সাগরে দুই নৌকায় ভাসতে থাকা এক হাজার ২০০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে ইতালির উপকূলরক্ষী বাহিনী। সোমবার ইতালির উপকূলের কাছ থেকে এই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্ধারের তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গত কয়েক দিনে উত্তর আফ্রিকা থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকারী অভিবাসীর সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। রয়টার্স বলছে, ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের ক্যালাব্রিয়া উপকূলের আইওনিয়ান সাগরে অন্তত ৪০০ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে বহনকারী একটি নৌকা ভাসছে। এর আগে এই নৌকাটিকে মাল্টিজের পানিতে দেখা যায়।
ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে সম্প্রতি উত্তর আফ্রিকা থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার হার বেড়েছে। সাধারণত, ইউরোপে আসার জন্য ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার সময় বিপদে পড়া মানুষদের সহায়তা করে অ্যালার্ম ফোন।
এক টুইটে সংস্থাটি রোববার জানায়, লিবিয়ার তবরুক থেকে রওয়ানা হওয়া জাহাজটি থেকে রাতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জাহাজটি এখন মাল্টার ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এরিয়া’ এসএআর-এ আছে।
জার্মান এনজিও সি-ওয়াচ ইন্টারন্যাশনাল এক টুইটবার্তায় ওই নৌকাটি খুঁজে পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তারা আরও জানায়, সেটির আশেপাশে দুটি জাহাজ রয়েছে। তবে নৌকাটি উদ্ধার না করতে ওই দুই জাহাজকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একটি জাহাজকে শুধু জ্বালানি দিয়ে সেটিকে সহায়তা করতে বলেছে মাল্টা।
অ্যালার্ম ফোন বলছে, নৌকায় অবস্থান করা মানুষগুলো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কয়েকজনের চিকিৎসা সেবা দরকার। নৌকাটিতে জ্বালানির অভাব দেখা দিয়েছে। নিচতলায় পানি উঠে গেছে। মাঝি চলে যাওয়ায় সেটি নিয়ন্ত্রণের কেউ নেই। ফলে যেকোনো সময় ডুবে যেতে পারে।
আরেক জার্মান এনজিও রেস্কশিপ এএফপিকে জানিয়েছে, ইতালি ও তিউনিশিয়ার মধ্যবর্তী ভূমধ্যসাগরে একটি নৌকা ডুবে গেছে। এতে অন্তত দুজন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ আছেন আরও ২০ জন।
রেস্কশিপের উদ্ধারকারী জাহাজ ‘নাদির’ ২২ জনকে উদ্ধার করেছে। তাদের ইতালির লাম্পেডুসা দ্বীপে নেয়া হয়েছে। জাহাজের ক্যাপ্টেন ইঙ্গো ভেয়ার্থ বলেন, উদ্ধার ব্যক্তিরা ক্যামেরুন, আইভরিকোস্ট ও মালির নাগরিক। সেই তালিকায় পুরুষ, নারী ও শিশু রয়েছে।
সোমবার ইতালির উপকূলরক্ষী বাহিনী সিসিলি দ্বীপের সিরাকুসা থেকে ১২০ মাইল দক্ষিণ-পূর্ব দিকের সাগরে অপর এক অভিযানে ৮০০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে বহনকারী একটি মাছ ধরার নৌকাকে সহায়তা দিয়েছে।
এক বিবৃতিতে উপকূলরক্ষী বাহিনী বলেছে, নৌকায় বিপুল সংখ্যক যাত্রী থাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা জটিল হয়ে পড়েছে।
উপকূলরক্ষী বাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, বৈরী পরিস্থিতিতে উপকূল থেকে অনেক দূরে চলমান এই দু’টি অভিযান শেষ করতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে। এই দুই অভিযানের আগে গত শুক্রবার থেকে এখন পর্যন্ত ইতালির উপকূলরক্ষী বাহিনী অন্তত ২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে।
আন্তজার্তিক ডেস্ক 
















