ঢাকা ০১:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান সংকট সমাধানে ‘পাঁচ দফা উদ্যোগ’ ঘোষণা চীন ও পাকিস্তানের

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র–এর চলমান সংঘাত দ্রুত থামাতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে চীন ও পাকিস্তান। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে দেশ দু’টি। এ তথ্য জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেইজিংয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই অংশ নেন।

যৌথ বিবৃতিতে বর্তমান পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং সংলাপ ও কূটনীতিই একমাত্র কার্যকর পথ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা কাটিয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চীন ও পাকিস্তান একটি পাঁচ দফা উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হচ্ছে উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করা।

বেইজিং সফরের অংশ হিসেবে দুই দেশ ইরান ইস্যুতে কৌশলগত যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারেও সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অর্থবহ আলোচনা আয়োজনেও প্রস্তুত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সফরের আগে ইসহাক দার সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। অন্যদিকে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেও চীন এখনো তেহরানকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেয়নি; বরং ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে।

একটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রস্তাবিত যুদ্ধ অবসান পরিকল্পনা নিয়ে ইরান পরোক্ষভাবে বার্তা আদান-প্রদান করেছে, যেখানে পাকিস্তান মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে।

চীন–পাকিস্তানের পাঁচ দফা উদ্যোগ:
১. মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ এবং সংঘাতের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
২. ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত শান্তি আলোচনা শুরু; সব পক্ষকে এতে সমর্থনের আহ্বান।
৩. বেসামরিক জনগণ ও জ্বালানি অবকাঠামোসহ অসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বন্ধ।
৪. হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক ও বেসামরিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৫. জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে একটি টেকসই শান্তি কাঠামো গড়ে তোলা।

Tag :

ইরান সংকট সমাধানে ‘পাঁচ দফা উদ্যোগ’ ঘোষণা চীন ও পাকিস্তানের

Update Time : ০৪:১৬:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র–এর চলমান সংঘাত দ্রুত থামাতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে চীন ও পাকিস্তান। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে দেশ দু’টি। এ তথ্য জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেইজিংয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই অংশ নেন।

যৌথ বিবৃতিতে বর্তমান পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং সংলাপ ও কূটনীতিই একমাত্র কার্যকর পথ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা কাটিয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চীন ও পাকিস্তান একটি পাঁচ দফা উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হচ্ছে উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করা।

বেইজিং সফরের অংশ হিসেবে দুই দেশ ইরান ইস্যুতে কৌশলগত যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারেও সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অর্থবহ আলোচনা আয়োজনেও প্রস্তুত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সফরের আগে ইসহাক দার সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। অন্যদিকে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেও চীন এখনো তেহরানকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেয়নি; বরং ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে।

একটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রস্তাবিত যুদ্ধ অবসান পরিকল্পনা নিয়ে ইরান পরোক্ষভাবে বার্তা আদান-প্রদান করেছে, যেখানে পাকিস্তান মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে।

চীন–পাকিস্তানের পাঁচ দফা উদ্যোগ:
১. মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ এবং সংঘাতের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
২. ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত শান্তি আলোচনা শুরু; সব পক্ষকে এতে সমর্থনের আহ্বান।
৩. বেসামরিক জনগণ ও জ্বালানি অবকাঠামোসহ অসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বন্ধ।
৪. হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক ও বেসামরিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৫. জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে একটি টেকসই শান্তি কাঠামো গড়ে তোলা।