ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘করোনা ভাইরাস আবার নতুন করে দেখা দিয়েছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘করোনা ভাইরাস আবার নতুন করে দেখা দিয়েছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে। এ সময়ে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’

আজ রবিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার দেশ স্বাধীন করেছিলেন। এ বাংলাদেশ থেকে তার নাম মুছে ফেলে দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষক তৈরি করা হয়েছিল। এখন বিশ্বনেতারাও বলছেন ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। পরিস্থিতি এমন তৈরি করা হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধারাও তাদের পরিচয় দিতে পারতেন না।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জাতির পিতার পথ ধরে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি যেসব কাজের পরিকল্পনা করেছেন। আবার সেই কাজগুলোই করছি। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আমরা বাংলাদেশে পেতাম না, লাল-সবুজের পতাকা পেতাম না। তিনি অত্যন্ত কৌশলী ছিলেন। অনেক নির্যাতন অত্যাচারিত হয়েছিলেন। তারপরও আদর্শ নিয়েই তিনি চলেছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করেছে বলেই আজকে আমরা রাষ্ট্রক্ষমতায়। আর সেজন্য আমাদের সৌভাগ্য হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী আমরা পালন করতে পারছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও আমরা অত্যন্ত চমৎকারভাবে উদযাপন করছি। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান আমাদের এসব অনুষ্ঠানে শামিল হচ্ছেন। অনেকে সরাসরি এসেছেন মুজিববর্ষ সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে। নেপাল ভুটান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীও আসবেন। আমরা চমৎকারভাবে এসব আয়োজন পালন করছি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মুজিববর্ষ জাঁকজমকভাবে উদযাপন করতে। কিন্তু আমরা অনেকগুলো কর্মসূচি নিয়েছি। সারাদেশে বৃক্ষরোপণ করেছি। আমি নেতাকর্মীদেরকে বলবো এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে। গরীব-দুঃখী মানুষকে সহযোগিতা করতে হবে। ‌সারাদেশে ব্যাপকভাবে জাঁকজমকপূর্ণ করে মুজিববর্ষ উদযাপন করতে হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে। মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও করতে হবে।

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, সারাবিশ্বে আবার করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নতুন করে দেখা দিয়েছে। এজন্য অর্থনৈতিক চাকা যেন আমাদের থেমে না যায়, সে বিষয়ে আমরা পরিকল্পনা নিচ্ছি। সবাই সবাইকে সতর্ক থেকে স্বাস্থ্যসুরক্ষা মানার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শস্য ক্ষেতে জাতির পিতার ছবি ফুটিয়ে তোলা কৃষককে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই আমাদের বাংলাদেশ। আমি সেই কৃষককে ধন্যবাদ জানাই।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও মির্জা আজম, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুল নাহার চাপা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান। গণভবন প্রান্ত থেকে আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

Tag :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘করোনা ভাইরাস আবার নতুন করে দেখা দিয়েছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে।”

Update Time : ০৯:৩৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ মার্চ ২০২১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘করোনা ভাইরাস আবার নতুন করে দেখা দিয়েছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে। এ সময়ে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’

আজ রবিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার দেশ স্বাধীন করেছিলেন। এ বাংলাদেশ থেকে তার নাম মুছে ফেলে দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষক তৈরি করা হয়েছিল। এখন বিশ্বনেতারাও বলছেন ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। পরিস্থিতি এমন তৈরি করা হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধারাও তাদের পরিচয় দিতে পারতেন না।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জাতির পিতার পথ ধরে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি যেসব কাজের পরিকল্পনা করেছেন। আবার সেই কাজগুলোই করছি। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আমরা বাংলাদেশে পেতাম না, লাল-সবুজের পতাকা পেতাম না। তিনি অত্যন্ত কৌশলী ছিলেন। অনেক নির্যাতন অত্যাচারিত হয়েছিলেন। তারপরও আদর্শ নিয়েই তিনি চলেছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করেছে বলেই আজকে আমরা রাষ্ট্রক্ষমতায়। আর সেজন্য আমাদের সৌভাগ্য হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী আমরা পালন করতে পারছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও আমরা অত্যন্ত চমৎকারভাবে উদযাপন করছি। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান আমাদের এসব অনুষ্ঠানে শামিল হচ্ছেন। অনেকে সরাসরি এসেছেন মুজিববর্ষ সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে। নেপাল ভুটান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীও আসবেন। আমরা চমৎকারভাবে এসব আয়োজন পালন করছি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মুজিববর্ষ জাঁকজমকভাবে উদযাপন করতে। কিন্তু আমরা অনেকগুলো কর্মসূচি নিয়েছি। সারাদেশে বৃক্ষরোপণ করেছি। আমি নেতাকর্মীদেরকে বলবো এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে। গরীব-দুঃখী মানুষকে সহযোগিতা করতে হবে। ‌সারাদেশে ব্যাপকভাবে জাঁকজমকপূর্ণ করে মুজিববর্ষ উদযাপন করতে হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে। মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও করতে হবে।

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, সারাবিশ্বে আবার করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নতুন করে দেখা দিয়েছে। এজন্য অর্থনৈতিক চাকা যেন আমাদের থেমে না যায়, সে বিষয়ে আমরা পরিকল্পনা নিচ্ছি। সবাই সবাইকে সতর্ক থেকে স্বাস্থ্যসুরক্ষা মানার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শস্য ক্ষেতে জাতির পিতার ছবি ফুটিয়ে তোলা কৃষককে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই আমাদের বাংলাদেশ। আমি সেই কৃষককে ধন্যবাদ জানাই।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও মির্জা আজম, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুল নাহার চাপা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান। গণভবন প্রান্ত থেকে আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা।