ঢাকা ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ঈদুল আজহার আগে নখ ও চুল কাটা নিয়ে ইসলামি বিধান কী? দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাজুস ১৫ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের শাসন ক্ষমতায় ফের পালাবদল, সরকার গঠনের পথে বিজেপি নিজের আসনেই বড় ব্যবধানে হেরেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হরমুজ প্রণালিতে কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা হয়নি, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ফুটেছে ‘পদ্ম’: মোদি ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে রেকর্ড ১৭ শিশুর প্রাণহানি ফরিদপুরে দৈনিক ফতেহাবাদ পত্রিকার ১৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা বিজেপি এগিয়ে এক নজরে বিশ্ব সংবাদ: ৩ মে ২০২৬

গাজীপুর সিটি নির্বাচন আজমত, জাহাঙ্গীরসহ ১২ মেয়র প্রার্থী

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৩
  • ২২২ Time View
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানসহ মোট ১২ জন মেয়র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে নৌকার প্রার্থী আজমত উল্লাহ খান মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা কারাবন্দি নুরুল ইসলাম সরকারের ছেলে সরকার শাহনুর ইসলাম বেলা ১১টার দিকে এবং দুপুর ১টার দিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এসে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিকালে
মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বরখাস্তকৃত সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ও তার মা জায়েদা খাতুন। এর আগে গত বুধবার চারজন মেয়র প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তারা হলেন জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মহানগর কমিটির সভাপতি এমএম নিয়াজ উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপকমিটির সাবেক সদস্য ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল, গণফন্ট্রের মনোনীত প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হারুন অর রশীদসহ নির্বাচনে মোট ১২ জন মেয়র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
মেয়র পদে মোট ১৩ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত আজমতউল্লা খান, বরখাস্তকৃত মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, জাতীয় পার্টি মনোনীত এমএম নিয়াজ উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত গাজী আতাউর রহমান, গণফন্ট্রের আতিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল, সরকার শাহনুর ইসলাম রনি, রাজু আহমেদ, মো. আবুল হোসেন, মো. হারুন অর রশীদ, মোখলেচুর রহমান, জায়েদা খাতুন ও মো. অলিউর রহমান। এর মধ্যে মোখলেচুর রহমান নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেননি।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও গাজীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান জানান, মেয়র পদে ১২ জন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৮২ জন, ৫৭টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৯১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নির্বাচনে ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণের জন্য ৪৭৮টি কেন্দ্র, ৩৪৯১টি ভোটকক্ষ এবং ৪৮৬টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ থাকবে। নির্বাচনে ৪৭৮ জন প্রিজাইডিং অফিসার, তিন হাজার ৪৯১ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ছয় হাজার ৯৮২ জন পোলিং অফিসার থাকবেন।
এদিকে, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাবেক সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তার উপস্থিতিতে কয়েকজন সমর্থক রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এর আগে বেলা ৩টা ১১ মিনিটে মেয়র পদে মা জায়েদা খাতুনের নামে সংগ্রহ করা মনোনয়নপত্রও জমা দেন জাহাঙ্গীর। গত বুধবার জাহাঙ্গীর ও তার মায়ের জন্য কর্মীরা দুটি মনোনয়নপত্র তুলেছিলেন বলে জাহাঙ্গীর গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলামের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লাহ খান গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জাহাঙ্গীর আলমের প্রার্থী হওয়া নিয়ে বলেন, উনি (জাহাঙ্গীর আলম) নমিনেশন পেপার ক্রয় করেছেন। এটা আমি পত্রিকায় দেখেছি এবং ওনার মাও খরিদ করেছেন। উনি যেহেতু আওয়ামী লীগের কাছে মনোনয়ন চেয়েছেন, আমি বিশ্বাস করি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের প্রতি যদি ওনার আস্থা থাকে, দেশের উন্নতির প্রতি যদি উনার আস্থা থাকে, তাহলে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে উনি ওনার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তৃণমূল থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নৌকাকে বিজয়ী করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ মনোনীত এই প্রার্থী বলেন, আমার শক্তি জনগণ। আমি কাউকে প্রতিপক্ষ মনে করি না। নৌকার পক্ষে জনতা আছে, তাই আমি নৌকার প্রতিপক্ষ কাউকে মনে করি না।
এদিকে, আজমত উল্লাহ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর দুপুর সোয়া ১টার দিকে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান মেয়র পদে তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তিনি বলেন, আপনারা জানেন বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি গণমানুষের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা নেই। আজকে নির্বাচন কমিশন বলছে তারা পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে চায়। আমরা নির্বাচন কমিশনের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য নির্বাচনে এসেছি। আমরা নির্বাচন করছি মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের অংশ হিসেবে।
ইসলামী আন্দোলনের এই প্রার্থী আরো বলেন, অনেকেই ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন বর্জন করেছেন এবং আন্দোলন করছেন। আমরা তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তাদের আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তারা যেমন মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কথা বলছেন এবং আন্দোলন করছেন, আমরা মনে করছি বিনা চ্যালেঞ্জে কোনো নির্বাচন ছেড়ে দেওয়াটা আমাদের জন্য বোকামি হবে।
অপরদিকে, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, হয়তো কালকের পর আমার পায়ে শিকল পরাতে পারে, অ্যারেস্ট করতে পারে, গুমও করতে পারে। ষড়যন্ত্র করে না সরালে আমি নির্বাচন থেকে সরবো না। যদি আমার মৃত্যু হয়, তবে আপনারা আমার মায়ের পাশে থাকবেন।
তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে মেয়র পদে লড়তে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। আমি জানি, আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে। তবে আমার মায়ের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। আমার জীবন নাও থাকতে পারে। তবু আপনারা পাশে থাকুন।
জাহাঙ্গীরের উপস্থিতিতে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সাবেক সদস্য আসকর আলী, সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম এবং সাবেক গাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কাদির। এ সময় জাহাঙ্গীর আলম রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বসাছিলেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেরিয়ে বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামের গেটে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন জাহাঙ্গীর। নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকবেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা জানেন ২০১৮ সালে লাখ লাখ ভোটের ব্যবধানে মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর আমার বিরুদ্ধে কী কী হয়েছে, তা সবার জানা আছে। নগরবাসী আমাকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছিল। অথচ দায়িত্ব শেষ করতে পারিনি। কতগুলো ঘটনার মধ্য দিয়ে আজ এ অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছি, তা সবাই জানেন। যদি মানুষের উপকার করে থাকি, তাহলে সবার সহযোগিতা চাই। ষড়যন্ত্র করে না সরালে আমি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে লড়তে চাই।
জাহাঙ্গীর বলেন, এই নগরকে রক্ষা করতে হবে। তা না হলে কিছু লোক ধ্বংস করে দেবে। তারা ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। আমি পাঁচ বছরের জন্য মেয়র নির্বাচিত হয়েছি, এখনো কিন্তু পাঁচ বছর শেষ হয়নি। কাজেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ দায়িত্বশীল সবার কাছে অনুরোধ, আমাদের সহযোগিতা করুন।
একসঙ্গে নিজের এবং মায়ের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর বলেন, আমার প্রতি যে অন্যায়-অত্যাচার করা হয়েছে, সেজন্য মা পাশে দাঁড়িয়েছেন। সন্তান হিসেবে মাকে রক্ষার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত আছি। মা সবসময় এই নগরীর মানুষের জন্য কাজ করেছেন। মেয়র হওয়ার পর মা দেখেছেন, তার সন্তানের ওপর কীভাবে অত্যাচার করা হয়েছে। সেজন্য নির্বাচনে লড়ার কথা বলেছেন মা। মা এও বলেছেন, এই নগরীকে রক্ষা করতে হবে। তবে আমি আওয়ামী লীগে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। আমার কারণে দল যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা দেখবো। আজ মায়ের নির্দেশে তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। আমার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা।
নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা করে জাহাঙ্গীর বলেন, অনেকে মিথ্যাচার করতে পারে, আমাকে ফাঁসিয়ে দিতে পারে, অনেক কিছুই করতে পারে তারা। অন্যায়কারীরা যেভাবে নাটক সাজায়, সেভাবে টিকে থাকা কঠিন। হয়তো আপনাদের সামনে আর নাও আসতে পারি, এ জন্য বলে যাই, এই নগরীকে রক্ষায় আমি এবং আমার সমর্থকদের পাশে থাকুন। ভোট বড় কথা নয়, শহরটা রক্ষা করা হচ্ছে বড় কথা। একটা মিথ্যার জয় হয়ে গেছে, সত্যের এখানে পতন ঘটেছে। এই মিথ্যাকে যারা সত্য বানিয়েছে, আমি তাদের বিচার চাই।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চেয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। আমি একা। আমার ওপর থেকে সব ধরনের ছায়া সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর ছায়া, মায়ের ছায়া এবং নগরবাসীর ছায়া আমার ওপর আছে। সুষ্ঠু ভোটের আশায় এখানে দাঁড়িয়েছি। যদি কোনো অন্যায় করে থাকি তাহলে ভোটের মাধ্যমে বিচার করবে মানুষ। আর যদি ভালো কিছু করে থাকি তাহলে ভোটে জয়লাভ করবো। এই জয়টার অপেক্ষায় আছি।
ক্ষমতার অপব্যবহার, বিধিনিষেধ পরিপন্থি কার্যকলাপ, দুর্নীতি ও ইচ্ছাকৃত অপশাসনের অভিযোগে ২০২১ সালের নভেম্বরে গাজীপুর সিটির মেয়র পদ থেকে জাহাঙ্গীরকে সাময়িক বহিষ্কার করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এর আগে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়। পরে তাকে শর্তসাপেক্ষে ক্ষমাও করে আওয়ামী লীগ।
স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতার ছেলে রনি: এদিকে, গাজীপুরসহ তফসিল ঘোষিত সব সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। তবে, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে অবশেষে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারের ছেলে সরকার শাহ নূর ইসলাম রনি।
গাজীপুরে বিএনপিতে তাদের সরকার পরিবারের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। ফলে এই পরিবারের কেউ প্রার্থী হলে তিনি নির্বাচনের মাঠ গরম করতে পারবেন বলে মনে করেন তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী। গত নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন তার চাচা কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হাসান উদ্দিন সরকার।
বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলামের কাছে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি যেহেতু বিএনপি পরিবারের সন্তান। আমার চাচা, বাবা সবাই বিএনপি করেন। আমি ইতোমধ্যে অনেকগুলো উঠোন বৈঠক করেছি। তৃণমূল কর্মীদের সমর্থন পেয়েছি। যার কারণে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবো।
রনি আরো বলেন, আমার চাচা এই গাজীপুরের রূপকার। বাবা, চাচার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পরিবারের সদস্যদের ও সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। বিএনপি হয়তো নির্বাচনে আসছে না কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপির সমর্থন আমার প্রতি রয়েছে। আমি যেহেতু বিএনপি পরিবারের সন্তান এজন্য বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, আমার সঙ্গে সবাই থাকবেন। আমার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকা প্রার্থী আজমত উল্লাহ খানের সঙ্গে।
এদিকে, মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি সাবেক সচিব এমএম নিয়াজ উদ্দিন দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী, দুই মেয়ে, ছেলে ও ছোট ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের নিয়াজ উদ্দিন বলেন, আমি বিগত দিনে গাজীপুরের মানুষের জন্য কাজ করেছি। বিগত কয়েক নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। ওসব নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে অনীহা সৃষ্টি হয়েছে। আমি প্রত্যাশা করি, এবারের সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন। আশা করছি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো।
জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে এবং পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মিয়াসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী।
আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তিনি বলেন, পর পর দুবার বিপুল ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছি। তাছাড়া আমি পুরো মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছি। আমি মনে করি এ নির্বাচনে জনগণ আমাকে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করবে।
উল্লেখ্য, তফসিল অনুযায়ী এ নির্বাচনে প্রার্থীরা ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল করতে পারবেন। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ এপ্রিল, প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৮ মে। পরদিন ৯ মে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ এবং ২৫ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
Tag :
জনপ্রিয়

ঈদুল আজহার আগে নখ ও চুল কাটা নিয়ে ইসলামি বিধান কী?

গাজীপুর সিটি নির্বাচন আজমত, জাহাঙ্গীরসহ ১২ মেয়র প্রার্থী

Update Time : ০৪:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৩
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানসহ মোট ১২ জন মেয়র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে নৌকার প্রার্থী আজমত উল্লাহ খান মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা কারাবন্দি নুরুল ইসলাম সরকারের ছেলে সরকার শাহনুর ইসলাম বেলা ১১টার দিকে এবং দুপুর ১টার দিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এসে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিকালে
মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বরখাস্তকৃত সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ও তার মা জায়েদা খাতুন। এর আগে গত বুধবার চারজন মেয়র প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তারা হলেন জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মহানগর কমিটির সভাপতি এমএম নিয়াজ উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপকমিটির সাবেক সদস্য ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল, গণফন্ট্রের মনোনীত প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হারুন অর রশীদসহ নির্বাচনে মোট ১২ জন মেয়র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
মেয়র পদে মোট ১৩ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত আজমতউল্লা খান, বরখাস্তকৃত মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, জাতীয় পার্টি মনোনীত এমএম নিয়াজ উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত গাজী আতাউর রহমান, গণফন্ট্রের আতিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল, সরকার শাহনুর ইসলাম রনি, রাজু আহমেদ, মো. আবুল হোসেন, মো. হারুন অর রশীদ, মোখলেচুর রহমান, জায়েদা খাতুন ও মো. অলিউর রহমান। এর মধ্যে মোখলেচুর রহমান নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেননি।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও গাজীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান জানান, মেয়র পদে ১২ জন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৮২ জন, ৫৭টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৯১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নির্বাচনে ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণের জন্য ৪৭৮টি কেন্দ্র, ৩৪৯১টি ভোটকক্ষ এবং ৪৮৬টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ থাকবে। নির্বাচনে ৪৭৮ জন প্রিজাইডিং অফিসার, তিন হাজার ৪৯১ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ছয় হাজার ৯৮২ জন পোলিং অফিসার থাকবেন।
এদিকে, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাবেক সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তার উপস্থিতিতে কয়েকজন সমর্থক রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এর আগে বেলা ৩টা ১১ মিনিটে মেয়র পদে মা জায়েদা খাতুনের নামে সংগ্রহ করা মনোনয়নপত্রও জমা দেন জাহাঙ্গীর। গত বুধবার জাহাঙ্গীর ও তার মায়ের জন্য কর্মীরা দুটি মনোনয়নপত্র তুলেছিলেন বলে জাহাঙ্গীর গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলামের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লাহ খান গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জাহাঙ্গীর আলমের প্রার্থী হওয়া নিয়ে বলেন, উনি (জাহাঙ্গীর আলম) নমিনেশন পেপার ক্রয় করেছেন। এটা আমি পত্রিকায় দেখেছি এবং ওনার মাও খরিদ করেছেন। উনি যেহেতু আওয়ামী লীগের কাছে মনোনয়ন চেয়েছেন, আমি বিশ্বাস করি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের প্রতি যদি ওনার আস্থা থাকে, দেশের উন্নতির প্রতি যদি উনার আস্থা থাকে, তাহলে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে উনি ওনার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তৃণমূল থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নৌকাকে বিজয়ী করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ মনোনীত এই প্রার্থী বলেন, আমার শক্তি জনগণ। আমি কাউকে প্রতিপক্ষ মনে করি না। নৌকার পক্ষে জনতা আছে, তাই আমি নৌকার প্রতিপক্ষ কাউকে মনে করি না।
এদিকে, আজমত উল্লাহ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর দুপুর সোয়া ১টার দিকে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান মেয়র পদে তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তিনি বলেন, আপনারা জানেন বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি গণমানুষের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা নেই। আজকে নির্বাচন কমিশন বলছে তারা পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে চায়। আমরা নির্বাচন কমিশনের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য নির্বাচনে এসেছি। আমরা নির্বাচন করছি মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের অংশ হিসেবে।
ইসলামী আন্দোলনের এই প্রার্থী আরো বলেন, অনেকেই ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন বর্জন করেছেন এবং আন্দোলন করছেন। আমরা তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তাদের আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তারা যেমন মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কথা বলছেন এবং আন্দোলন করছেন, আমরা মনে করছি বিনা চ্যালেঞ্জে কোনো নির্বাচন ছেড়ে দেওয়াটা আমাদের জন্য বোকামি হবে।
অপরদিকে, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, হয়তো কালকের পর আমার পায়ে শিকল পরাতে পারে, অ্যারেস্ট করতে পারে, গুমও করতে পারে। ষড়যন্ত্র করে না সরালে আমি নির্বাচন থেকে সরবো না। যদি আমার মৃত্যু হয়, তবে আপনারা আমার মায়ের পাশে থাকবেন।
তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে মেয়র পদে লড়তে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। আমি জানি, আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে। তবে আমার মায়ের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। আমার জীবন নাও থাকতে পারে। তবু আপনারা পাশে থাকুন।
জাহাঙ্গীরের উপস্থিতিতে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সাবেক সদস্য আসকর আলী, সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম এবং সাবেক গাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কাদির। এ সময় জাহাঙ্গীর আলম রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বসাছিলেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেরিয়ে বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামের গেটে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন জাহাঙ্গীর। নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকবেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা জানেন ২০১৮ সালে লাখ লাখ ভোটের ব্যবধানে মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর আমার বিরুদ্ধে কী কী হয়েছে, তা সবার জানা আছে। নগরবাসী আমাকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছিল। অথচ দায়িত্ব শেষ করতে পারিনি। কতগুলো ঘটনার মধ্য দিয়ে আজ এ অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছি, তা সবাই জানেন। যদি মানুষের উপকার করে থাকি, তাহলে সবার সহযোগিতা চাই। ষড়যন্ত্র করে না সরালে আমি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে লড়তে চাই।
জাহাঙ্গীর বলেন, এই নগরকে রক্ষা করতে হবে। তা না হলে কিছু লোক ধ্বংস করে দেবে। তারা ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। আমি পাঁচ বছরের জন্য মেয়র নির্বাচিত হয়েছি, এখনো কিন্তু পাঁচ বছর শেষ হয়নি। কাজেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ দায়িত্বশীল সবার কাছে অনুরোধ, আমাদের সহযোগিতা করুন।
একসঙ্গে নিজের এবং মায়ের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর বলেন, আমার প্রতি যে অন্যায়-অত্যাচার করা হয়েছে, সেজন্য মা পাশে দাঁড়িয়েছেন। সন্তান হিসেবে মাকে রক্ষার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত আছি। মা সবসময় এই নগরীর মানুষের জন্য কাজ করেছেন। মেয়র হওয়ার পর মা দেখেছেন, তার সন্তানের ওপর কীভাবে অত্যাচার করা হয়েছে। সেজন্য নির্বাচনে লড়ার কথা বলেছেন মা। মা এও বলেছেন, এই নগরীকে রক্ষা করতে হবে। তবে আমি আওয়ামী লীগে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। আমার কারণে দল যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা দেখবো। আজ মায়ের নির্দেশে তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। আমার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা।
নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা করে জাহাঙ্গীর বলেন, অনেকে মিথ্যাচার করতে পারে, আমাকে ফাঁসিয়ে দিতে পারে, অনেক কিছুই করতে পারে তারা। অন্যায়কারীরা যেভাবে নাটক সাজায়, সেভাবে টিকে থাকা কঠিন। হয়তো আপনাদের সামনে আর নাও আসতে পারি, এ জন্য বলে যাই, এই নগরীকে রক্ষায় আমি এবং আমার সমর্থকদের পাশে থাকুন। ভোট বড় কথা নয়, শহরটা রক্ষা করা হচ্ছে বড় কথা। একটা মিথ্যার জয় হয়ে গেছে, সত্যের এখানে পতন ঘটেছে। এই মিথ্যাকে যারা সত্য বানিয়েছে, আমি তাদের বিচার চাই।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চেয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। আমি একা। আমার ওপর থেকে সব ধরনের ছায়া সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর ছায়া, মায়ের ছায়া এবং নগরবাসীর ছায়া আমার ওপর আছে। সুষ্ঠু ভোটের আশায় এখানে দাঁড়িয়েছি। যদি কোনো অন্যায় করে থাকি তাহলে ভোটের মাধ্যমে বিচার করবে মানুষ। আর যদি ভালো কিছু করে থাকি তাহলে ভোটে জয়লাভ করবো। এই জয়টার অপেক্ষায় আছি।
ক্ষমতার অপব্যবহার, বিধিনিষেধ পরিপন্থি কার্যকলাপ, দুর্নীতি ও ইচ্ছাকৃত অপশাসনের অভিযোগে ২০২১ সালের নভেম্বরে গাজীপুর সিটির মেয়র পদ থেকে জাহাঙ্গীরকে সাময়িক বহিষ্কার করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এর আগে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়। পরে তাকে শর্তসাপেক্ষে ক্ষমাও করে আওয়ামী লীগ।
স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতার ছেলে রনি: এদিকে, গাজীপুরসহ তফসিল ঘোষিত সব সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। তবে, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে অবশেষে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারের ছেলে সরকার শাহ নূর ইসলাম রনি।
গাজীপুরে বিএনপিতে তাদের সরকার পরিবারের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। ফলে এই পরিবারের কেউ প্রার্থী হলে তিনি নির্বাচনের মাঠ গরম করতে পারবেন বলে মনে করেন তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী। গত নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন তার চাচা কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হাসান উদ্দিন সরকার।
বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলামের কাছে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি যেহেতু বিএনপি পরিবারের সন্তান। আমার চাচা, বাবা সবাই বিএনপি করেন। আমি ইতোমধ্যে অনেকগুলো উঠোন বৈঠক করেছি। তৃণমূল কর্মীদের সমর্থন পেয়েছি। যার কারণে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবো।
রনি আরো বলেন, আমার চাচা এই গাজীপুরের রূপকার। বাবা, চাচার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পরিবারের সদস্যদের ও সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। বিএনপি হয়তো নির্বাচনে আসছে না কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপির সমর্থন আমার প্রতি রয়েছে। আমি যেহেতু বিএনপি পরিবারের সন্তান এজন্য বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, আমার সঙ্গে সবাই থাকবেন। আমার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকা প্রার্থী আজমত উল্লাহ খানের সঙ্গে।
এদিকে, মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি সাবেক সচিব এমএম নিয়াজ উদ্দিন দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী, দুই মেয়ে, ছেলে ও ছোট ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের নিয়াজ উদ্দিন বলেন, আমি বিগত দিনে গাজীপুরের মানুষের জন্য কাজ করেছি। বিগত কয়েক নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। ওসব নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে অনীহা সৃষ্টি হয়েছে। আমি প্রত্যাশা করি, এবারের সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন। আশা করছি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো।
জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে এবং পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মিয়াসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী।
আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তিনি বলেন, পর পর দুবার বিপুল ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছি। তাছাড়া আমি পুরো মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছি। আমি মনে করি এ নির্বাচনে জনগণ আমাকে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করবে।
উল্লেখ্য, তফসিল অনুযায়ী এ নির্বাচনে প্রার্থীরা ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল করতে পারবেন। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ এপ্রিল, প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৮ মে। পরদিন ৯ মে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ এবং ২৫ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।