ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
বাইডেনের শরীরে কেবল ছড়িয়েই পড়েনি বরং বিভিন্ন অংশে মেটাস্টেসিস ঘটিয়েছে, ‘চরম যন্ত্রণায়’ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করল বিএনপি হরমুজ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে এবার ৬ শর্ত দিলো ইরান কক্সবাজারের মাতারবাড়ী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি: ৯ আগস্ট ২০২৬ সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে যাচ্ছে ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী একদিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

যুদ্ধবিরতি আলোচনার মাঝেও গাজায় তাণ্ডবের মাত্রা কমায়নি ইসরায়েল; প্রাণ গেছে আরও ৮২ ফিলিস্তিনির

যুদ্ধবিরতি আলোচনার মাঝেও গাজায় তাণ্ডবের মাত্রা কমায়নি ইসরায়েল। ২৪ ঘণ্টায় টার্গেট করা হয়েছে উপত্যকার শতাধিক স্থান। প্রাণ গেছে আরও ৮২ ফিলিস্তিনির।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) এই প্রতিবেদনে উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি হামলায় মোট ৮২ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান হামলায় বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে অন্তত ৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজা সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী আলজাজিরার খবরে এসব জানানো হয়। এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে।

মানবিক সহায়তার অভাব ও সহিংস পরিস্থিতির মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি নতুন চুক্তি হয়েছে। চুক্তির আওতায় গাজায় জরুরি খাদ্য ও জ্বালানি প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৫ জন ছিলেন দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি খাদ্য সরবরাহের জন্য লাইনে অপেক্ষা করা নারী ও শিশু। তাদের মধ্যে ৯ জন শিশু ও ৪ জন নারী ছিলেন। এই হামলায় আরও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সহায়তা চাইতে এসে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ অমানবিক। গাজায় শিশুরা প্রতিদিন নৃশংস বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে। সহায়তার অনুপস্থিতিতে তারা অনাহারে ভুগছে, বাড়ছে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি।’

তিনি ইসরায়েলের প্রতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা দেখানোর আহ্বান জানান এবং এই হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

এদিকে হামাস এই হামলাকে ‘গাজায় চলমান গণহত্যা অভিযানের অংশ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সংগঠনটি বলছে, ইসরায়েল এখন স্কুল, সড়ক, আশ্রয়কেন্দ্রসহ বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত হামলা চালাচ্ছে, যা জাতিগত নির্মূলের শামিল।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হওয়ার পর গাজায় ইসরায়েল সামরিক অভিযান শুরু করে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে কমপক্ষে ৫৭ হাজার ৭৬২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৫৬ জন আহত হয়েছেন।

Tag :

বাইডেনের শরীরে কেবল ছড়িয়েই পড়েনি বরং বিভিন্ন অংশে মেটাস্টেসিস ঘটিয়েছে, ‘চরম যন্ত্রণায়’ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট

যুদ্ধবিরতি আলোচনার মাঝেও গাজায় তাণ্ডবের মাত্রা কমায়নি ইসরায়েল; প্রাণ গেছে আরও ৮২ ফিলিস্তিনির

Update Time : ০৩:৪৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

যুদ্ধবিরতি আলোচনার মাঝেও গাজায় তাণ্ডবের মাত্রা কমায়নি ইসরায়েল। ২৪ ঘণ্টায় টার্গেট করা হয়েছে উপত্যকার শতাধিক স্থান। প্রাণ গেছে আরও ৮২ ফিলিস্তিনির।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) এই প্রতিবেদনে উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি হামলায় মোট ৮২ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান হামলায় বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে অন্তত ৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজা সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী আলজাজিরার খবরে এসব জানানো হয়। এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে।

মানবিক সহায়তার অভাব ও সহিংস পরিস্থিতির মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি নতুন চুক্তি হয়েছে। চুক্তির আওতায় গাজায় জরুরি খাদ্য ও জ্বালানি প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৫ জন ছিলেন দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি খাদ্য সরবরাহের জন্য লাইনে অপেক্ষা করা নারী ও শিশু। তাদের মধ্যে ৯ জন শিশু ও ৪ জন নারী ছিলেন। এই হামলায় আরও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সহায়তা চাইতে এসে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ অমানবিক। গাজায় শিশুরা প্রতিদিন নৃশংস বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে। সহায়তার অনুপস্থিতিতে তারা অনাহারে ভুগছে, বাড়ছে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি।’

তিনি ইসরায়েলের প্রতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা দেখানোর আহ্বান জানান এবং এই হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

এদিকে হামাস এই হামলাকে ‘গাজায় চলমান গণহত্যা অভিযানের অংশ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সংগঠনটি বলছে, ইসরায়েল এখন স্কুল, সড়ক, আশ্রয়কেন্দ্রসহ বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত হামলা চালাচ্ছে, যা জাতিগত নির্মূলের শামিল।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হওয়ার পর গাজায় ইসরায়েল সামরিক অভিযান শুরু করে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে কমপক্ষে ৫৭ হাজার ৭৬২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৫৬ জন আহত হয়েছেন।