মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর : ফরিদপুরের সালথায় বিএনপি কর্মী পান্নু ফকির (৩৮) হত্যা মামলার আসামীরা জামিনে এসে বাদী ও স্বাক্ষীদের ভয়ভীতি এবং হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দিশেহারা হয়ে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে আদালত চত্ত্বরে মাত্র তিন মাসের সন্তান কোলে নিয়ে ছুটে আসেন নিহতের স্ত্রী।
মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর জজ কোর্ট চত্ত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। এ সময় নিহতের স্ত্রীর আহাজারি দেখে আদালতে আসা অন্যরাও এ মানববন্ধনে অংশ নেন।
জানা যায়, জেলার সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের কুমারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি কর্মী পান্নু ফকির গত ২৫ জুন রাতে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে সড়কের পাশে ফেলে রাখে প্রতিপক্ষরা। পরদিন সকালে যদুনন্দী সড়কের পাশে হাত-পায়ের রগকাটা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর বড় ছেলে রোমান ফকির বাদী হয়ে সালথা থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রধান আসামী সিদ্দিক মাতুব্বর আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এসেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি-ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নিহতের স্ত্রী। স্বাক্ষীদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অন্য আসামীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছেনা বলেও অভিযোগ করেন।
নিহতের স্ত্রী রুপা বেগম বলেন, পুলিশ মাত্র একজন আসামীকে গ্রেফতার করে। পরে অন্য আসামীরা উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিন নিয়ে আসে। ওই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সম্প্রতি ৯ জন আসামী নিম্ন আদালতে জামিনে নিতে গেলে ৭ জনকে কারাগারে পাঠিয়ে মূল আসামী সিদ্দিক মাতুব্বরসহ দুইজনকে জামিন দিয়ে দেয় আদালত।
সিদ্দিক মাতুব্বর জামিনে এসেই স্বাক্ষীদের ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে যাচ্ছে এবং আমাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। এছাড়া অন্য আসামীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবী জানান তিনি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সালথা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ রায় জানান, এ মামলায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং বাকিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছিল। ওই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আদালতে আরও ৯ জন জামিন চেয়েছিল, তাঁদের মধ্যে ৭ জনকে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায় আদালত এবং দুই জনকে জামিন দিয়েছেন আদালত। এছাড়া বাকি ৫ জন পুনরায় উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জামিন নিয়েছে। এছাড়া তদন্ত কার্যক্রম শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
মাহবুব পিয়াল 






















