ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ১১:০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৬২ Time View

রাজশাহীর পবা উপজেলায় একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাড়িটির আলাদা দুই ঘরে ঝুলছিল মরদেহগুলো। এর মধ্যে এক ঘরে ঝুলছিল মা-মেয়ে, আর অন্য ঘরে ঝুলছিল বাবা-ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বামুনশিকড় এলাকায় ঘটেছে হৃদয় বিদারক এ ঘটনা। মতিহার থানা পুলিশের সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) কালাম পারভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নিহতরা হলেন- মিনারুল ইসলাম (৩০), তার স্ত্রী সাধিনা বেগম (২৮), ছেলে মাহিম (১৩), মেয়ে মিথিলা (১৮ মাস)। মাহিম খড়খড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করেত।

আবদুল মালেক নামে স্থানীয় একজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিনারুল ইসলাম কৃষি কাজ করেন। ঋণ জর্জরিত ছিলেন তিনি। তারা মাটির ঘরে বসবাস করেন। পরিবারে চারজন সদস্যই মারা গেছে। এরমধ্যে উত্তরের ঘরে মা ও মেয়ে, আর দক্ষিণের ঘরে ছেলে ও বাবা মিনারুল ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল।

উদ্ধারকৃত চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আমি নিজ হাতে সবাইকে মারলাম। এই কারণে যে, আমি যদি মরে যাই, তাহলে আমার ছেলে-মেয়ে কার আশায় বেঁচে থাকবে। কষ্ট আর দুঃখ ছাড়া কিছুই পাবে না। আমরা মরে গেলাম ঋণের বোঝা নিয়ে আর খাওয়ার অভাবে। তাই আমরা বেঁচে থাকার চেয়ে মরে গেলাম, সেই ভালো। কারো কাছে কিছুই চাইতে হবে না। আমার জন্য কাউকে কারো কাছে ছোট হতে হবে না। আমার জন্য আমার বাবা অনেক লোকের কাছে ছোট হয়েছে। আর হতে হবে না। চিরদিনের জন্য চলে গেলাম। আমি চাই সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।’

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, মরদেহের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে সেটা নিহত মিনারুলের লেখা। তবে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Tag :

রাজশাহীর একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার

Update Time : ১১:০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫

রাজশাহীর পবা উপজেলায় একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাড়িটির আলাদা দুই ঘরে ঝুলছিল মরদেহগুলো। এর মধ্যে এক ঘরে ঝুলছিল মা-মেয়ে, আর অন্য ঘরে ঝুলছিল বাবা-ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বামুনশিকড় এলাকায় ঘটেছে হৃদয় বিদারক এ ঘটনা। মতিহার থানা পুলিশের সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) কালাম পারভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নিহতরা হলেন- মিনারুল ইসলাম (৩০), তার স্ত্রী সাধিনা বেগম (২৮), ছেলে মাহিম (১৩), মেয়ে মিথিলা (১৮ মাস)। মাহিম খড়খড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করেত।

আবদুল মালেক নামে স্থানীয় একজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিনারুল ইসলাম কৃষি কাজ করেন। ঋণ জর্জরিত ছিলেন তিনি। তারা মাটির ঘরে বসবাস করেন। পরিবারে চারজন সদস্যই মারা গেছে। এরমধ্যে উত্তরের ঘরে মা ও মেয়ে, আর দক্ষিণের ঘরে ছেলে ও বাবা মিনারুল ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল।

উদ্ধারকৃত চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আমি নিজ হাতে সবাইকে মারলাম। এই কারণে যে, আমি যদি মরে যাই, তাহলে আমার ছেলে-মেয়ে কার আশায় বেঁচে থাকবে। কষ্ট আর দুঃখ ছাড়া কিছুই পাবে না। আমরা মরে গেলাম ঋণের বোঝা নিয়ে আর খাওয়ার অভাবে। তাই আমরা বেঁচে থাকার চেয়ে মরে গেলাম, সেই ভালো। কারো কাছে কিছুই চাইতে হবে না। আমার জন্য কাউকে কারো কাছে ছোট হতে হবে না। আমার জন্য আমার বাবা অনেক লোকের কাছে ছোট হয়েছে। আর হতে হবে না। চিরদিনের জন্য চলে গেলাম। আমি চাই সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।’

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, মরদেহের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে সেটা নিহত মিনারুলের লেখা। তবে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।