আজ শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের প্রচারণা। নির্বাচনের আর মাত্র এক দিন বাকি। ভোট নিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের নানা সমীকরণ।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, শহরের ভ্রাম্যমাণ হকার অটোরিকশাচালকদের কাছে হিসাব-নিকাশ যেন ততই জটিল হয়ে উঠছে। তারা বলছেন, এ নির্বাচনের ফলের পরে তাদের জীবন-জীবিকায় দু ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী জয়ী হয়ে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখলে এক ধরনের প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সদ্য বিএনপি থেকে অব্যাহতি পাওয়া তৈমূর আলম খন্দকার জয়ী হলে আরেক ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
হকার ও চালকরা বলছেন, তাদের দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীদের কোনো নজর নেই। সমাজের অন্য শ্রেণী-পেশার লোকজন নিয়ে মেয়র প্রার্থীদের বিভিন্ন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থাকলেও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তেমন কোনও প্রতিশ্রুতি পাচ্ছেন না। তাদের আক্ষেপ, সমাজের অবহেলিতদের দেখার কেউ নেই। তবে প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা বলছেন, হকার ও চালকের নিয়ে অল্প হলেও পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলমের জয়-পরাজয়ের ওপর রুটি-রুজি ও পরিবারের ভরণপোষণ অনেকটাই নির্ভর করে বলে মনে করেন নিম্নআয়ের এ দুই পেশার মানুষ। তাদের ভয়, আইভী জয়ী হলে শহর থেকে হকারদের উচ্ছেদ করা হবে, অটোরিকশাচালকরা শহরে প্রবেশ করতে পারবেন না। অন্যদিকে তৈমূর আলম খন্দকার জয়ী হলে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে । সেক্ষেত্রে এর প্রভাবও তাদের জীবন-যাপনে প্রভাব পড়বে।
ভ্রাম্যমাণ হকাররা বলছেন, গত নির্বাচনে জয়ী হয়ে সেলিনা হায়াৎ আইভী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। তখন অনেক হকার বেকার হয়ে পড়েন। এখনো শহরে যে হকাররা রয়েছেন, তারা সবসময় পুলিশের আতঙ্কে থাকেন। কয়েক ঘণ্টা পরপর তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়। ঘণ্টায় ঘণ্টায় জিনিসপত্র গুছিয়ে বিভিন্ন গলিতে অবস্থান নিতে হয়। আবার পুলিশ চলে গেলে ফুটপাতে বসেন তারা। এবারো আইভি নির্বাচনে জয়ী হলে এ উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এতে তাদের রুটি-রুজির ওপর আঘাত আরও তীব্র হবে। পরিবারের ভরণপোষণের সমস্যাও বাড়বে।
অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি থেকে অব্যাহতি পাওয়া তৈমূর আলম খন্দকার মেয়র পদে জয়ী হলে হকারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবেন কি না, বা তাদের জন্য কী করবেন, সে বিষয়ে তার নির্বাচনী ইশতেহারে কোনো কিছু বলা নেই, তিনি কোনও প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন না। ফলে, হকার ও অটোচালকরা এক ধরনের ভয়ে রয়েছেন।
ভোট পর্যবেক্ষণে ৯ সংস্থা
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে ৯টি সংস্থার ৪২ পর্যবেক্ষককে অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংস্থাগুলো হলো- জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদ (জানিপপ), সার্ক মানবাধিক ফাউন্ডেশন, আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন, সমাজ উন্নয়ন প্রয়াস, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা, তালতলা যুব উন্নয়ন সংগঠন, রিহাফ ফাউন্ডেশন, বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশন এবং মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা-মওসুস।
তবে পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা মানার পাশাপাশি এসব সংস্থাকে ভোট শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের শর্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
প্রসঙ্গত, রোববার (১৬ জানুয়ারি) নির্বাচন। মেয়র পদে তৈমূর ও আইভি ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও ৫ জন। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে রয়েছেন ৩২ জন।
প্রায় ২০ লাখ মানুষের এ সিটিতে ভোটার ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৭ জন। নারী ভোটার-২ লাখ ৫৭ হাজার ৫১৯ আর পুরুষ ভোটার-২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৪ জন।
অনলাইন ডেস্ক 















