ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতিরা। হুতি বিদ্রোহীদের যুদ্ধে সরাসরি প্রবেশে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘাতের মোড় ঘুরে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আজ শনিবার এই হামলার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে প্রবেশের কথা নিশ্চিত করেছে ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠী।
শনিবার (২৮ মার্চ) স্থানীয় সময় ভোরে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানায়, ইয়েমেন থেকে তাদের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে এবং তা প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চার সপ্তাহ আগে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার ঘটনা শনাক্ত করল ইসরায়েল।
এর আগে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর এক কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা বাড়ালে তারা ইরানের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দিতে প্রস্তুত। এই হুঁশিয়ারি দেয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই হামলা চালালো গোষ্ঠীটি।
হুতি সশস্ত্র বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান, লেবানন, ইরাক এবং ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে অব্যাহত হামলার প্রতিবাদে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আল্লাহর ওপর ভরসা করে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী প্রথম সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। দক্ষিণ ইসরায়েলের (অধিকৃত ফিলিস্তিনের দক্ষিণাঞ্চল) সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। মিত্র দেশগুলোর ওপর আগ্রাসন, গণহত্যা ও প্রভাব বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সব ফ্রন্টে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
হুতিদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনসুর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি তাদের আক্রমণ আরও বাড়ায়, তবে ইয়েমেন উপকূলের বাবেল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া তাদের জন্য বাস্তবসম্মত বিকল্প। মূলত, এই প্রণালি লোহিত সাগরকে বৈশ্বিক শিপিং রুটের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে, হুতি ড্রোন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ভেদ করে তেলআবিবের একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এতে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে হুতিদের সম্পৃক্ততা আঞ্চলিক তেল রফতানি ও নৌপথকে আরও বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে, এমন আশঙ্কা এখন প্রকট।
মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের প্রথম ১১ মাসে এই প্রণালী দিয়ে ৩ কোটি টনের বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ কনটেইনার পণ্য ও সমুদ্রপথে বাণিজ্য হওয়া মোট তেলের প্রায় ১২ শতাংশ এই পথ দিয়ে গেছে।
তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুরু করে হুতিরা। গত নভেম্বর পর্যন্ত ১০০টির বেশি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে।
এর ফলে শত শত জাহাজকে বিকল্প পথে চলতে বাধ্য হতে হয়েছে, যা সময় ও খরচ—দুটোই বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের আরও একটি প্রণালীর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল করতে ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত।
হরমুজ প্রণালীতে চলাচল সীমিত হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব তাদের তেল রফতানি একটি অংশ পশ্চিম উপকূলের ইয়ানবু বন্দরে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হুতিদের হামলা হলে বাড়বে সমস্যা। এছাড়াও তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ছাড়াতে পারে দেড়শ’ ডলারের বেশি।
আন্তজার্তিক ডেস্ক 



















