ঢাকা ০২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
দেশের বাজারে ২ হাজার টাকার ওপরে কমেছে স্বর্ণের দাম ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুসিচ পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে এক দিনে এক হাজারের বেশি ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীর প্রবেশ আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি :২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর-হামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৪ বাংলা কিউআর লেনদেনে ২ হাজার টাকায় ৬ টাকা প্রণোদনা ফরিদপুরে তালা কেটে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিসহ  স্বর্ণালংকার লুট, ৬ দিনেই উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪ নির্মাণাধীন স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে সরকারের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপকর্মে জড়ালে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন

ফরিদপুরের সালথায় খুনের ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৫৬ জনকে আসামী করে মামলা

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা যদুনন্দি ইউনিয়নে এলাকায় গ্রাম্য দলাদলিকে কেন্দ্র করে সিরাজুল ইসলাম নামক এক ব্যক্তিকে খুনের ঘটনায় যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্যাকে প্রধান আসামি করে ৫৬ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তিন দিন পর রবিবার নিহত সিরাজুলের ভাই মিরাজুল মোল্যা বাদী হয়ে সালথা থানায় এ মামলা করেন। মামলাটি নথিভুক্ত করে এর তদন্তভার দেয়া হয়েছে সালথা থানার এসআই সৈয়দ আওলাদ হোসেনকে। তবে হত্যার ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করেতে পারেনি সালথা থানা পুলিশ। খুনের ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর-লুটপাট হচ্ছে।
জানা গেছে, এলাকার দলপক্ষকে কেন্দ্র করে গত এক মাসে খারদিয়া গ্রামের প্রভাবশালী বাসিন্দা যদুনন্দী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্যার সমর্থকদের সাথে ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মিয়ার সমর্থকদের একাধিক বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ রফিক ও আলমগীরকে গ্রেফতার করে পুলিশের উপর হামলা মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠান। গত ২৮ এপ্রিল তারা উভয়ই আদালত থেকে জামিনে পেয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। তারা জামিনে এসে আবার এলাকায় দলপক্ষ নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরে চরম উত্তেজনা চলছিল। চলমান উত্তেজনা মধ্যে গত ৫ মে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুই গ্রুপের শতশত লোকজন দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে সংঘর্ষে ঝাপিয়ে পড়ে। সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হন। আহতদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বোয়ালমালী ও মুকসেদপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভর্তি করা হয়েছিল। সংঘর্ষে আহত আলমগীরের সমর্থক সিরাজুল ইসলাম মারা যান।
এদিকে সিরাজুল খুনের ঘটনার পর থেকে খারদিয়া, উজিরপুর ও সাধুহাটি গ্রামে মামলার আসামি ও তাদের সমর্থকদের বাড়িতে গিয়ে প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে যদুনন্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মিয়া ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
মামলা তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সৈয়দ আওলাদ হোসেন বলেন, এক দিকে নিহতের পরিবার ঘটনার তিন পর মামলাটি করেছেন। অপরদিকে আসামিরাও পলাতক রয়েছে। যে কারণে এখনও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে চেষ্টা চলছে খুব তাড়াতাড়িই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। অগ্নিসংযোগ, বাড়ি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয় তিনি বলেন, কিছু বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। একটি বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে বলেও শুনেছি। এসব ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মূলত পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে।
ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সালথা সার্কেল) মো. সুমিনুর রহমান বলেন, খারদিয়ার সংঘর্ষে দুটি মামলা হয়েছে। একটি পুলিশের কাজে বাধা প্রদান ও অন্যটি হত্যা মামলা । দুটি মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ওই এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখতে অস্থায়ী ভাবে পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

Tag :

দেশের বাজারে ২ হাজার টাকার ওপরে কমেছে স্বর্ণের দাম

ফরিদপুরের সালথায় খুনের ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৫৬ জনকে আসামী করে মামলা

Update Time : ০১:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মে ২০২২

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা যদুনন্দি ইউনিয়নে এলাকায় গ্রাম্য দলাদলিকে কেন্দ্র করে সিরাজুল ইসলাম নামক এক ব্যক্তিকে খুনের ঘটনায় যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্যাকে প্রধান আসামি করে ৫৬ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তিন দিন পর রবিবার নিহত সিরাজুলের ভাই মিরাজুল মোল্যা বাদী হয়ে সালথা থানায় এ মামলা করেন। মামলাটি নথিভুক্ত করে এর তদন্তভার দেয়া হয়েছে সালথা থানার এসআই সৈয়দ আওলাদ হোসেনকে। তবে হত্যার ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করেতে পারেনি সালথা থানা পুলিশ। খুনের ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর-লুটপাট হচ্ছে।
জানা গেছে, এলাকার দলপক্ষকে কেন্দ্র করে গত এক মাসে খারদিয়া গ্রামের প্রভাবশালী বাসিন্দা যদুনন্দী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্যার সমর্থকদের সাথে ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মিয়ার সমর্থকদের একাধিক বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ রফিক ও আলমগীরকে গ্রেফতার করে পুলিশের উপর হামলা মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠান। গত ২৮ এপ্রিল তারা উভয়ই আদালত থেকে জামিনে পেয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। তারা জামিনে এসে আবার এলাকায় দলপক্ষ নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরে চরম উত্তেজনা চলছিল। চলমান উত্তেজনা মধ্যে গত ৫ মে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুই গ্রুপের শতশত লোকজন দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে সংঘর্ষে ঝাপিয়ে পড়ে। সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হন। আহতদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বোয়ালমালী ও মুকসেদপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভর্তি করা হয়েছিল। সংঘর্ষে আহত আলমগীরের সমর্থক সিরাজুল ইসলাম মারা যান।
এদিকে সিরাজুল খুনের ঘটনার পর থেকে খারদিয়া, উজিরপুর ও সাধুহাটি গ্রামে মামলার আসামি ও তাদের সমর্থকদের বাড়িতে গিয়ে প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে যদুনন্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মিয়া ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
মামলা তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সৈয়দ আওলাদ হোসেন বলেন, এক দিকে নিহতের পরিবার ঘটনার তিন পর মামলাটি করেছেন। অপরদিকে আসামিরাও পলাতক রয়েছে। যে কারণে এখনও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে চেষ্টা চলছে খুব তাড়াতাড়িই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। অগ্নিসংযোগ, বাড়ি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয় তিনি বলেন, কিছু বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। একটি বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে বলেও শুনেছি। এসব ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মূলত পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে।
ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সালথা সার্কেল) মো. সুমিনুর রহমান বলেন, খারদিয়ার সংঘর্ষে দুটি মামলা হয়েছে। একটি পুলিশের কাজে বাধা প্রদান ও অন্যটি হত্যা মামলা । দুটি মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ওই এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখতে অস্থায়ী ভাবে পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।