ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল: হোয়াইট হাউস ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো যুক্তরাষ্ট্র অধিকৃত পশ্চিম তীরের গাজার মতো সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান ইসরায়েলি নিরাপত্তামন্ত্রী কে হতে যাচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি আগামী রবিবার সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়বেন জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের দল নয়, আমরা মানুষ আমাদেরও ভুল ত্রুটি হয়: শফিকুর রহমান পদত্যাগপত্রে কি লিখেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

পদ্মায় ভেসে বাংলাদেশে ঢুকেছে মহাআতঙ্ক ‘রাসেল ভাইপার’

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০৩:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ অগাস্ট ২০২১
  • ৩৭৬ Time View

বিষধর সাপগুলোর একটি রাসেল ভাইপার। বিপন্ন তালিকায় থাকা এই সাপটির দেখা মিলছে পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলা ও চরগুলোতে। ধারণা করা হচ্ছে, ভারত থেকে পদ্মায় ভেসে বাংলাদেশে ঢুকেছে এই মহাআতঙ্ক।

পাবনা সদর ও ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে বিষাক্ত রাসেল ভাইপার সাপের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন পদ্মার চরের ফসলের মাঠ, ঝোপ-ঝাড় এমনকি বসতবাড়িতেও দেখা মিলছে বিশ্বের অন্যতম বিষাক্ত এই সাপ।

মূলত রাসেল ভাইপারের বাস চরাঞ্চলে। কিন্তু চর ডুবে যাওয়ায় রাসেল ভাইপার আশ্রয় নিয়েছে পাড়ে। খাবারের খোঁজে অনেক সময় চলে আসছে বসতবাড়ির আশপাশে।

বিষধর এই সাপের সঙ্গে সাক্ষাত হচ্ছে মানুষের। এতে আতঙ্কিত পদ্মাপাড়ের লোকজন। গত কয়েকদিনে অন্তত শতাধিক রাসেল ভাইপার পিটিয়ে মেরেছেন তারা।

জানা গেছে, বিশ্বের পাঁচ নম্বর ভয়ংকর বিষধর সাপ রাসেল ভাইপার। শুধু তাই নয়, কামড়ের ক্ষিপ্রগতির দিক দিয়ে সব সাপকে হারিয়ে প্রথম স্থানে রাসেল ভাইপার। এ ছাড়া বিশ্বে দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ বিষদাঁত রাসেল ভাইপারের। এই সাপের বিষ ‘হেমোটক্সিন’ হওয়ায় মাংস পঁচে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাসেল ভাইপার আতঙ্কে অনেকেই নিজেদের প্রয়োজনীয় কাজে যেতে পারছেন না। এমনকি জেলেদের জালেও প্রতিনিয়ত ধরা পড়ছে রাসেল ভাইপার।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জেনেটিক বিভাগের অধ্যাপক আবু রেজা বলেন, বিষধর প্রজাতির সাপগুলো সাধারণত চরের বালুতে বসবাস করে। এখন চর ডুবে গেছে। তাই বন্যার পানিতে ভেসে নদীর তীরবর্তী পাড়ে আশ্রয় নিচ্ছে। এই মুহূর্তে পদ্মাপাড়ে বসবাসরতদের সাবধানে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

স্থানীয় কৃষক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, চরে নতুন নতুন পোকা-মাকড়সহ বিভিন্ন জাতের সাপের দেখা মিলছে। গত বছর বিষধর পোকা দেখা দিয়েছিল এবার সাপের দেখা মিলছে। সম্প্রতি এই চরে কাজে এসে বেশ কয়েকজন সাপের কামড়ের শিকার হয়েছে বলে জানান তারা।

সাপ গবেষক ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেনম রিসার্চ সেন্টারের প্রশিক্ষক বোরহান বিশ্বাস রোমন বলেন, গত চার দিনে ১৬৩টি সাপ মারার ঘটনা শুনেছি। এর মধ্যে ১০৭টি হচ্ছে রাসেল ভাইপার। বাকিগুলো ক্রেইট ও কোবরা জাতের সাপ। সাপ নিধন না করে নিজেদের সাবধানে থাকার আহ্বান জানান এই গবেষক। তিনি বলেন, পদ্মার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে সাপগুলো আবার তাদের নিজেদের পছন্দের জায়গায় ফিরে যাবে।

Tag :
জনপ্রিয়

দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে

পদ্মায় ভেসে বাংলাদেশে ঢুকেছে মহাআতঙ্ক ‘রাসেল ভাইপার’

Update Time : ০১:০৩:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ অগাস্ট ২০২১

বিষধর সাপগুলোর একটি রাসেল ভাইপার। বিপন্ন তালিকায় থাকা এই সাপটির দেখা মিলছে পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলা ও চরগুলোতে। ধারণা করা হচ্ছে, ভারত থেকে পদ্মায় ভেসে বাংলাদেশে ঢুকেছে এই মহাআতঙ্ক।

পাবনা সদর ও ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে বিষাক্ত রাসেল ভাইপার সাপের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন পদ্মার চরের ফসলের মাঠ, ঝোপ-ঝাড় এমনকি বসতবাড়িতেও দেখা মিলছে বিশ্বের অন্যতম বিষাক্ত এই সাপ।

মূলত রাসেল ভাইপারের বাস চরাঞ্চলে। কিন্তু চর ডুবে যাওয়ায় রাসেল ভাইপার আশ্রয় নিয়েছে পাড়ে। খাবারের খোঁজে অনেক সময় চলে আসছে বসতবাড়ির আশপাশে।

বিষধর এই সাপের সঙ্গে সাক্ষাত হচ্ছে মানুষের। এতে আতঙ্কিত পদ্মাপাড়ের লোকজন। গত কয়েকদিনে অন্তত শতাধিক রাসেল ভাইপার পিটিয়ে মেরেছেন তারা।

জানা গেছে, বিশ্বের পাঁচ নম্বর ভয়ংকর বিষধর সাপ রাসেল ভাইপার। শুধু তাই নয়, কামড়ের ক্ষিপ্রগতির দিক দিয়ে সব সাপকে হারিয়ে প্রথম স্থানে রাসেল ভাইপার। এ ছাড়া বিশ্বে দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ বিষদাঁত রাসেল ভাইপারের। এই সাপের বিষ ‘হেমোটক্সিন’ হওয়ায় মাংস পঁচে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাসেল ভাইপার আতঙ্কে অনেকেই নিজেদের প্রয়োজনীয় কাজে যেতে পারছেন না। এমনকি জেলেদের জালেও প্রতিনিয়ত ধরা পড়ছে রাসেল ভাইপার।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জেনেটিক বিভাগের অধ্যাপক আবু রেজা বলেন, বিষধর প্রজাতির সাপগুলো সাধারণত চরের বালুতে বসবাস করে। এখন চর ডুবে গেছে। তাই বন্যার পানিতে ভেসে নদীর তীরবর্তী পাড়ে আশ্রয় নিচ্ছে। এই মুহূর্তে পদ্মাপাড়ে বসবাসরতদের সাবধানে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

স্থানীয় কৃষক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, চরে নতুন নতুন পোকা-মাকড়সহ বিভিন্ন জাতের সাপের দেখা মিলছে। গত বছর বিষধর পোকা দেখা দিয়েছিল এবার সাপের দেখা মিলছে। সম্প্রতি এই চরে কাজে এসে বেশ কয়েকজন সাপের কামড়ের শিকার হয়েছে বলে জানান তারা।

সাপ গবেষক ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেনম রিসার্চ সেন্টারের প্রশিক্ষক বোরহান বিশ্বাস রোমন বলেন, গত চার দিনে ১৬৩টি সাপ মারার ঘটনা শুনেছি। এর মধ্যে ১০৭টি হচ্ছে রাসেল ভাইপার। বাকিগুলো ক্রেইট ও কোবরা জাতের সাপ। সাপ নিধন না করে নিজেদের সাবধানে থাকার আহ্বান জানান এই গবেষক। তিনি বলেন, পদ্মার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে সাপগুলো আবার তাদের নিজেদের পছন্দের জায়গায় ফিরে যাবে।