ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
অবশেষে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খেলাফত মজলিস বরেণ্য কবি ও সাংবাদিক শেখ শামসুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা: বাংলা একাডেমি থেকে মরণোত্তর সম্মাননার দাবি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ব্যতীত আন্দোলন থামবে না: ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, সেটি তাদের জন্য ‘খুবই খারাপ’ হবে: ট্রাম্প আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৫ জুলাই ২০২৬ দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল: হোয়াইট হাউস ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো যুক্তরাষ্ট্র

নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন “ইসলাম ও জাতির ঐতিহ্যবিরোধী”: জামায়াতে ইসলামীর আমির

নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনকে “ইসলাম ও জাতির ঐতিহ্যবিরোধী” আখ্যা দিয়ে সেটি সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি বলেন, “এই কমিশন আল্লাহর বিধান, ইসলামী তাহজিব-তমদ্দুন ও জনমানুষের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাই আমরা এই কমিশন এবং এর প্রতিবেদন গ্রহণ করি না।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “কমিশনের সদস্যরা যেসব সুপারিশ দিয়েছেন, তা সমাজকে অশান্ত ও বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে। যদি নারীদের অধিকার রক্ষার প্রয়োজন থাকে, তবে সেটা দেশের ধর্মবিশ্বাসী সংখ্যাগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করে নয়। কমিশনে এমন একজন নারীকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যিনি ইসলামি চিন্তাধারায় বিশ্বাসী—এটি পক্ষপাতদুষ্টতার প্রমাণ।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমরা আন্দোলনে যেতে চাই না, কিন্তু বাধ্য করা হলে রাস্তায় নামতে পিছপা হব না। এই কমিশন জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, কিন্তু সেটা সফল হবে না। এই রিপোর্ট জনগণের বিশ্বাস, ঐতিহ্য এবং কোরআনের শিক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে—তাই এটা টিকবে না, ভেসে যাবে।”

সেমিনারে ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, “এই কমিশন মূলত ধর্মবিদ্বেষী একটি চক্রান্তের অংশ। অতীতেও এ ধরনের উদ্যোগ জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে, এবারও তাই হবে। যারা ধর্মহীন রাষ্ট্র গড়তে চায়, তারা শেষ পর্যন্ত সফল হবে না।”

খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “কমিশনের প্রস্তাবনার সারকথা হলো—ধর্ম নারীর বৈষম্যের উৎস। এটি ভয়ঙ্কর ও চরমভাবে বিভ্রান্তিকর। এ প্রস্তাবনার পেছনে পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গির ছায়া স্পষ্ট। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা প্রমাণ করে এটি একটি পূর্ব পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।”

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী প্রমুখ।

সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি মাওলানা নূরুল হুদা ফয়েজী এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করিম আবরার।

Tag :
জনপ্রিয়

অবশেষে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান

নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন “ইসলাম ও জাতির ঐতিহ্যবিরোধী”: জামায়াতে ইসলামীর আমির

Update Time : ০১:৫৬:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫

নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনকে “ইসলাম ও জাতির ঐতিহ্যবিরোধী” আখ্যা দিয়ে সেটি সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি বলেন, “এই কমিশন আল্লাহর বিধান, ইসলামী তাহজিব-তমদ্দুন ও জনমানুষের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাই আমরা এই কমিশন এবং এর প্রতিবেদন গ্রহণ করি না।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “কমিশনের সদস্যরা যেসব সুপারিশ দিয়েছেন, তা সমাজকে অশান্ত ও বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে। যদি নারীদের অধিকার রক্ষার প্রয়োজন থাকে, তবে সেটা দেশের ধর্মবিশ্বাসী সংখ্যাগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করে নয়। কমিশনে এমন একজন নারীকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যিনি ইসলামি চিন্তাধারায় বিশ্বাসী—এটি পক্ষপাতদুষ্টতার প্রমাণ।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমরা আন্দোলনে যেতে চাই না, কিন্তু বাধ্য করা হলে রাস্তায় নামতে পিছপা হব না। এই কমিশন জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, কিন্তু সেটা সফল হবে না। এই রিপোর্ট জনগণের বিশ্বাস, ঐতিহ্য এবং কোরআনের শিক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে—তাই এটা টিকবে না, ভেসে যাবে।”

সেমিনারে ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, “এই কমিশন মূলত ধর্মবিদ্বেষী একটি চক্রান্তের অংশ। অতীতেও এ ধরনের উদ্যোগ জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে, এবারও তাই হবে। যারা ধর্মহীন রাষ্ট্র গড়তে চায়, তারা শেষ পর্যন্ত সফল হবে না।”

খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “কমিশনের প্রস্তাবনার সারকথা হলো—ধর্ম নারীর বৈষম্যের উৎস। এটি ভয়ঙ্কর ও চরমভাবে বিভ্রান্তিকর। এ প্রস্তাবনার পেছনে পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গির ছায়া স্পষ্ট। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা প্রমাণ করে এটি একটি পূর্ব পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।”

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী প্রমুখ।

সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি মাওলানা নূরুল হুদা ফয়েজী এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করিম আবরার।