ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
‘ফেসবুক থেকে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করতে আইন সংশোধন হচ্ছে’ ফরিদপুরে বিসিআইসি বাফার গুদামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন চৌধুরী নায়াব ইউসুফ নয়া দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৪ দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন শুরু দেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে একদিনে ৮ শিশুর মৃত্যু প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে চার নতুন বিষয় হামে শিশু মৃত্যু: ইউনূস ও নূর জাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেননি আদালত হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ইরান থেকে নতুন করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের ভূখণ্ডের দিকে শনাক্ত: : আইডিএফ রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ব্যারেলপ্রতি তিন ডলারেরও বেশি বেড়ে গেছে

আগামী বছরের শুরুতেই ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে ইউনিক আইডি দেয়া হবে

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিন্ন পরিচয়পত্র প্রদানের প্রকল্প নেয়া হয়েছে অনেক আগেই। করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণে স্থবির ছিলো এ কার্যক্রম। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আগামী বছরের শুরুতেই ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে অভিন্ন পরিচয়পত্র (ইউনিক আইডি) দেয়া হবে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা  এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে ইউনিক আইডি প্রকল্প পরিচালক শামছুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ শেষ পর্যয়ে আছে। আমরা হার্ডকপি সংগ্রহ করছি। আগামী সপ্তাহ থেকে সফটওয়্যারে এসব তথ্য এন্ট্রি দেয়া শুরু হবে। তিনি আশা করেন জানুয়ারির শুরুতে শিক্ষার্থীর হাতে ইউনিক আইডি তুলে দেয়া হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ইউনিক আইডিতে ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে অপশন ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য উল্লেখ করার পাশাপাশি ‘নট এ বিলিভার’ ও ‘রিফিউজ টু ডিসক্লোজ’ অপশন রাখা হয়েছে। এছাড়া জেন্ডার সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ইতোপূর্বে ‘লিঙ্গ’ শব্দটি ব্যবহার করা হলেও এবার ‘জেন্ডার’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে। এবং অপশন হিসেবে পুরুষ ও নারীর পাশাপাশি ‘অন্যান্য’ যুক্ত করা হয়েছে। ইউনিক আইডিতে ১০ বা ১৬ ডিজিটের শিক্ষার্থী শনাক্ত নম্বর যুক্ত থাকবে। পরে ডেটাবেসে যুক্ত এসব তথ্য ওই শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ফলে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সময় আলাদা করে তথ্য সংগ্রহ করার প্রয়োজন হবে না।

নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ভোগান্তিতে অভিভাবকরা :

রাজধানীর রায়ের বাজারের শাপলা একাডেমী স্কুল। ৭ম শ্রেণির বাচ্চার ইউনিক আইডির কাগজপত্র নিয়ে স্কুলে এসেছেন অভিভাবক রেবেকা পারভীন। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়, শিক্ষার্থীর ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে অভিভাবকের জন্মনিবন্ধন লাগবে। তা না হলে তাকে ইউনিক আইডির কাগজ জমা নেয়া হবে না। একাধিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক  অভিযোগ করে বলেন, বাচ্চার ইউনিক আইডির জন্য জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ভোগান্তি চরমে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারছে না।

তুহিন ফারহানা নামের এক অভিভাবক বলেন, বাচ্চার ইউনিক আইডির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাবা মায়ের জন্মনিবন্ধন চাওয়া হচ্ছে। আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর আছেই। তবে কেন জন্মনিবন্ধন লাগবে?

ইউনিক আইডি প্রকল্প পরিচালক মো. শামছুল আরেফিন বলেন, যেসব শিক্ষার্থীর ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন আছে তাদের অভিভাবকদের শুধু এনআইডি থাকলেই হবে। তবে যেসব বাচ্চার ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন নেই সেসব বাচ্চার অভিভাবকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও জন্মনিবন্ধন দুটোই লাগবে।

ইউনিক আইডির জন্য কাজ করছে তিনটি সংস্থা:

শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি নিয়ে কাজ করছে সরকারের তিনটি সংস্থা। সংস্থা তিনটি হলো নির্বাচন কমিশনের এনআইডি, রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন (ওআরজি) এবং বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস)।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের কিছু কারিগরি ত্রুটি রয়ে গেছে। এই সমস্যা না থাকলে যে সিস্টেম ডেভোলপ করা হয়েছে তাতে ডাটা এন্ট্রির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা ইউআইডি পেয়ে যেতো। ইউনিক আইডি সরবরাহ করবে এনআইডি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কারিগরি ত্রুটি ও সমন্বয়হীনতার কারণে এ কাজে সময় লাগছে।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক শামছুল আলম বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সমস্যাটির দ্রুত সমাধান হলে ডিসেম্বরেও শিক্ষার্থীদের ইউআইডি দেয়া যেতো। তবে আমরা আশা করছি সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী জানুয়ারিতেই শিক্ষার্থীদের হাতে তা তুলে দেয়া হবে।

Tag :

‘ফেসবুক থেকে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করতে আইন সংশোধন হচ্ছে’

আগামী বছরের শুরুতেই ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে ইউনিক আইডি দেয়া হবে

Update Time : ০৪:৪১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অক্টোবর ২০২১

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিন্ন পরিচয়পত্র প্রদানের প্রকল্প নেয়া হয়েছে অনেক আগেই। করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণে স্থবির ছিলো এ কার্যক্রম। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আগামী বছরের শুরুতেই ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে অভিন্ন পরিচয়পত্র (ইউনিক আইডি) দেয়া হবে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা  এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে ইউনিক আইডি প্রকল্প পরিচালক শামছুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ শেষ পর্যয়ে আছে। আমরা হার্ডকপি সংগ্রহ করছি। আগামী সপ্তাহ থেকে সফটওয়্যারে এসব তথ্য এন্ট্রি দেয়া শুরু হবে। তিনি আশা করেন জানুয়ারির শুরুতে শিক্ষার্থীর হাতে ইউনিক আইডি তুলে দেয়া হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ইউনিক আইডিতে ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে অপশন ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য উল্লেখ করার পাশাপাশি ‘নট এ বিলিভার’ ও ‘রিফিউজ টু ডিসক্লোজ’ অপশন রাখা হয়েছে। এছাড়া জেন্ডার সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ইতোপূর্বে ‘লিঙ্গ’ শব্দটি ব্যবহার করা হলেও এবার ‘জেন্ডার’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে। এবং অপশন হিসেবে পুরুষ ও নারীর পাশাপাশি ‘অন্যান্য’ যুক্ত করা হয়েছে। ইউনিক আইডিতে ১০ বা ১৬ ডিজিটের শিক্ষার্থী শনাক্ত নম্বর যুক্ত থাকবে। পরে ডেটাবেসে যুক্ত এসব তথ্য ওই শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ফলে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সময় আলাদা করে তথ্য সংগ্রহ করার প্রয়োজন হবে না।

নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ভোগান্তিতে অভিভাবকরা :

রাজধানীর রায়ের বাজারের শাপলা একাডেমী স্কুল। ৭ম শ্রেণির বাচ্চার ইউনিক আইডির কাগজপত্র নিয়ে স্কুলে এসেছেন অভিভাবক রেবেকা পারভীন। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়, শিক্ষার্থীর ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে অভিভাবকের জন্মনিবন্ধন লাগবে। তা না হলে তাকে ইউনিক আইডির কাগজ জমা নেয়া হবে না। একাধিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক  অভিযোগ করে বলেন, বাচ্চার ইউনিক আইডির জন্য জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ভোগান্তি চরমে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারছে না।

তুহিন ফারহানা নামের এক অভিভাবক বলেন, বাচ্চার ইউনিক আইডির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাবা মায়ের জন্মনিবন্ধন চাওয়া হচ্ছে। আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর আছেই। তবে কেন জন্মনিবন্ধন লাগবে?

ইউনিক আইডি প্রকল্প পরিচালক মো. শামছুল আরেফিন বলেন, যেসব শিক্ষার্থীর ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন আছে তাদের অভিভাবকদের শুধু এনআইডি থাকলেই হবে। তবে যেসব বাচ্চার ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন নেই সেসব বাচ্চার অভিভাবকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও জন্মনিবন্ধন দুটোই লাগবে।

ইউনিক আইডির জন্য কাজ করছে তিনটি সংস্থা:

শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি নিয়ে কাজ করছে সরকারের তিনটি সংস্থা। সংস্থা তিনটি হলো নির্বাচন কমিশনের এনআইডি, রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন (ওআরজি) এবং বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস)।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের কিছু কারিগরি ত্রুটি রয়ে গেছে। এই সমস্যা না থাকলে যে সিস্টেম ডেভোলপ করা হয়েছে তাতে ডাটা এন্ট্রির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা ইউআইডি পেয়ে যেতো। ইউনিক আইডি সরবরাহ করবে এনআইডি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কারিগরি ত্রুটি ও সমন্বয়হীনতার কারণে এ কাজে সময় লাগছে।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক শামছুল আলম বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সমস্যাটির দ্রুত সমাধান হলে ডিসেম্বরেও শিক্ষার্থীদের ইউআইডি দেয়া যেতো। তবে আমরা আশা করছি সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী জানুয়ারিতেই শিক্ষার্থীদের হাতে তা তুলে দেয়া হবে।