দুদনি ধরে উত্তর প্রদেশের সঞ্জয় কুমার তার বয়স্ক মায়ের জন্য টিকা খুঁজছেন। তিনটি প্রাইভেট হাসপাতালে গেলে তাকে বলা হয়েছে ভ্যাকসিন নেই।
সমাজ বিজ্ঞানী সঞ্জয় বিবিসিকে বলেছেন, ‘তিনটি হাসপাতালে গিয়েও আমি ভ্যাকসিন পাইনি। তারা বলছে আউট অব ডোজেস।’
ভারতকে বলা হয় ভ্যাকসিনের পাওয়ার হাউজ। তাদের সেরামের মতো বড় ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান পৃথিবীতে আর নেই। সেই তারা ভ্যাকসিন সংকটে পড়ায় অন্য দেশগুলোর চিন্তা বাড়ছে।
ভারত গত কয়েক মাসে তাদের স্বাস্থ্যকর্মী এবং জরুরি কাজে নিয়োজিতদের ভ্যাকসিন দিয়েছে। বাংলাদেশে যেমন অনেক সাধারণ মানুষ ভ্যাকসিন পেয়েছেন, ভারতে সেটি এখনো সম্ভব হয়নি।
মহারাষ্ট্রে করোনা রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই রাজ্য সরকার বলছে তাদের কাছে ১.৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন আছে, যা দিয়ে মাত্র তিন দিন চলবে। প্রায় একই অবস্থা অন্য রাজ্যগুলোতেও।
এমন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন সরবরাহে বিলম্বের অভিযোগ এনে সেরাম ইনস্টিটিউটকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে যুক্তরাজ্যের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা। প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সেরামের পক্ষ থেকে এই নোটিশ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, দ্রুত সংকটের অবসান হবে বলে তারা আশাবাদী।
সেরামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আদর পুনেওয়ালা বলেছেন, ‘ভারত সরকার এই আইনি নোটিশের বিষয়ে বিস্তারিত জানে। এটি গোপন একটি নোটিশ, এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না। তবে সরকারের সাহায্যে আইনি জটিলতা কাটানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভারতে সরবরাহের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণেই অন্য দেশে সরবরাহে দেরি হচ্ছে। আশা করি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’
তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ ভ্যাকসিনের চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সরবরাহে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সবারই পরিস্থিতি বোঝা দরকার। ভারত সরকার দ্রুতই এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হবে বলে মনে করেন তিনি।
আন্তজার্তিক ডেস্ক 






















