ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এদেশের জনগণ। কোনো বিদেশি গোষ্ঠী নয়: লুৎফুজ্জামান বাবর

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:১১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ১৪০ Time View
বিএনপি নেতা, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আমরা কোনো বিদেশী শক্তির কাছে মাথা নত করবো না। আমাদের লড়াই শুধু স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে নয়। আমাদের লড়াই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই। যারা বিদেশী শক্তির দালালি করে, দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেয়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এদেশের জনগণ। কোনো বিদেশি গোষ্ঠী নয়।
আজ রবিবার বিকেলে নেত্রকোণা জেলা শহরের মোক্তারপাড়া মাঠে নেত্রকোণা জেলা বিএনপি আয়োজিত গণ সংবর্ধনা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আবেগাপ্লুত। দীর্ঘ ১৭ বছর কারাগারে কাটিয়ে আপনাদের মাঝে ফিরে এসেছি। আপনাদের ভালোবাসা, দোয়া এবং সমর্থন আমাকে এই দীর্ঘ পথ চলতে শক্তি যুগিয়েছে। আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আওয়ামী লীগ আমাকে মিথ্যা মামলা, ফাঁসির দন্ড ও অমানুষিক নির্যাতন করে দমিয়ে দিতে চেয়েছিল। তবুও আমি আপোষ কিংবা মাথানত করিনি। আমি সত্যের পথে ছিলাম, আছি এবং আগামী দিনেও থাকবো। ইনশাল্লাহ! আওয়ামী লীগ আমাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলো। আল্লাহর অশেষ রহমত ও আপনাদের ভালোবাসা আমাকে আপনাদের সামনে নিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে আমাকে সাজা দেয়। আমার পরিবারকে নিপীড়ন, ভয়ভীতি ও নানাভাবে হয়রানি করে। শুধু আমি নই, আমার দলের নেতাকর্মীরাও এই স্বৈরাচারী সরকারের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী গুম হয়েছেন, খুন হয়েছেন, কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন। তবুও আমাকে আদর্শ থেকে সরাতে পারেনি। পতিত সরকারের অত্যাচার নিপীড়নেও আমি মাথা নত করিনি, আপোষও করিনি। ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও সত্য কথা বলবো। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য জীবন উৎসর্গও করতে পারি। এদেশ আমাদের, এদেশের মালিক জনগণ। তাই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমার সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিলো আমি দিল্লীর আধিপত্যবাদকে ‘না’ বলেছিলাম। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমার অবস্থান ছিলো সর্বদা বাংলাদেশের পক্ষে। দিল্লীর আধিপত্যবাদের বিপক্ষে।
বাবর আরো বলেন, জুলাই-আগষ্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে। ছাত্র, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, শ্রমিক ও সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ফ্যাসিজমের প্রতীক হাসিনার পতন হয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ছাত্র-জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। যাদের নেতৃত্বে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। আপোষহীন নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজও গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে আছেন। তিনি জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে, শত নির্যাতন সয়ে, আপোষহীনভাবে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বেই আমরা নতুন বাংলাদেশ দেখবো “ইনশাআল্লাহ”। দেশ নায়ক তারেক রহমান প্রবাসে থেকেও দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দেশের মানুষের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ উচ্চ শিখরে পৌছাবে।
নেত্রকোণা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. মো. আনোয়ারুল হকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর সঞ্চালনায় এসময় আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট আরিফা জেসমিন নাহীন, নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খান, জেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নূরু, জেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহফুজুল হক, জেলা বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার, জেলা বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মজিবুর রহমান খান, তাজেজুল ইসলাম ফারাস সুজাত, এস এম মনিরুজ্জামান দুদু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান তালুকদার, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শফিকুল কাদেও সুজা, জেলা কৃষক দলের সভাপতি মো. সালাহ্উদ্দিন খান মিল্কী, জেলা বিএনপির যুবদলের সিনিয়র সহ- সভাপতি আব্দুল আল মামুন খান রনি, জেলা ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক অনিক মাহমুদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
Tag :
জনপ্রিয়

দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এদেশের জনগণ। কোনো বিদেশি গোষ্ঠী নয়: লুৎফুজ্জামান বাবর

Update Time : ০৫:১১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
বিএনপি নেতা, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আমরা কোনো বিদেশী শক্তির কাছে মাথা নত করবো না। আমাদের লড়াই শুধু স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে নয়। আমাদের লড়াই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই। যারা বিদেশী শক্তির দালালি করে, দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেয়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এদেশের জনগণ। কোনো বিদেশি গোষ্ঠী নয়।
আজ রবিবার বিকেলে নেত্রকোণা জেলা শহরের মোক্তারপাড়া মাঠে নেত্রকোণা জেলা বিএনপি আয়োজিত গণ সংবর্ধনা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আবেগাপ্লুত। দীর্ঘ ১৭ বছর কারাগারে কাটিয়ে আপনাদের মাঝে ফিরে এসেছি। আপনাদের ভালোবাসা, দোয়া এবং সমর্থন আমাকে এই দীর্ঘ পথ চলতে শক্তি যুগিয়েছে। আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আওয়ামী লীগ আমাকে মিথ্যা মামলা, ফাঁসির দন্ড ও অমানুষিক নির্যাতন করে দমিয়ে দিতে চেয়েছিল। তবুও আমি আপোষ কিংবা মাথানত করিনি। আমি সত্যের পথে ছিলাম, আছি এবং আগামী দিনেও থাকবো। ইনশাল্লাহ! আওয়ামী লীগ আমাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলো। আল্লাহর অশেষ রহমত ও আপনাদের ভালোবাসা আমাকে আপনাদের সামনে নিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে আমাকে সাজা দেয়। আমার পরিবারকে নিপীড়ন, ভয়ভীতি ও নানাভাবে হয়রানি করে। শুধু আমি নই, আমার দলের নেতাকর্মীরাও এই স্বৈরাচারী সরকারের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী গুম হয়েছেন, খুন হয়েছেন, কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন। তবুও আমাকে আদর্শ থেকে সরাতে পারেনি। পতিত সরকারের অত্যাচার নিপীড়নেও আমি মাথা নত করিনি, আপোষও করিনি। ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও সত্য কথা বলবো। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য জীবন উৎসর্গও করতে পারি। এদেশ আমাদের, এদেশের মালিক জনগণ। তাই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমার সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিলো আমি দিল্লীর আধিপত্যবাদকে ‘না’ বলেছিলাম। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমার অবস্থান ছিলো সর্বদা বাংলাদেশের পক্ষে। দিল্লীর আধিপত্যবাদের বিপক্ষে।
বাবর আরো বলেন, জুলাই-আগষ্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে। ছাত্র, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, শ্রমিক ও সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ফ্যাসিজমের প্রতীক হাসিনার পতন হয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ছাত্র-জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। যাদের নেতৃত্বে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। আপোষহীন নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজও গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে আছেন। তিনি জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে, শত নির্যাতন সয়ে, আপোষহীনভাবে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বেই আমরা নতুন বাংলাদেশ দেখবো “ইনশাআল্লাহ”। দেশ নায়ক তারেক রহমান প্রবাসে থেকেও দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দেশের মানুষের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ উচ্চ শিখরে পৌছাবে।
নেত্রকোণা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. মো. আনোয়ারুল হকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর সঞ্চালনায় এসময় আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট আরিফা জেসমিন নাহীন, নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খান, জেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নূরু, জেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহফুজুল হক, জেলা বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার, জেলা বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মজিবুর রহমান খান, তাজেজুল ইসলাম ফারাস সুজাত, এস এম মনিরুজ্জামান দুদু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান তালুকদার, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শফিকুল কাদেও সুজা, জেলা কৃষক দলের সভাপতি মো. সালাহ্উদ্দিন খান মিল্কী, জেলা বিএনপির যুবদলের সিনিয়র সহ- সভাপতি আব্দুল আল মামুন খান রনি, জেলা ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক অনিক মাহমুদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।