ঢাকা ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
‘ফেসবুক থেকে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করতে আইন সংশোধন হচ্ছে’ ফরিদপুরে বিসিআইসি বাফার গুদামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন চৌধুরী নায়াব ইউসুফ নয়া দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৪ দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন শুরু দেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে একদিনে ৮ শিশুর মৃত্যু প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে চার নতুন বিষয় হামে শিশু মৃত্যু: ইউনূস ও নূর জাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেননি আদালত হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ইরান থেকে নতুন করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের ভূখণ্ডের দিকে শনাক্ত: : আইডিএফ রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ব্যারেলপ্রতি তিন ডলারেরও বেশি বেড়ে গেছে

দু-একদিনের মধ্যে বৈঠক করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত :করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২২
  • ২৭৬ Time View
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও শনাক্তের হার দ্রুত গতিতে বাড়লেও খোলা রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১২ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান থাকলেও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা টিকা কর্মসূচির বাইরে থাকায় এ স্তরের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি কমে গেছে। এছাড়া অনেক অভিভাবক আক্রান্তের ভয়ে সন্তানকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার করোনা আক্রান্তের হার ১২ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় শিক্ষা প্রশাসনও শঙ্কিত। করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে দু-একদিনের মধ্যে সভা করে চূড়ান্ত সিদ্বান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চাইলে করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা আজকালের খবরকে বলেন, করোনা পরিস্থিতি খুবই উদ্বেকজনক হারে বাড়ছে। আজকে (বৃহস্পতিবার) আক্রান্তের যে তথ্য দেখেছি তা আশঙ্কাজনক। তবে বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম। আমরা দু-একদিনের মধ্যে বৈঠক করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। তিনি আরো বলেন, গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের কথা বলা হলেও তা মেনে চলছে না। অফিস-আদালত সবই চলছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা খুবই কম। করোনা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১১ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
সারা দেশে বর্তমানে ১২ থেকে ১৭ বছয় বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। টিকা কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। টিকা নিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকছে না। অনেকে মাস্ক পরছে না। টিকা নিতে গিয়েও অনেক শিক্ষার্থী করোনা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠক শেষে গত সোমবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ওইদিন সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের অন্তত এক ডোজ টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ১২ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা এখনো টিকা নেয়নি, তাদের আপাতত স্কুলে যেতে নিষেধ করতে হবে। ১২ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর হবে। যারা এরই মধ্যে টিকা নিতে পারবে না, তারা অনলাইনে বা টিভিতে ক্লাস করবে। আমরা অ্যাসাইনমেন্টের ব্যবস্থাও রাখব। ১২ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেছেন, টিকা না পেলেও তারা স্কুলে যাবে।
১২ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে সংক্রমণের ঘটনা কম এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শে তাদের টিকা দেওয়ার কথা বলা নেই। ফলে এসব শিক্ষার্থী টিকা গ্রহণ ছাড়াই স্কুলে যেতে পারছে। তবে যেসব শিক্ষার্থী ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য কোনো রোগে ভুগছে, অথবা শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা আছে, কিংবা কোভিডে আক্রান্ত হলে যাদের ঝুঁকি বেশি, তাদের আপাতত স্কুলে না গিয়ে অনলাইনে ক্লাসে যোগ দিতে বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত না হলেও সরকার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং তারা নিয়মিত আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। এক সপ্তাহ পর আবারো কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বসবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গতকাল করোনা আরো বেড়েছে। গতকাল সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে তিন হাজার ৩৫৯ জন। এ সময়ে মারা গেছেন ১২ জন। শনাক্তের হার ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আক্রান্তের হার পাঁচ শতাংশের বেশি হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা রয়েছে। এরই মধ্যে বুয়েটসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় শ্রেণিকক্ষে সরাসরি পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করেছে। আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এমন সিদ্বান্ত নিতে যাচ্ছে।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার বলেন, এখনো বই বিতরণ চলছে। পুরোপুরি ক্লাস শুরু হয়নি। ১২ বছর বয়সের নিচের ছাত্রীদের টিকা না দেওয়ায় অভিভাবকরা আতঙ্কিত। এ বয়সী ছাত্রীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কমেছে। অনেক অভিভাবক মেয়েদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের ক্লাস কার্যক্রম চলছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, ১২ বছরের নিচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বেশি চিন্তিত মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা। প্রথমে এ স্তরের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রেখে ভার্চুয়াল পাঠদান চালু রাখার কথা ভাবছেন তারা। তবে বর্তমানে ভর্তি কার্যক্রম চলমান থাকায় সিদ্বান্ত নিতে পারছে না মন্ত্রণালয়। আবার সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বন্ধের পক্ষে থাকলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা চালু রাখার পক্ষে। কারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি আদায় করা যাবে না।
 রাজধানীর মিরপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শুভাশিষ বিশ্বাস বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলে সেশন চার্জ নেওয়া যাবে না। প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকায় কিন্ডারগার্টেনসহ অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। আবারো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলে শিখন ঘাটতি কাটিয়ে উঠা যাবে না। তিনি আরো বলেন, করোনাকালীন অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা গেছে। শতভাগ শিক্ষার্থীদের দ্রুত টিকা দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার পক্ষে তিনি মত দিয়েছেন।
Tag :

‘ফেসবুক থেকে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করতে আইন সংশোধন হচ্ছে’

দু-একদিনের মধ্যে বৈঠক করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত :করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি

Update Time : ০৪:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২২
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও শনাক্তের হার দ্রুত গতিতে বাড়লেও খোলা রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১২ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান থাকলেও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা টিকা কর্মসূচির বাইরে থাকায় এ স্তরের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি কমে গেছে। এছাড়া অনেক অভিভাবক আক্রান্তের ভয়ে সন্তানকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার করোনা আক্রান্তের হার ১২ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় শিক্ষা প্রশাসনও শঙ্কিত। করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে দু-একদিনের মধ্যে সভা করে চূড়ান্ত সিদ্বান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চাইলে করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা আজকালের খবরকে বলেন, করোনা পরিস্থিতি খুবই উদ্বেকজনক হারে বাড়ছে। আজকে (বৃহস্পতিবার) আক্রান্তের যে তথ্য দেখেছি তা আশঙ্কাজনক। তবে বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম। আমরা দু-একদিনের মধ্যে বৈঠক করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। তিনি আরো বলেন, গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের কথা বলা হলেও তা মেনে চলছে না। অফিস-আদালত সবই চলছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা খুবই কম। করোনা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১১ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
সারা দেশে বর্তমানে ১২ থেকে ১৭ বছয় বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। টিকা কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। টিকা নিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকছে না। অনেকে মাস্ক পরছে না। টিকা নিতে গিয়েও অনেক শিক্ষার্থী করোনা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠক শেষে গত সোমবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ওইদিন সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের অন্তত এক ডোজ টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ১২ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা এখনো টিকা নেয়নি, তাদের আপাতত স্কুলে যেতে নিষেধ করতে হবে। ১২ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর হবে। যারা এরই মধ্যে টিকা নিতে পারবে না, তারা অনলাইনে বা টিভিতে ক্লাস করবে। আমরা অ্যাসাইনমেন্টের ব্যবস্থাও রাখব। ১২ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেছেন, টিকা না পেলেও তারা স্কুলে যাবে।
১২ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে সংক্রমণের ঘটনা কম এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শে তাদের টিকা দেওয়ার কথা বলা নেই। ফলে এসব শিক্ষার্থী টিকা গ্রহণ ছাড়াই স্কুলে যেতে পারছে। তবে যেসব শিক্ষার্থী ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য কোনো রোগে ভুগছে, অথবা শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা আছে, কিংবা কোভিডে আক্রান্ত হলে যাদের ঝুঁকি বেশি, তাদের আপাতত স্কুলে না গিয়ে অনলাইনে ক্লাসে যোগ দিতে বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত না হলেও সরকার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং তারা নিয়মিত আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। এক সপ্তাহ পর আবারো কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বসবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গতকাল করোনা আরো বেড়েছে। গতকাল সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে তিন হাজার ৩৫৯ জন। এ সময়ে মারা গেছেন ১২ জন। শনাক্তের হার ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আক্রান্তের হার পাঁচ শতাংশের বেশি হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা রয়েছে। এরই মধ্যে বুয়েটসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় শ্রেণিকক্ষে সরাসরি পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করেছে। আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এমন সিদ্বান্ত নিতে যাচ্ছে।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার বলেন, এখনো বই বিতরণ চলছে। পুরোপুরি ক্লাস শুরু হয়নি। ১২ বছর বয়সের নিচের ছাত্রীদের টিকা না দেওয়ায় অভিভাবকরা আতঙ্কিত। এ বয়সী ছাত্রীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কমেছে। অনেক অভিভাবক মেয়েদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের ক্লাস কার্যক্রম চলছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, ১২ বছরের নিচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বেশি চিন্তিত মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা। প্রথমে এ স্তরের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রেখে ভার্চুয়াল পাঠদান চালু রাখার কথা ভাবছেন তারা। তবে বর্তমানে ভর্তি কার্যক্রম চলমান থাকায় সিদ্বান্ত নিতে পারছে না মন্ত্রণালয়। আবার সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বন্ধের পক্ষে থাকলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা চালু রাখার পক্ষে। কারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি আদায় করা যাবে না।
 রাজধানীর মিরপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শুভাশিষ বিশ্বাস বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলে সেশন চার্জ নেওয়া যাবে না। প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকায় কিন্ডারগার্টেনসহ অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। আবারো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলে শিখন ঘাটতি কাটিয়ে উঠা যাবে না। তিনি আরো বলেন, করোনাকালীন অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা গেছে। শতভাগ শিক্ষার্থীদের দ্রুত টিকা দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার পক্ষে তিনি মত দিয়েছেন।