ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

রাশিয়া কৃষ্ণ সাগরের উপর ইউক্রেনের বন্দরগুলোকে মুক্ত না করলে লাখ লাখ মানুষ ক্ষুধায় মারা যেতে পারে: ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইতালি সতর্ক করে বলেছে যে, রাশিয়া কৃষ্ণ সাগরের উপর ইউক্রেনের বন্দরগুলোকে মুক্ত না করলে লাখ লাখ মানুষ ক্ষুধায় মারা যেতে পারেন।

ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইগি ডি মাইও বলেন, ‘শস্য রপ্তানি বন্ধ করার অর্থ হল- জিম্মি করা এবং লাখ লাখ শিশু, নারী ও পুরুষের মৃত্যুর কারণ সৃষ্টি করা।’ জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং ভূমধ্যসাগরীয় কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ মন্তব্য করেন। বুধবার বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

ডি মাইও যোগ করেন যে, আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে স্বাভাবিকভাবে খাদ্য রপ্তানি করতে না পারার কারণে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক উদ্বেগের সর্বশেষ প্রতিফলন তার এ কথায় উঠে এসেছে। তিনি বলেন, ‘আপনি যেমন শুনেছেন, দেশটি (ইউক্রেন) বিশ্বের শীর্ষ শস্য উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি।’

রাশিয়া অস্বীকার করে আসছে, ইউক্রেনে তাদের আক্রমণ বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের সৃষ্টি করেছে। এ প্রসঙ্গে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেনের বন্দরগুলোর চারপাশে যুদ্ধ পরিস্থিতি শিথিল করে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের সুযোগ করে দেয়াই এখন দ্বায়িত্ব।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। শুরুর দিকে দেশটির রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে থাকে রুশ বাহিনী। পরে কিয়েভের পাশ থেকে সেনাদের সরিয়ে নিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলে তাদের সামরিক শক্তি ও হামলা বাড়াতে শুরু করে। ইতোমধ্যে দোনবাসের অধিকাংশ এলাকা ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতছাড়া হয়েছে।

চলমান যুদ্ধে দুই পক্ষেরই সেনাদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। তবে ইউক্রেন বলছে, রুশ হামলায় তাদের বহু বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে ইউক্রেন ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছেন অর্ধকোটিরও বেশি মানুষ; অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরও লাখ লাখ মানুষ।

ইতোমধ্যে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ রুশ বাহিনীর হাতে চলে গেছে। এরমধ্যে বন্দরনগরী মারিউপোল অন্যতম। এ শহরটির নিয়ন্ত্রণ ইউক্রেনের হাতছাড়া হওয়াকে যুদ্ধে দেশটির বড় ধরনের হার হিসেবে দেখা হচ্ছে। শহরটিতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্টিল কারখানা। মারিউপোল দখলের পর প্রায় এক হাজার ইউক্রেনীয় সেনাকে আটক করে রাশিয়া।

Tag :

মার্কিন বাহিনীর বাগদাদ কিংবা তেহরান—কোথাও সামরিক অভিযানে যাওয়া ঠিক হয়নি: ট্রাম্প

রাশিয়া কৃষ্ণ সাগরের উপর ইউক্রেনের বন্দরগুলোকে মুক্ত না করলে লাখ লাখ মানুষ ক্ষুধায় মারা যেতে পারে: ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : ০৫:০৮:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুন ২০২২

ইতালি সতর্ক করে বলেছে যে, রাশিয়া কৃষ্ণ সাগরের উপর ইউক্রেনের বন্দরগুলোকে মুক্ত না করলে লাখ লাখ মানুষ ক্ষুধায় মারা যেতে পারেন।

ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইগি ডি মাইও বলেন, ‘শস্য রপ্তানি বন্ধ করার অর্থ হল- জিম্মি করা এবং লাখ লাখ শিশু, নারী ও পুরুষের মৃত্যুর কারণ সৃষ্টি করা।’ জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং ভূমধ্যসাগরীয় কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ মন্তব্য করেন। বুধবার বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

ডি মাইও যোগ করেন যে, আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে স্বাভাবিকভাবে খাদ্য রপ্তানি করতে না পারার কারণে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক উদ্বেগের সর্বশেষ প্রতিফলন তার এ কথায় উঠে এসেছে। তিনি বলেন, ‘আপনি যেমন শুনেছেন, দেশটি (ইউক্রেন) বিশ্বের শীর্ষ শস্য উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি।’

রাশিয়া অস্বীকার করে আসছে, ইউক্রেনে তাদের আক্রমণ বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের সৃষ্টি করেছে। এ প্রসঙ্গে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেনের বন্দরগুলোর চারপাশে যুদ্ধ পরিস্থিতি শিথিল করে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের সুযোগ করে দেয়াই এখন দ্বায়িত্ব।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। শুরুর দিকে দেশটির রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে থাকে রুশ বাহিনী। পরে কিয়েভের পাশ থেকে সেনাদের সরিয়ে নিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলে তাদের সামরিক শক্তি ও হামলা বাড়াতে শুরু করে। ইতোমধ্যে দোনবাসের অধিকাংশ এলাকা ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতছাড়া হয়েছে।

চলমান যুদ্ধে দুই পক্ষেরই সেনাদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। তবে ইউক্রেন বলছে, রুশ হামলায় তাদের বহু বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে ইউক্রেন ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছেন অর্ধকোটিরও বেশি মানুষ; অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরও লাখ লাখ মানুষ।

ইতোমধ্যে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ রুশ বাহিনীর হাতে চলে গেছে। এরমধ্যে বন্দরনগরী মারিউপোল অন্যতম। এ শহরটির নিয়ন্ত্রণ ইউক্রেনের হাতছাড়া হওয়াকে যুদ্ধে দেশটির বড় ধরনের হার হিসেবে দেখা হচ্ছে। শহরটিতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্টিল কারখানা। মারিউপোল দখলের পর প্রায় এক হাজার ইউক্রেনীয় সেনাকে আটক করে রাশিয়া।