মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বেড়েই চলেছে তেলের দাম। সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের নভেম্বরের ফিউচার ১ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৫৬ ডলারে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও এক শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ৫৭ ডলারে পৌঁছেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে অঞ্চলটির তেল সরবরাহ ও অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত থাকায় বাজারে এই চাপ তৈরি হয়েছে।
সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমাতে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলাদাভাবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, নিউইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
এই আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয় কি না, তা এখন বিশ্ববাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভিটি মার্কেটস দুবাইয়ের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক মাহমুদ মাশাল বলেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে পারে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি অবকাঠামো ও তেল পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ এখনো কাটেনি। সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায়
এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বিশেষ করে, নজর রয়েছে হরমুজ প্রণালির দিকে। মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হতো।
তাই হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
আলোচনা কতটা প্রভাব ফেলবে বাজারে
সংঘাত বন্ধের উদ্যোগ এগিয়ে গেলে তেলের বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমতে পারে। তখন অপরিশোধিত তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বাড়লে তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।
শনিবার তেহরানের শর্তসাপেক্ষে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: সিএনবিসি
আন্তজার্তিক ডেস্ক 















