ঢাকা ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা দিল্লিতে শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধনের পর ঘুরে ঘুরে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আজ ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজকের নামাজের সময়সূচি: ৫ আগস্ট ২০২৬ স্কুলে ভর্তিতে লটারি ব্যবস্থা বহাল রাখার আভাস দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় হরমুজে জাহাজে হামলা, জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ অবরোধ মেনে নেবে না তেহরান

খালেদার হার্টের সমস্যা, উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা

ছবি: খালেদা জিয়া (অনলাইন থেকে সংগৃহীত)

২৩ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। এখনো সিসিইউতেই রাখা হয়েছে তাকে। তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছু সমস্যা উন্নতি হলেও পোস্ট-কোভিডজনিত সমস্যাগুলো এখনও রয়ে গেছে। এছাড়াও তার হার্টের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকেরা এখনও উদ্বিগ্ন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বুধাবার (১৯ মে) বিকাল ৩টায় এভারকেয়ার ও তার চিকিৎসকদের সম্মিলিত মেডিক্যাল বোর্ড খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। নাম না প্রকাশ করার শর্তে খালেদা জিয়ার এক চিকিৎসক বলেন, বিএনপি প্রধানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসের কারণে তার হাত-পা ফুলে যাওয়া এবং ব্যথার যে সমস্যা ছিল সেগুলো এখনও রয়েছে।

তিনি বলেন, ম্যাডামের বিষয়ে আমাদের সেভাবে বলার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমে অবহিত করবেন। এর বাইরে কাউকেই মিডিয়ায় বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি নেই।

বুধবার মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে ফুসফুসের পানি বের করার জন্য বুকের দুটি পাইপের মধ্যে বাম পাশের পাইপটি খুলে দিয়েছেন। মেডিকেল টিমের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, ফুসফুসের পানি বের করার জন্য বুকের ডাম ও বাম পাশে দুটি পাইপ বসানো হয়েছিলো। ফুসফুসে জমে যাওয়া পানি অনেকটা নিয়ন্ত্রণ হওয়ায় আপাতত বাম পাশের পাইপটি খুলে নিয়েছেন তারা। এখন ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করবেন চিকিৎসকরা। এটার ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।

ওই চিকিৎসক জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ও রিপোর্টগুলো রিভিউ করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তার হার্ট এখনো দুর্বল। ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত। ইনসুলিন দিয়ে কন্ট্রোল করা হচ্ছে। রোগীর জন্য এটা ভালো না। প্রোটিনের প্রচুর ঘাটতি রয়েছে। এ্যালবুমিন দেওয়া হচ্ছে। এটা খুবই খারাপ লক্ষণ।

প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট আসে খালেদা জিয়ার। ১৫ এপ্রিল সিটিস্ক্যান করান তিনি। পরে অক্সিজেনজনিত সমস্যা দেখা দিলে ২৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। ২৮ এপ্রিল ব্যক্তিগত ও এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়।

৩ মে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিলে সেদিন বিকালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয় খালেদা জিয়াকে। পরে খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দিতে ৫ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে লিখিত চিঠি দেন তার ভাই শামীম এস্কান্দার। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থার ৬ মে খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষা নেগেটিভ আসে।

Tag :

আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা

খালেদার হার্টের সমস্যা, উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা

Update Time : ০৬:৪২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মে ২০২১

২৩ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। এখনো সিসিইউতেই রাখা হয়েছে তাকে। তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছু সমস্যা উন্নতি হলেও পোস্ট-কোভিডজনিত সমস্যাগুলো এখনও রয়ে গেছে। এছাড়াও তার হার্টের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকেরা এখনও উদ্বিগ্ন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বুধাবার (১৯ মে) বিকাল ৩টায় এভারকেয়ার ও তার চিকিৎসকদের সম্মিলিত মেডিক্যাল বোর্ড খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। নাম না প্রকাশ করার শর্তে খালেদা জিয়ার এক চিকিৎসক বলেন, বিএনপি প্রধানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসের কারণে তার হাত-পা ফুলে যাওয়া এবং ব্যথার যে সমস্যা ছিল সেগুলো এখনও রয়েছে।

তিনি বলেন, ম্যাডামের বিষয়ে আমাদের সেভাবে বলার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমে অবহিত করবেন। এর বাইরে কাউকেই মিডিয়ায় বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি নেই।

বুধবার মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে ফুসফুসের পানি বের করার জন্য বুকের দুটি পাইপের মধ্যে বাম পাশের পাইপটি খুলে দিয়েছেন। মেডিকেল টিমের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, ফুসফুসের পানি বের করার জন্য বুকের ডাম ও বাম পাশে দুটি পাইপ বসানো হয়েছিলো। ফুসফুসে জমে যাওয়া পানি অনেকটা নিয়ন্ত্রণ হওয়ায় আপাতত বাম পাশের পাইপটি খুলে নিয়েছেন তারা। এখন ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করবেন চিকিৎসকরা। এটার ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।

ওই চিকিৎসক জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ও রিপোর্টগুলো রিভিউ করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তার হার্ট এখনো দুর্বল। ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত। ইনসুলিন দিয়ে কন্ট্রোল করা হচ্ছে। রোগীর জন্য এটা ভালো না। প্রোটিনের প্রচুর ঘাটতি রয়েছে। এ্যালবুমিন দেওয়া হচ্ছে। এটা খুবই খারাপ লক্ষণ।

প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট আসে খালেদা জিয়ার। ১৫ এপ্রিল সিটিস্ক্যান করান তিনি। পরে অক্সিজেনজনিত সমস্যা দেখা দিলে ২৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। ২৮ এপ্রিল ব্যক্তিগত ও এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়।

৩ মে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিলে সেদিন বিকালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয় খালেদা জিয়াকে। পরে খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দিতে ৫ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে লিখিত চিঠি দেন তার ভাই শামীম এস্কান্দার। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থার ৬ মে খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষা নেগেটিভ আসে।