স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীর আয়োজনে যোগ দিতে নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারী আগামীকাল সোমবার ঢাকায় আসছেন। নেপালের কোনো রাষ্ট্রপতির এটাই প্রথম বাংলাদেশ সফর।
সোমবার সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে তার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন। এ সময় তাকে গার্ড অব অনারও দেয়া হবে।
সফরে বিদ্যা দেবীর সঙ্গে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব ছাড়াও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা থাকবেন।
সফরের প্রথমদিন বিমানবন্দর থেকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন নেপালের প্রেসিডেন্ট। ওই দিনই হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এদিন বিকেলে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন বিদ্যা ভান্ডারী। সেখানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও থাকবেন।
সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন নেপালের প্রেসিডেন্ট। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের উপস্থিতিতে কয়েকটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পরে বঙ্গভবনে নৈশভোজে অংশ নেবেন নেপালের প্রেসিডেন্ট। দরবার হলে ওই নৈশভোজের আগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে।
২৩ মার্চ নেপালে কাঠমাণ্ডুতে ফিরে যাওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারী।
নেপালের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরকালে দুদেশের মধ্যে কয়েকটি চুক্তি সই হবে। তার মধ্যে আছে পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও কৃষি খাতে সহযোগিতা চুক্তি। এসব চুক্তি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে আলোচনা করা হবে।
বিদ্যা দেবীর জন্ম ১৯৬১ সালে ভোজপুর জেলায়। ১৯৭০ সালের পরে তিনি বাম ঘরানার ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৮০-৮১ সালের মধ্যে তিনি কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (সিপিএন-মাওবাদী) সদস্য হন। আশির দশকে দলের সদস্য মদন কুমারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। মদন কুমার পরবর্তীতে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। তার সময়েই সিপিএন জোট বাঁধে কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (লেনিনবাদী) সঙ্গে। তখন থেকে দলের নাম হয় সিপিএন-ইউএমএল। ১৯৯৩ সালে কাঠমান্ডু- ১ আসনের সংসদ সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কৃষ্ণ প্রসাদ ভাট্টারিয়াকে পরাজিত করে উপনির্বাচনে ওই আসনে বিজয়ী হন বিদ্যা। ২০০৯-১১ সাল পর্যন্ত মাধব কুমারের নেতৃত্বাধীন সরকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন বিদ্যা। সর্বশেষ নেপালের সংবিধান রচনায় যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল তার সদস্যও ছিলেন ইউএমএলের এই নেতা।
অনলাইন ডেস্ক 












