ঢাকা ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে যাচ্ছে ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী একদিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি: ৮ আগস্ট ২০২৬ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন সিলেট ও বগুড়ায় বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১৭, আহত ৫০ সৌদি আরব উত্তর ও দক্ষিণ দিক থেকে একযোগে বড় ধরনের সমন্বিত হামলার আশঙ্কা করছে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ভারি বর্ষণের সতর্কবার্তা, ১০ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস থাইল্যান্ডের স্কুলে ১৪ বছরের শিক্ষার্থীর গুলিতে নিহত অন্তত ৬, আহত ১৫ জন

বিদেশি চ্যানেল বন্ধ থাকলে গ্রাহক ইউটিউব, ফেসবুকনহ বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে চলে যাবে: কোয়াব

বাংলাদেশি ৩৪টি চ্যানেল দিয়ে কেব্‌ল অপারেটর সেবা চালু রাখলে গ্রাহক ধরে রাখা সম্ভব হবে না জানিয়ে কেব্‌ল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) বলেছে, গ্রাহকেরা তাদের নিজেদের স্বার্থে ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে চলে যাবেন।

কোয়াবের আশঙ্কা, এতে দ্রুত গ্রাহক কমার পাশাপাশি কেব্‌ল অপারেটর ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একপর্যায়ে তাঁদের পক্ষে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা দুরূহ হবে।

সরকারি সিদ্ধান্তে ক্লিন ফিড বিদেশি চ্যানেল বন্ধ রাখার পরিপ্রেক্ষিতে আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে কোয়াব নেতারা এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে কোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘সরকার যে অর্ডার দিয়েছে, আমরা সেটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি। তথ্য মন্ত্রণালয় আমাদের অভিভাবক। কেব্‌ল অপারেটরদের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রীর কাছে বিনীত আবেদন করছি, ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া কমপ্লিট না হওয়া পর্যন্ত অন্তত যেসব বিদেশি চ্যানেলগুলো বন্ধ আছে, সেই চ্যানেলগুলো যেন আমরা পুনরায় সচল করতে পারি, সে ব্যাপারে যেন তিনি একটা উদ্যোগ গ্রহণ করেন।’

২০০৬ সালের কেব্‌ল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনটি সংশোধনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২৫ বছরে তিলে তিলে গড়ে তোলা আমাদের এই কেব্‌ল ইন্ডাস্ট্রি। এখানে আমাদের চার লাখ মানুষের রুটিরুজির বিষয় জড়িত। ইউটিউবের রমরমা অবস্থা। যেসব বিদেশি চ্যানেল বাংলাদেশে বন্ধ হয়েছে, সেসব চ্যানেল তাদের প্রতিটি সিরিয়াল সঙ্গে সঙ্গে ইউটিউবে আপলোড করে দিচ্ছে। সেখানে কিন্তু বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন ইউটিউবে যাচ্ছে।

এই টাকাটা কিন্তু চলে যাচ্ছে ইউটিউব কোম্পানির কাছে। দেশের বাইরে থেকে অনেকগুলো অ্যাপস চলছে। হইচই, নেটফ্লিক্স, আমাজন, হট স্টার, জি-ফাইভ এরা কিন্তু বাংলাদেশ থেকে গ্রাহক নিচ্ছে। কোনো বৈধ উপায়ে তারা গ্রাহক নিচ্ছে না। এরা কিন্তু গ্রাহকের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে অনেক টাকা নিয়ে যাচ্ছে।’

কোয়াবের সাবেক সভাপতি এ বি এম সাইফুল হোসেন বলেন, শুধু ৩৪টি বাংলা চ্যানেল দিয়ে গ্রাহক ধরে রাখা সম্ভব নয়। দর্শকের বিনোদন চাহিদা পূরণ করার জন্য কেব্‌ল টিভি একমাত্র মাধ্যম না। এখন নেটফ্লিক্স, হইচই—এ রকম হাজারো প্ল্যাটফর্ম আছে, যার মাধ্যমে সম্প্রচার মাধ্যমের কনটেন্ট সরাসরি কাস্টমারের কাছে যাবে। ক্লিন ফিড বাস্তবায়ন করা কেব্‌ল অপারেটরদের পক্ষে সম্ভব নয়। ক্লিন ফিড তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন ব্রডকাস্টার ক্লিন করে সেই ফিডটাকে প্রবাহিত করবেন। সেটা যতক্ষণ পর্যন্ত না হবে, একজন কেব্‌ল অপারেটর হিসেবে কখনো আমি গ্রাহকের কাছে ক্লিন ফিড কনটেন্ট দিতে পারব না।’

বিদেশি সম্প্রচার মাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করার তথ্য জানিয়ে কোয়াব নেতা সাইফুল হোসেন বলেন, ‘ক্লিন ফিড আমরা অবশ্যই চাই। আমরা ক্লিন ফিডের বিপক্ষে না। আমরা ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছি, আইন অনুযায়ী আমাদের ক্লিন ফিড সরবরাহ করতে হবে। ক্লিন ফিড অনুষ্ঠান আমাদের কাছে সরবরাহ করা হোক। ডিস্ট্রিবিউটররা সে মোতাবেক ব্রডকাস্টারের সঙ্গে আলোচনা করেছে। আমি নিজেও ব্রডকাস্টারের সঙ্গে আলাপ করেছি।

বাংলাদেশের মার্কেটে ব্যবসার যে আকার, বাংলাদেশ থেকে যে রেভিনিউ (রাজস্ব) তারা পাচ্ছে, সেই প্রেক্ষাপটে ক্লিন ফিড কনটেন্ট সরবরাহ করা তাদের পক্ষে বাস্তবসম্মত নয়। যদি ডিজিটালাইজেশন বাস্তবায়ন হয়, তখন বাজারের আকার ৫০ গুণ বেশি বৃদ্ধি পাবে। তখন তারা ক্লিন ফিড কনটেন্ট দেবে। তখন আমরা তাদের পাল্টা প্রশ্ন করলাম, এটা আমার সরকারের আইন। আমাকে যদি বিজনেস করতে হয়, তাহলে ক্লিন ফিড করে বিজনেস করতে হবে। তখন তারা আমাদের বলেছে, আমাদের সময় দিতে হবে।

সময় এ জন্য দিতে হবে, করোনায় যন্ত্রাংশের স্বল্পতা আছে। ক্লিন ফিড বাস্তবায়ন করতে গেলে ৫০০, সাড়ে ৫০০ কন্ট্রোল রুমের যে বক্স সরবরাহ করা আছে, সেগুলো পরিবর্তন করতে হবে। স্যাটেলাইটের ফিড চেঞ্জ করতে হবে। এগুলো করতে সময় লাগবে। একটা যৌক্তিক সময় নির্ধারণের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। অন্যথায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটি যদি চলমান থাকে, তাহলে হয়তো আমাদের পক্ষে আর ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন কোয়াবের সাবেক মহাসচিব নিজাম উদ্দিন মাসুদ। সংবাদ সম্মেলনে শতাধিক কেব্‌ল অপারেটর ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে যাচ্ছে

বিদেশি চ্যানেল বন্ধ থাকলে গ্রাহক ইউটিউব, ফেসবুকনহ বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে চলে যাবে: কোয়াব

Update Time : ০৩:৩১:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অক্টোবর ২০২১

বাংলাদেশি ৩৪টি চ্যানেল দিয়ে কেব্‌ল অপারেটর সেবা চালু রাখলে গ্রাহক ধরে রাখা সম্ভব হবে না জানিয়ে কেব্‌ল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) বলেছে, গ্রাহকেরা তাদের নিজেদের স্বার্থে ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে চলে যাবেন।

কোয়াবের আশঙ্কা, এতে দ্রুত গ্রাহক কমার পাশাপাশি কেব্‌ল অপারেটর ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একপর্যায়ে তাঁদের পক্ষে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা দুরূহ হবে।

সরকারি সিদ্ধান্তে ক্লিন ফিড বিদেশি চ্যানেল বন্ধ রাখার পরিপ্রেক্ষিতে আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে কোয়াব নেতারা এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে কোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘সরকার যে অর্ডার দিয়েছে, আমরা সেটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি। তথ্য মন্ত্রণালয় আমাদের অভিভাবক। কেব্‌ল অপারেটরদের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রীর কাছে বিনীত আবেদন করছি, ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া কমপ্লিট না হওয়া পর্যন্ত অন্তত যেসব বিদেশি চ্যানেলগুলো বন্ধ আছে, সেই চ্যানেলগুলো যেন আমরা পুনরায় সচল করতে পারি, সে ব্যাপারে যেন তিনি একটা উদ্যোগ গ্রহণ করেন।’

২০০৬ সালের কেব্‌ল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনটি সংশোধনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২৫ বছরে তিলে তিলে গড়ে তোলা আমাদের এই কেব্‌ল ইন্ডাস্ট্রি। এখানে আমাদের চার লাখ মানুষের রুটিরুজির বিষয় জড়িত। ইউটিউবের রমরমা অবস্থা। যেসব বিদেশি চ্যানেল বাংলাদেশে বন্ধ হয়েছে, সেসব চ্যানেল তাদের প্রতিটি সিরিয়াল সঙ্গে সঙ্গে ইউটিউবে আপলোড করে দিচ্ছে। সেখানে কিন্তু বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন ইউটিউবে যাচ্ছে।

এই টাকাটা কিন্তু চলে যাচ্ছে ইউটিউব কোম্পানির কাছে। দেশের বাইরে থেকে অনেকগুলো অ্যাপস চলছে। হইচই, নেটফ্লিক্স, আমাজন, হট স্টার, জি-ফাইভ এরা কিন্তু বাংলাদেশ থেকে গ্রাহক নিচ্ছে। কোনো বৈধ উপায়ে তারা গ্রাহক নিচ্ছে না। এরা কিন্তু গ্রাহকের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে অনেক টাকা নিয়ে যাচ্ছে।’

কোয়াবের সাবেক সভাপতি এ বি এম সাইফুল হোসেন বলেন, শুধু ৩৪টি বাংলা চ্যানেল দিয়ে গ্রাহক ধরে রাখা সম্ভব নয়। দর্শকের বিনোদন চাহিদা পূরণ করার জন্য কেব্‌ল টিভি একমাত্র মাধ্যম না। এখন নেটফ্লিক্স, হইচই—এ রকম হাজারো প্ল্যাটফর্ম আছে, যার মাধ্যমে সম্প্রচার মাধ্যমের কনটেন্ট সরাসরি কাস্টমারের কাছে যাবে। ক্লিন ফিড বাস্তবায়ন করা কেব্‌ল অপারেটরদের পক্ষে সম্ভব নয়। ক্লিন ফিড তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন ব্রডকাস্টার ক্লিন করে সেই ফিডটাকে প্রবাহিত করবেন। সেটা যতক্ষণ পর্যন্ত না হবে, একজন কেব্‌ল অপারেটর হিসেবে কখনো আমি গ্রাহকের কাছে ক্লিন ফিড কনটেন্ট দিতে পারব না।’

বিদেশি সম্প্রচার মাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করার তথ্য জানিয়ে কোয়াব নেতা সাইফুল হোসেন বলেন, ‘ক্লিন ফিড আমরা অবশ্যই চাই। আমরা ক্লিন ফিডের বিপক্ষে না। আমরা ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছি, আইন অনুযায়ী আমাদের ক্লিন ফিড সরবরাহ করতে হবে। ক্লিন ফিড অনুষ্ঠান আমাদের কাছে সরবরাহ করা হোক। ডিস্ট্রিবিউটররা সে মোতাবেক ব্রডকাস্টারের সঙ্গে আলোচনা করেছে। আমি নিজেও ব্রডকাস্টারের সঙ্গে আলাপ করেছি।

বাংলাদেশের মার্কেটে ব্যবসার যে আকার, বাংলাদেশ থেকে যে রেভিনিউ (রাজস্ব) তারা পাচ্ছে, সেই প্রেক্ষাপটে ক্লিন ফিড কনটেন্ট সরবরাহ করা তাদের পক্ষে বাস্তবসম্মত নয়। যদি ডিজিটালাইজেশন বাস্তবায়ন হয়, তখন বাজারের আকার ৫০ গুণ বেশি বৃদ্ধি পাবে। তখন তারা ক্লিন ফিড কনটেন্ট দেবে। তখন আমরা তাদের পাল্টা প্রশ্ন করলাম, এটা আমার সরকারের আইন। আমাকে যদি বিজনেস করতে হয়, তাহলে ক্লিন ফিড করে বিজনেস করতে হবে। তখন তারা আমাদের বলেছে, আমাদের সময় দিতে হবে।

সময় এ জন্য দিতে হবে, করোনায় যন্ত্রাংশের স্বল্পতা আছে। ক্লিন ফিড বাস্তবায়ন করতে গেলে ৫০০, সাড়ে ৫০০ কন্ট্রোল রুমের যে বক্স সরবরাহ করা আছে, সেগুলো পরিবর্তন করতে হবে। স্যাটেলাইটের ফিড চেঞ্জ করতে হবে। এগুলো করতে সময় লাগবে। একটা যৌক্তিক সময় নির্ধারণের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। অন্যথায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটি যদি চলমান থাকে, তাহলে হয়তো আমাদের পক্ষে আর ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন কোয়াবের সাবেক মহাসচিব নিজাম উদ্দিন মাসুদ। সংবাদ সম্মেলনে শতাধিক কেব্‌ল অপারেটর ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।