ঢাকা ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নেপালে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে সহায়তা দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেপালে বন্যা ও ধসে নিহতদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শোক ভয়াবহ বন্যায় তছনছ নেপালের রসুয়া, নিহত বেড়ে ৯৮, নিখোঁজ কয়েকশ পর্যটক ফরিদপুরে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল ফরিদপুরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জশনে জুলুছ অনুষ্ঠিত আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৬ আগস্ট ২০২৬ ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য দ্রুতই নীতিমালা প্রণয়ন করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা কাউকে বন্ধ কিংবা থামিয়ে রাখার কোনো মানসিকতা বর্তমান সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের পতন দেখা গেলেও বাংলাদেশের বাজারে ঘটলো ঠিক উল্টো ঘটনা শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলার হাইকোর্টের রায় পিছিয়ে সোমবার

উখিয়ায় পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৮, জীবিত উদ্ধার ১৪

টানা ভারী বর্ষণের কারণে কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে অবস্থিত মসজিদুল কুবা মহিলা মাদরাসা ও হেফজখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের সবাই ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী।

এর আগে ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছিল। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবকদের যৌথ অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) ও উমাইসা বিবি (১৩)। উম্মে নেজাতুল ও উম্মে সালমা দুই সহোদর বোন। তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩-এর বাসিন্দা। অপর দুই কিশোরী ক্যাম্প-৫-এর বাসিন্দা। বাকি চারজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে ক্যাম্প প্রশাসন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফায়ার সার্ভিস এবং ক্যাম্প প্রশাসনের আওতাধীন সিসিসিএম স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় পরিচালিত উদ্ধার অভিযান বিকেল ৫টার দিকে শেষ হয়। ঘটনাস্থলে এপিবিএন সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের কার্যালয় উদ্ধার কার্যক্রম ও দুর্ঘটনাপরবর্তী ব্যবস্থাপনা তদারকি করছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় মাদরাসাটিতে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। ভারী বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় অনেক শিক্ষার্থী বাইরে চলে গেলেও পাহাড়ঘেঁষা একটি কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে। এতে তারা মাটিচাপা পড়ে। নিহতদের অধিকাংশ ওই কক্ষেই অবস্থান করছিল।

ক্যাম্প-৫-এর বাসিন্দা মৌলভি ইউনুস জানান, মাদরাসা ছুটি হওয়ার আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি ছিল। এর মধ্যেই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। তার দাবি, মাটি ভরাট করে মাদরাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

এর আগে গত সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে টানা বর্ষণের কারণে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আটজনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ এ ঘটনাসহ গত তিন দিনে কক্সবাজারে ভারী বর্ষণজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে।

Tag :
জনপ্রিয়

নেপালে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে সহায়তা দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

উখিয়ায় পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৮, জীবিত উদ্ধার ১৪

Update Time : ০২:০৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণের কারণে কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে অবস্থিত মসজিদুল কুবা মহিলা মাদরাসা ও হেফজখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের সবাই ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী।

এর আগে ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছিল। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবকদের যৌথ অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) ও উমাইসা বিবি (১৩)। উম্মে নেজাতুল ও উম্মে সালমা দুই সহোদর বোন। তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩-এর বাসিন্দা। অপর দুই কিশোরী ক্যাম্প-৫-এর বাসিন্দা। বাকি চারজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে ক্যাম্প প্রশাসন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফায়ার সার্ভিস এবং ক্যাম্প প্রশাসনের আওতাধীন সিসিসিএম স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় পরিচালিত উদ্ধার অভিযান বিকেল ৫টার দিকে শেষ হয়। ঘটনাস্থলে এপিবিএন সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের কার্যালয় উদ্ধার কার্যক্রম ও দুর্ঘটনাপরবর্তী ব্যবস্থাপনা তদারকি করছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় মাদরাসাটিতে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। ভারী বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় অনেক শিক্ষার্থী বাইরে চলে গেলেও পাহাড়ঘেঁষা একটি কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে। এতে তারা মাটিচাপা পড়ে। নিহতদের অধিকাংশ ওই কক্ষেই অবস্থান করছিল।

ক্যাম্প-৫-এর বাসিন্দা মৌলভি ইউনুস জানান, মাদরাসা ছুটি হওয়ার আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি ছিল। এর মধ্যেই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। তার দাবি, মাটি ভরাট করে মাদরাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

এর আগে গত সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে টানা বর্ষণের কারণে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আটজনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ এ ঘটনাসহ গত তিন দিনে কক্সবাজারে ভারী বর্ষণজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে।