নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে বিকেলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে নতুন কোনো প্রস্তাব দেবে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির সার্চ কমিটি গঠন এবং তাদের দেয়া নাম যাচাই-বাছাই করে ইসি গঠনকে গণতান্ত্রিক পন্থা হিসেবে দেখছে দলটি। সার্চ কমিটিতেও অধ্যাপক, সাংবিধানিক পদধারী আপিল বিভাগের একজন বিচারক, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী, একজন নারী সদস্যকে রাখার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব রাখবেন তারা। তবে বিশেষ কোনো নাম প্রস্তাব করা হবে না বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক শীর্ষ নেতা। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের ৩ উপধারায় বলা আছে, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া অন্য সব সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। সে অনুযায়ী ইসি গঠনেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করবেন রাষ্ট্রপতি। তাই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে বিশেষ কোনো প্রস্তাবের প্রয়োজনীয়তাও দেখছে না দলটি। তবে সংলাপে অংশ নিয়ে এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির যে কোনো সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন থাকার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানান তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য ভোরের কাগজকে বলেন, এবারো সার্চ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া গতবারের মতোই হতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারককে আহ্বায়ক করে এই কমিটিতে হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান, প্রধান হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) থাকতে পারেন। এছাড়া কমিটিতে দুজন বিশিষ্ট নাগরিকও থাকবেন, এর মধ্যে একজন নারী।
আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন- সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আব্দুর রহমান।
প্রসঙ্গত, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির। আগে রাষ্ট্রপতি সরাসরি ইসি গঠন করে দিতেন। কিন্তু বিগত দুটি ইসি সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠন করেছেন রাষ্ট্রপতি। এক্ষেত্রে সাচিবিক দায়িত্ব পালন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সার্চ কমিটির সদস্যদের সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি পদের বিপরীতে ২ ব্যক্তির নাম সুপারিশ করা হয়। রাষ্ট্রপতি তাদের মধ্য থেকে এক জনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ৪ জনকে কমিশনার নিয়োগ দেন।
অনলাইন ডেস্ক 















