ঢাকা ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আন্দোলন কতদিন চলবে, যা বলছে ককরোচ পার্টি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে হোটেলকক্ষের গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করুন মোবাইল দিয়েই গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করেছে জামায়াত ফরিদপুরে যাত্রা শুরু করল ‘পেয়ালা ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ ফরিদপুরে নারীর মানসিক স্বাস্থ্য: সচেতনতা, সহমর্মিতা ও করণীয় বিষয়ক নন্দিতা সুরক্ষার কর্মশালা অনুষ্ঠিত মেসিকে নিয়ে আবারও নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করলেন আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় তিন ধাপ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ আমূল বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ ওঠা নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে আন্দোলন তীব্র হচ্ছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পাটনা, সুরাট এবং লখনউসহ একাধিক বড় শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা গেছে।

একদিকে বিরোধীরা ও কাকরচ জনতা পার্টি (সিজেপি) রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছে, অন্যদিকে কেন্দ্র সরকার বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনার বার্তা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।  সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ভালো দিকে এগোচ্ছে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পড়েছেন চরম বেকায়দায়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী বাসভবনের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে বসার অপরাধে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে আটক করেছিল পুলিশ। নিট কাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের কঠোর প্রতিবাদ জানান তারা। এই ঘটনার পরেই রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে ওঠে এবং আন্দোলন রাজধানী ছাড়িয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিরোধী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রায় ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মহারাষ্ট্রে বিশিষ্ট মারাঠা আন্দোলনকারী মনোজ জারাঙ্গে পাতিল সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা ও নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করে এই আন্দোলনের প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। পাটনা, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও সুরাটেও বিক্ষোভকারীরা রাজপথে নেমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

উত্তরপ্রদেশের লখনউতে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সংঘাত দেখা গেছে, যেখানে বিজেপি এবং কংগ্রেস মুখোমুখি প্রতিবাদ মিছিল করেছে। উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাইয়ের নেতৃত্বে দলের কর্মীরা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বাসভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রতি দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ জানান তারা।

পুলিশ পথ অবরুদ্ধ করলে কংগ্রেস কর্মীরা ধর্নায় বসেন, যার পর অজয় রাই সহ একাধিক নেতাকে আটক করা হয়। পাল্টা প্রতিবাদে নামেন বিজেপি কর্মীরাও। রাজ্য বিজেপি প্রধান পঙ্কজ চৌধুরী কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কাজের অভিযোগ এনে পাল্টা মিছিল বের করেন।

এদিকে দিল্লির রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই বিষয়টি গড়িয়েছে আইনি লড়াইয়ে। ২০ জুলাই সিজেপির প্রতিবাদে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে দায়ের হওয়া তিনটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে নোটিশ জারি করেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ পুলিশি পদক্ষেপের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, বডি-ক্যামেরার রেকর্ডিং এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রমাণ নিরাপদে সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত জানিয়েছে, জমায়েত বেআইনি হলেও বলপ্রয়োগের আগে আইনি নিয়মকানুন মেনে চলা পুলিশের দায়িত্ব ছিল। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয়

নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে

Update Time : ০২:২৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ ওঠা নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে আন্দোলন তীব্র হচ্ছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পাটনা, সুরাট এবং লখনউসহ একাধিক বড় শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা গেছে।

একদিকে বিরোধীরা ও কাকরচ জনতা পার্টি (সিজেপি) রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছে, অন্যদিকে কেন্দ্র সরকার বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনার বার্তা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।  সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ভালো দিকে এগোচ্ছে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পড়েছেন চরম বেকায়দায়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী বাসভবনের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে বসার অপরাধে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে আটক করেছিল পুলিশ। নিট কাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের কঠোর প্রতিবাদ জানান তারা। এই ঘটনার পরেই রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে ওঠে এবং আন্দোলন রাজধানী ছাড়িয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিরোধী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রায় ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মহারাষ্ট্রে বিশিষ্ট মারাঠা আন্দোলনকারী মনোজ জারাঙ্গে পাতিল সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা ও নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করে এই আন্দোলনের প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। পাটনা, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও সুরাটেও বিক্ষোভকারীরা রাজপথে নেমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

উত্তরপ্রদেশের লখনউতে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সংঘাত দেখা গেছে, যেখানে বিজেপি এবং কংগ্রেস মুখোমুখি প্রতিবাদ মিছিল করেছে। উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাইয়ের নেতৃত্বে দলের কর্মীরা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বাসভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রতি দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ জানান তারা।

পুলিশ পথ অবরুদ্ধ করলে কংগ্রেস কর্মীরা ধর্নায় বসেন, যার পর অজয় রাই সহ একাধিক নেতাকে আটক করা হয়। পাল্টা প্রতিবাদে নামেন বিজেপি কর্মীরাও। রাজ্য বিজেপি প্রধান পঙ্কজ চৌধুরী কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কাজের অভিযোগ এনে পাল্টা মিছিল বের করেন।

এদিকে দিল্লির রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই বিষয়টি গড়িয়েছে আইনি লড়াইয়ে। ২০ জুলাই সিজেপির প্রতিবাদে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে দায়ের হওয়া তিনটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে নোটিশ জারি করেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ পুলিশি পদক্ষেপের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, বডি-ক্যামেরার রেকর্ডিং এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রমাণ নিরাপদে সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত জানিয়েছে, জমায়েত বেআইনি হলেও বলপ্রয়োগের আগে আইনি নিয়মকানুন মেনে চলা পুলিশের দায়িত্ব ছিল। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।