ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
কঙ্গোয় ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া পিছিয়ে থেকেও দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে মিশর আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়া ম্যাচের সম্ভাব্য ফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে অপ্টা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খোলার অনুরোধ তারেক রহমানের মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আজকের নামাজের সময়সূচি: ২২ জুন ২০২৬ আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা

যুদ্ধবিরতি আলোচনার মাঝেও গাজায় তাণ্ডবের মাত্রা কমায়নি ইসরায়েল; প্রাণ গেছে আরও ৮২ ফিলিস্তিনির

যুদ্ধবিরতি আলোচনার মাঝেও গাজায় তাণ্ডবের মাত্রা কমায়নি ইসরায়েল। ২৪ ঘণ্টায় টার্গেট করা হয়েছে উপত্যকার শতাধিক স্থান। প্রাণ গেছে আরও ৮২ ফিলিস্তিনির।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) এই প্রতিবেদনে উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি হামলায় মোট ৮২ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান হামলায় বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে অন্তত ৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজা সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী আলজাজিরার খবরে এসব জানানো হয়। এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে।

মানবিক সহায়তার অভাব ও সহিংস পরিস্থিতির মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি নতুন চুক্তি হয়েছে। চুক্তির আওতায় গাজায় জরুরি খাদ্য ও জ্বালানি প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৫ জন ছিলেন দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি খাদ্য সরবরাহের জন্য লাইনে অপেক্ষা করা নারী ও শিশু। তাদের মধ্যে ৯ জন শিশু ও ৪ জন নারী ছিলেন। এই হামলায় আরও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সহায়তা চাইতে এসে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ অমানবিক। গাজায় শিশুরা প্রতিদিন নৃশংস বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে। সহায়তার অনুপস্থিতিতে তারা অনাহারে ভুগছে, বাড়ছে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি।’

তিনি ইসরায়েলের প্রতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা দেখানোর আহ্বান জানান এবং এই হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

এদিকে হামাস এই হামলাকে ‘গাজায় চলমান গণহত্যা অভিযানের অংশ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সংগঠনটি বলছে, ইসরায়েল এখন স্কুল, সড়ক, আশ্রয়কেন্দ্রসহ বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত হামলা চালাচ্ছে, যা জাতিগত নির্মূলের শামিল।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হওয়ার পর গাজায় ইসরায়েল সামরিক অভিযান শুরু করে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে কমপক্ষে ৫৭ হাজার ৭৬২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৫৬ জন আহত হয়েছেন।

Tag :

কঙ্গোয় ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে

যুদ্ধবিরতি আলোচনার মাঝেও গাজায় তাণ্ডবের মাত্রা কমায়নি ইসরায়েল; প্রাণ গেছে আরও ৮২ ফিলিস্তিনির

Update Time : ০৩:৪৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

যুদ্ধবিরতি আলোচনার মাঝেও গাজায় তাণ্ডবের মাত্রা কমায়নি ইসরায়েল। ২৪ ঘণ্টায় টার্গেট করা হয়েছে উপত্যকার শতাধিক স্থান। প্রাণ গেছে আরও ৮২ ফিলিস্তিনির।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) এই প্রতিবেদনে উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি হামলায় মোট ৮২ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান হামলায় বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে অন্তত ৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজা সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী আলজাজিরার খবরে এসব জানানো হয়। এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে।

মানবিক সহায়তার অভাব ও সহিংস পরিস্থিতির মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি নতুন চুক্তি হয়েছে। চুক্তির আওতায় গাজায় জরুরি খাদ্য ও জ্বালানি প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৫ জন ছিলেন দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি খাদ্য সরবরাহের জন্য লাইনে অপেক্ষা করা নারী ও শিশু। তাদের মধ্যে ৯ জন শিশু ও ৪ জন নারী ছিলেন। এই হামলায় আরও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সহায়তা চাইতে এসে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ অমানবিক। গাজায় শিশুরা প্রতিদিন নৃশংস বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে। সহায়তার অনুপস্থিতিতে তারা অনাহারে ভুগছে, বাড়ছে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি।’

তিনি ইসরায়েলের প্রতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা দেখানোর আহ্বান জানান এবং এই হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

এদিকে হামাস এই হামলাকে ‘গাজায় চলমান গণহত্যা অভিযানের অংশ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সংগঠনটি বলছে, ইসরায়েল এখন স্কুল, সড়ক, আশ্রয়কেন্দ্রসহ বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত হামলা চালাচ্ছে, যা জাতিগত নির্মূলের শামিল।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হওয়ার পর গাজায় ইসরায়েল সামরিক অভিযান শুরু করে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে কমপক্ষে ৫৭ হাজার ৭৬২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৫৬ জন আহত হয়েছেন।