভাড়া হাকাচ্ছেন।
তিনি জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গণপরিবহণ বন্ধ। কিন্তু এদিকে মানুষের দুর্ভোগ ও ভোগান্তির মধ্যেও সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকরা সুযোগ নিতে শুরু করেছে। ২০০ টাকার ভাড়া চাইছে ৫০০ টাকা। বিপদে পড়েছি। তাই রিকশা যোগে ভেঙে ভেঙে পল্টনে যাচ্ছি।
সকাল থেকে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর, উত্তরা হাউজবিল্ডিং, জসিমউদ্দীন, বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ড, খিলক্ষেত, কুড়িল, বনানী, মহাখালীসহ বিভিন্ন স্থানে যাত্রীদের ভোগান্তি দেখা গেছে।
সড়কে গণপরিবহনের চলাচল না করলেও অটোরিকশা, রিকশা ও প্রাইভেটকারের পাশাপাশি সরকারি বিআরটিসি বাস চলাচল করছে।
রাজধানীর মহাখালী, সায়েদাবাদ থেকে যাত্রীবাহী দূরপাল্লার পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। গাবতলী থেকে পণ্য পরিবহনে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ ভ্যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড থেকে আজ কোনো ট্রাক কোথাও ছেড়ে যায়নি। ভোরের দিকে বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা ট্রাকগুলো টার্মিনালে এসে স্থান নেয়।