ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার রোডম্যাপ জানাবেন শেখ হাসিনা বাল্টিক অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ন্যাটোকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি : ১ অক্টোবর ২০২৬ ফরিদপুরে দুর্গাপূজায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: শতভাগ সিসিটিভি ক্যামেরা নিশ্চিত করার নির্দেশ পুলিশ সুপারের মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন ফাতিমা জাহরা প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন বিকেলে আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি :৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘সর্বাত্মক লকডাউন’ আরো এক সপ্তাহ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় পরামর্শক কমিটি

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ আরো এক সপ্তাহ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় পরামর্শক কমিটি। যদিও এ নিয়ে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে সোমবার (১৯ এপ্রিল) সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।
সোমবার (১৯ এপ্রিল) সকালে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আরো এক সপ্তাহ সর্বাত্মক লকডাউন রাখার পরামর্শ দিয়ে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সরকারের কাছে। চলমান লকডাউনের বিষয়ে পর্যালোচনা সভার পর পরবর্তী বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এর আগে গতকাল (১৮ এপ্রিল) রাতে কারিগরি কমিটির দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতেও লকডাউন বাড়ানোর বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ৩১তম সভা জুমের মাধ্যমে ১৮ এপ্রিল রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা। সভার শুরুতে কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত হয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয় ও পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো হয়। সভায় কমিটির সব সদস্যদের উপস্থিতিতে বিস্তারিত আলোচনা শেষে নিচের সুপারিশসমূহ গৃহীত হয়।
এতে বলা হয়, সভায় সংক্রমণের অবস্থা ও প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সারাদেশে কোভিড-১৯ এর উচ্চ সংক্রমণ ও ক্রমবর্ধমান মৃত্যুতে সভা উদ্বেগ প্রকাশ করে। জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি কমপক্ষে দুই সপ্তাহের জন্য পূর্ণ লকডাউন সুপারিশ করেছিল। সরকার ইতোমধ্যে ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করেছে। কমিটি এতে সন্তোষ প্রকাশ করে। যদিও বৈজ্ঞানিকভাবে দুই সপ্তাহের কম লকডাউনে কার্যকর ফলাফল আশা করা যায়না। দেশের অর্থনীতি সচল রাখার স্বার্থে শিল্প-কলকারখানা খোলা রাখার বিষয়টি কমিটি উপলব্ধি করে। তবে, বেসরকারি দপ্তর, ব্যাংক খোলা রাখা, ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল, ইফতার বাজারে অনাকাঙ্খিত ও অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ভিড় লকডাউনের সাফল্যকে অনিশ্চিত করে। পাশাপাশি সভা সামাজিক সমতার বিষয়েও নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
স্বাস্থ্য, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য জরুরি সেবা ছাড়া সব কিছু বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কমিটি খোলা রাখা জরুরি সেবার তালিকা প্রকাশ করার অনুরোধ করে। অন্যথায় বিরূপ পরিস্থিতির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। উদাহারণ হিসেবে চলমান লকডাউন এ চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিউটির জন্য চলাচলে বাধা ও অনাকাঙ্খিত ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়। কাঁচা বাজার উন্মুক্ত স্থানে স্থাপনের প্রস্তাব আবারও দেওয়া হয়। কমিটি আরো এক সপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউনের সুপারিশ করে। পরবর্তী সময়ে সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগে সংক্রমণের হার বিবেচনা করে আবার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। ধীরে ধীরে লকডাউন শেষ করার পূর্ব পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সভায় ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতাল চালু হওয়ায় সরকারকে অভিনন্দন জানানো হয়। রোগী ভর্তির বাড়তি চাপ থাকায় অতি দ্রুত আরো সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
Tag :

ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

‘সর্বাত্মক লকডাউন’ আরো এক সপ্তাহ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় পরামর্শক কমিটি

Update Time : ০৫:০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ আরো এক সপ্তাহ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় পরামর্শক কমিটি। যদিও এ নিয়ে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে সোমবার (১৯ এপ্রিল) সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।
সোমবার (১৯ এপ্রিল) সকালে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আরো এক সপ্তাহ সর্বাত্মক লকডাউন রাখার পরামর্শ দিয়ে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সরকারের কাছে। চলমান লকডাউনের বিষয়ে পর্যালোচনা সভার পর পরবর্তী বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এর আগে গতকাল (১৮ এপ্রিল) রাতে কারিগরি কমিটির দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতেও লকডাউন বাড়ানোর বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ৩১তম সভা জুমের মাধ্যমে ১৮ এপ্রিল রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা। সভার শুরুতে কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত হয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয় ও পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো হয়। সভায় কমিটির সব সদস্যদের উপস্থিতিতে বিস্তারিত আলোচনা শেষে নিচের সুপারিশসমূহ গৃহীত হয়।
এতে বলা হয়, সভায় সংক্রমণের অবস্থা ও প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সারাদেশে কোভিড-১৯ এর উচ্চ সংক্রমণ ও ক্রমবর্ধমান মৃত্যুতে সভা উদ্বেগ প্রকাশ করে। জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি কমপক্ষে দুই সপ্তাহের জন্য পূর্ণ লকডাউন সুপারিশ করেছিল। সরকার ইতোমধ্যে ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করেছে। কমিটি এতে সন্তোষ প্রকাশ করে। যদিও বৈজ্ঞানিকভাবে দুই সপ্তাহের কম লকডাউনে কার্যকর ফলাফল আশা করা যায়না। দেশের অর্থনীতি সচল রাখার স্বার্থে শিল্প-কলকারখানা খোলা রাখার বিষয়টি কমিটি উপলব্ধি করে। তবে, বেসরকারি দপ্তর, ব্যাংক খোলা রাখা, ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল, ইফতার বাজারে অনাকাঙ্খিত ও অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ভিড় লকডাউনের সাফল্যকে অনিশ্চিত করে। পাশাপাশি সভা সামাজিক সমতার বিষয়েও নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
স্বাস্থ্য, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য জরুরি সেবা ছাড়া সব কিছু বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কমিটি খোলা রাখা জরুরি সেবার তালিকা প্রকাশ করার অনুরোধ করে। অন্যথায় বিরূপ পরিস্থিতির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। উদাহারণ হিসেবে চলমান লকডাউন এ চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিউটির জন্য চলাচলে বাধা ও অনাকাঙ্খিত ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়। কাঁচা বাজার উন্মুক্ত স্থানে স্থাপনের প্রস্তাব আবারও দেওয়া হয়। কমিটি আরো এক সপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউনের সুপারিশ করে। পরবর্তী সময়ে সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগে সংক্রমণের হার বিবেচনা করে আবার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। ধীরে ধীরে লকডাউন শেষ করার পূর্ব পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সভায় ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতাল চালু হওয়ায় সরকারকে অভিনন্দন জানানো হয়। রোগী ভর্তির বাড়তি চাপ থাকায় অতি দ্রুত আরো সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়।