ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
অবশেষে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খেলাফত মজলিস বরেণ্য কবি ও সাংবাদিক শেখ শামসুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা: বাংলা একাডেমি থেকে মরণোত্তর সম্মাননার দাবি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ব্যতীত আন্দোলন থামবে না: ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, সেটি তাদের জন্য ‘খুবই খারাপ’ হবে: ট্রাম্প আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৫ জুলাই ২০২৬ দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল: হোয়াইট হাউস ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো যুক্তরাষ্ট্র

আমি খুবই ভাগ্যবান। সেদিন হয়তো বেঁচে ফেরাটাই ছিল আমার নিয়তি: ওবায়দুল কাদের

৫ আগস্টের ঘটনায় নিজ বাসা ছেড়ে পাশের একটি বাড়ির বাথরুমে পাঁচ ঘণ্টা লুকিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল-এর নির্বাহী সম্পাদক অমল সরকারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এই প্রথম গণমাধ্যমে মুখ খুললেন তিনবারের সাধারণ সম্পাদক কাদের।

সেদিনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি খুবই ভাগ্যবান। সেদিন হয়তো বেঁচে ফেরাটাই ছিল আমার নিয়তি। নিজের বাসা ছেড়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিই। চারদিকে মিছিল, একপর্যায়ে পুরো সংসদ এলাকা ঘিরে ফেলে তা। শুরু হয় লুটপাট।”

ওই বাড়িতেও হামলা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “ওরা জানত না আমি সেখানেই ছিলাম। আমি ও আমার স্ত্রী বাথরুমে লুকাই। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করি। একসময় হামলাকারীরা বাথরুমে ঢুকতে চায়। স্ত্রী বারবার বলেন আমি অসুস্থ। পরে বাধ্য হয়ে দরজা খুলে দিই।”

তিনি জানান, “তখন কয়েকজন ছেলে ঢোকে। মুখে মাস্ক, হাতে লাল ব্যাজ। প্রথমে তারা উত্তেজিত ছিল, তবে আমাকে দেখে আচমকা আচরণ বদলে যায়। কেউ সেলফি তোলে, কেউ ছবি তোলে। কেউ বলছিল আমাকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিতে, আবার কেউ জনতার হাতে। পরে তারা আমাকে একজন অসুস্থ রোগী হিসেবে একটি ইজিবাইকে করে নিরাপদ স্থানে পাঠিয়ে দেয়।”

ছাত্রলীগকে আন্দোলন দমনের নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি কখনও বলিনি ছাত্রলীগ অভ্যুত্থান দমন করুক। ইউটিউবে কেউ একজন এই মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে।”

তখনকার পরিস্থিতি নিয়ে কাদের বলেন, “আমি পার্টির সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। পার্টি অফিস, মেট্রোরেল, বিটিভি ভবন তখন জ্বলছিল। আমি কি নিজেকে বা নেত্রীকে নিরাপদ রাখতে যাব না? যে কেউ থাকলেও তাই করত।”

জনরোষের উৎস কী ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা হঠাৎ ঘটেছিল। কোটা আন্দোলন থেকে শুরু, এক দফায় শেষ। ষড়যন্ত্র ছিল, ইন্টেলিজেন্সও ব্যর্থ হয়েছে।”

দীর্ঘদিন সাধারণ সম্পাদক থাকার পরও জনগণের ক্ষোভ আগে টের পাননি কেন—এমন প্রশ্নে কাদের বলেন,

“মানুষ ভুল করে, আমিও করেছি। তবে আমি চাঁদাবাজি করিনি, কমিশন খাইনি। মন্ত্রণালয় ছিল সবার চোখের সামনে। কোনো পদ বিক্রি করিনি।”

নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সমালোচনা হবেই। তবে আমাদের উন্নয়ন অস্বীকার করার সুযোগ নেই। দেশকে আমরাই বদলে দিয়েছি। সময় হলে সঠিক মূল্যায়ন হবে।”

অনেকদিন নীরব থাকার কারণ প্রসঙ্গে কাদের বলেন, “অনেকে বলে, আমাকে চুপ থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সত্যি হলো—আমি অসুস্থ ছিলাম। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজেই আমার খোঁজ নিয়েছেন।”

দলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, আছে। তিনবার সাধারণ সম্পাদক হওয়াটা অনেকের পছন্দ না হওয়াটাও স্বাভাবিক। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সেখান থেকেই ঘটে থাকতে পারে।”

সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে তিনি বলেন, “৫ আগস্টের সেই দিনটি আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। তবে আমি ভাগ্যবান—বেঁচে ফিরতে পেরেছি। এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।”

Tag :
জনপ্রিয়

অবশেষে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান

আমি খুবই ভাগ্যবান। সেদিন হয়তো বেঁচে ফেরাটাই ছিল আমার নিয়তি: ওবায়দুল কাদের

Update Time : ১১:৫৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫

৫ আগস্টের ঘটনায় নিজ বাসা ছেড়ে পাশের একটি বাড়ির বাথরুমে পাঁচ ঘণ্টা লুকিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল-এর নির্বাহী সম্পাদক অমল সরকারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এই প্রথম গণমাধ্যমে মুখ খুললেন তিনবারের সাধারণ সম্পাদক কাদের।

সেদিনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি খুবই ভাগ্যবান। সেদিন হয়তো বেঁচে ফেরাটাই ছিল আমার নিয়তি। নিজের বাসা ছেড়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিই। চারদিকে মিছিল, একপর্যায়ে পুরো সংসদ এলাকা ঘিরে ফেলে তা। শুরু হয় লুটপাট।”

ওই বাড়িতেও হামলা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “ওরা জানত না আমি সেখানেই ছিলাম। আমি ও আমার স্ত্রী বাথরুমে লুকাই। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করি। একসময় হামলাকারীরা বাথরুমে ঢুকতে চায়। স্ত্রী বারবার বলেন আমি অসুস্থ। পরে বাধ্য হয়ে দরজা খুলে দিই।”

তিনি জানান, “তখন কয়েকজন ছেলে ঢোকে। মুখে মাস্ক, হাতে লাল ব্যাজ। প্রথমে তারা উত্তেজিত ছিল, তবে আমাকে দেখে আচমকা আচরণ বদলে যায়। কেউ সেলফি তোলে, কেউ ছবি তোলে। কেউ বলছিল আমাকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিতে, আবার কেউ জনতার হাতে। পরে তারা আমাকে একজন অসুস্থ রোগী হিসেবে একটি ইজিবাইকে করে নিরাপদ স্থানে পাঠিয়ে দেয়।”

ছাত্রলীগকে আন্দোলন দমনের নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি কখনও বলিনি ছাত্রলীগ অভ্যুত্থান দমন করুক। ইউটিউবে কেউ একজন এই মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে।”

তখনকার পরিস্থিতি নিয়ে কাদের বলেন, “আমি পার্টির সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। পার্টি অফিস, মেট্রোরেল, বিটিভি ভবন তখন জ্বলছিল। আমি কি নিজেকে বা নেত্রীকে নিরাপদ রাখতে যাব না? যে কেউ থাকলেও তাই করত।”

জনরোষের উৎস কী ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা হঠাৎ ঘটেছিল। কোটা আন্দোলন থেকে শুরু, এক দফায় শেষ। ষড়যন্ত্র ছিল, ইন্টেলিজেন্সও ব্যর্থ হয়েছে।”

দীর্ঘদিন সাধারণ সম্পাদক থাকার পরও জনগণের ক্ষোভ আগে টের পাননি কেন—এমন প্রশ্নে কাদের বলেন,

“মানুষ ভুল করে, আমিও করেছি। তবে আমি চাঁদাবাজি করিনি, কমিশন খাইনি। মন্ত্রণালয় ছিল সবার চোখের সামনে। কোনো পদ বিক্রি করিনি।”

নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সমালোচনা হবেই। তবে আমাদের উন্নয়ন অস্বীকার করার সুযোগ নেই। দেশকে আমরাই বদলে দিয়েছি। সময় হলে সঠিক মূল্যায়ন হবে।”

অনেকদিন নীরব থাকার কারণ প্রসঙ্গে কাদের বলেন, “অনেকে বলে, আমাকে চুপ থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সত্যি হলো—আমি অসুস্থ ছিলাম। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজেই আমার খোঁজ নিয়েছেন।”

দলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, আছে। তিনবার সাধারণ সম্পাদক হওয়াটা অনেকের পছন্দ না হওয়াটাও স্বাভাবিক। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সেখান থেকেই ঘটে থাকতে পারে।”

সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে তিনি বলেন, “৫ আগস্টের সেই দিনটি আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। তবে আমি ভাগ্যবান—বেঁচে ফিরতে পেরেছি। এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।”