নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন শত শত বিদেশি পর্যটক।
নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে মৃতের এই সংখ্যা জানিয়েছে বিবিসি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এই তুষারধস ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে।
এদিকে নেপাল পর্যটন বোর্ড সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, ৬১ জন নেপালি ও ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ৪০৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এতে বলা হয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২০০ জন নারী এবং ২০৩ জন পুরুষ। জানা গেছে, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকরা ২৬টি ভিন্ন দেশের নাগরিক। এর মধ্যে ভারত থেকে ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্য থেকে ৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এক বিবৃতিতে পর্যটন বোর্ড জানায়, সীমান্তের উভয় পাশেই জোরদার অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে অবস্থানরত বা সেখান দিয়ে ভ্রমণরত পর্যটকদের নিরাপত্তা ও বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।
একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ‘কল্পনার অতীত’। এটি ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর নেপালের সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়। ওই ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এছাড়া রসুয়া জেলায় নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ সদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীও জানিয়েছে, তাদের সাত সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্যোগকবলিত এলাকায় হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্য মোতায়েন করেছে নেপাল সেনাবাহিনী। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ‘ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।’
কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থের বরাত দিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে- প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, একটি বরফধসের কারণে লেন্দে নদীর গতিপথ আটকে যায়। এর জের ধরেই ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। ভোতেকোশি লেন্দে নদীরই একটি উপনদী।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, নেপাল সীমান্তেই মূলত ভূমিধসের ঘটনাটি ঘটেছে। এটি জিরং বন্দরে আঘাত হানে। এতে নেপাল সীমান্তবর্তী শিগাতসে অঞ্চলে সড়ক, যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এখনো উদ্ধার অভিযান চলমান। যাচাই করা ভিডিওতে সীমান্ত এলাকায় বহু মানুষকে পানির স্রোতে ভেসে যেতে দেখা গেছে। দুই দেশের কর্তৃপক্ষই আশঙ্কা করছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।নেপালে ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিদ্যুৎ প্রকল্প পানির স্রোতে ভেসে গেছে।
তিব্বতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী গিরং এলাকায় ভূমিধসের পর ‘বড় ধরনের প্রাণহানির’ আশঙ্কা রয়েছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বুধবার দেশটির পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, ওই এলাকায় একটি ভূমিকম্পের কারণে তুষারধস বা পাহাড়ধস সৃষ্টি হয়ে বন্যার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
চীন-নেপাল সীমান্তের নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে তারা এখনো কোনো স্পষ্ট হিসাব জানাতে পারেননি।
ভোটকোশী নদীর তীরের রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার বেশ কয়েকটি জনবসতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলাকাগুলো জনবিরল হলেও সেখানকার সড়কগুলো নেপাল-চীন বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রধান রুট। জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, মহাসড়ক এবং সেতু সহ ওই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধসে পড়েছে।