ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৩২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ এপ্রিল ২০২১
  • ৫৬১ Time View

আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি বেসরকারি সব অফিস বন্ধ থাকবে। যানবাহন চলবে না, গার্মেণ্টস কারখানা বন্ধ থাকবে। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ তথ্য জানান।

এর আগে অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য পূর্ণ লকডাউন দেওয়ার সুপারিশ করেন কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশন ও মিউনিসিপ্যালিটি এলাকায় পূর্ণ লকডাউন দেওয়ার সুপারিশ করেন। দুই সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগে সংক্রমণের হার বিবেচনা করে আবার সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে বলেও মত দেয় কমিটির সদস্যরা। বুধবার (৭ এপ্রিল) রাতে জুমে কমিটির ৩০তম সভায় এই বিষয়ে একমত হন কমিটির সদস্যরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা। সভায় কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে বিস্তারিত আলোচনা শেষে কিছু সুপারিশ গৃহীত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারাদেশে উদ্বেগজনকভাবে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়ছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত ১৮টি নির্দেশনা জারী করা হয়েছে। পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও করোনা নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ দেয়া হয়। এগুলো সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না, সংক্রমণের হার বাড়ছে। বিধিনিষেধ আরো শক্তভাবে অনুসরণ করা দরকার। শয্যা সংখ্যা, আইসিইউ সুবিধা, অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচেষ্ট। ডিএনসিসি হাসপাতাল আগামী সপ্তাহের মধ্যে চালু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সরকারী পর্যায়ের এই কার্যক্রম এর সাথে পাল্লা দিয়ে হাসপাতালের রোগী ভর্তির বাড়তি চাপ থাকায় অতি দ্রুত আরও সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

সংক্রমণের হার বাড়ার কারনে করোনা পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে রোগীর ভীড় বাড়ছে, রিপোর্ট পেতেও সময় লাগছে। যারা টেষ্ট করতে আসছেন তাদের একটা বড় অংশ বিদেশগামী যাত্রী। বিদেশে অভিবাসী কর্মজীবী মানুষ ছাড়া অন্যান্য যাত্রীদের বেসরকারি পরীক্ষাগারে পাঠাতে পারলে সরকারি ল্যাবরেটরীতে চাপ কিছুটা কমবে। বিদেশে অভিবাসী কর্মজীবী মানুষ ছাড়া অন্যান্য যাত্রীদের পরীক্ষা বেসরকারি পরীক্ষাগারে পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। এতে করে রোগীদের পরীক্ষা ও রিপোর্ট দ্রুত প্রদান করে আইসোলেশন নিশ্চিত করা যাবে যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভ্যাকসিন দেওয়ার কার্যক্রম যুক্তরাজ্যে ফলপ্রসু হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশেও টিকা কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে বেসরকারিভাবে ভ্যাকসিন আমদানী করে টিকাদানের সুপারিশ পুনরায় করে কমিটির সদস্যরা।

Tag :

আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন

Update Time : ০৯:৩২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ এপ্রিল ২০২১

আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি বেসরকারি সব অফিস বন্ধ থাকবে। যানবাহন চলবে না, গার্মেণ্টস কারখানা বন্ধ থাকবে। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ তথ্য জানান।

এর আগে অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য পূর্ণ লকডাউন দেওয়ার সুপারিশ করেন কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশন ও মিউনিসিপ্যালিটি এলাকায় পূর্ণ লকডাউন দেওয়ার সুপারিশ করেন। দুই সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগে সংক্রমণের হার বিবেচনা করে আবার সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে বলেও মত দেয় কমিটির সদস্যরা। বুধবার (৭ এপ্রিল) রাতে জুমে কমিটির ৩০তম সভায় এই বিষয়ে একমত হন কমিটির সদস্যরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা। সভায় কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে বিস্তারিত আলোচনা শেষে কিছু সুপারিশ গৃহীত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারাদেশে উদ্বেগজনকভাবে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়ছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত ১৮টি নির্দেশনা জারী করা হয়েছে। পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও করোনা নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ দেয়া হয়। এগুলো সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না, সংক্রমণের হার বাড়ছে। বিধিনিষেধ আরো শক্তভাবে অনুসরণ করা দরকার। শয্যা সংখ্যা, আইসিইউ সুবিধা, অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচেষ্ট। ডিএনসিসি হাসপাতাল আগামী সপ্তাহের মধ্যে চালু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সরকারী পর্যায়ের এই কার্যক্রম এর সাথে পাল্লা দিয়ে হাসপাতালের রোগী ভর্তির বাড়তি চাপ থাকায় অতি দ্রুত আরও সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

সংক্রমণের হার বাড়ার কারনে করোনা পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে রোগীর ভীড় বাড়ছে, রিপোর্ট পেতেও সময় লাগছে। যারা টেষ্ট করতে আসছেন তাদের একটা বড় অংশ বিদেশগামী যাত্রী। বিদেশে অভিবাসী কর্মজীবী মানুষ ছাড়া অন্যান্য যাত্রীদের বেসরকারি পরীক্ষাগারে পাঠাতে পারলে সরকারি ল্যাবরেটরীতে চাপ কিছুটা কমবে। বিদেশে অভিবাসী কর্মজীবী মানুষ ছাড়া অন্যান্য যাত্রীদের পরীক্ষা বেসরকারি পরীক্ষাগারে পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। এতে করে রোগীদের পরীক্ষা ও রিপোর্ট দ্রুত প্রদান করে আইসোলেশন নিশ্চিত করা যাবে যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভ্যাকসিন দেওয়ার কার্যক্রম যুক্তরাজ্যে ফলপ্রসু হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশেও টিকা কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে বেসরকারিভাবে ভ্যাকসিন আমদানী করে টিকাদানের সুপারিশ পুনরায় করে কমিটির সদস্যরা।