ঢাকা ০২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আন্দোলন কতদিন চলবে, যা বলছে ককরোচ পার্টি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে হোটেলকক্ষের গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করুন মোবাইল দিয়েই গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করেছে জামায়াত ফরিদপুরে যাত্রা শুরু করল ‘পেয়ালা ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ ফরিদপুরে নারীর মানসিক স্বাস্থ্য: সচেতনতা, সহমর্মিতা ও করণীয় বিষয়ক নন্দিতা সুরক্ষার কর্মশালা অনুষ্ঠিত মেসিকে নিয়ে আবারও নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করলেন আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় তিন ধাপ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ আমূল বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ১০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেখানে নতুন করে ১০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ এবং এর সহগামী যুদ্ধজাহাজ বহরে করে প্রায় ৬ হাজার সেনাসদস্য বর্তমানে সমুদ্রপথে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ মাসেই তারা গন্তব্যে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ এবং ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’ নামে দুটি শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রয়েছে। ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ সেখানে পৌঁছালে এই সংখ্যা তিনে দাঁড়াবে। এছাড়া চলতি মাসের শেষের দিকে ‘বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ’ এবং ১১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের আরও ৪ হাজার ২০০ সেনা সদস্য ওই অঞ্চলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

পেন্টাগনের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অভিযানের পর এ পর্যন্ত অঞ্চলটিতে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিপুল পরিমাণ সৈন্য সমাবেশ একদিকে যেমন আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের হাত শক্তিশালী করবে, তেমনি এটি যেকোনো সময় বড় ধরণের হামলার প্রস্তুতি হিসেবেও কাজ করতে পারে।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি, তাদের ঘোষিত নৌ-অবরোধ এখন ‘পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর’। এর ফলে ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে ওয়াশিংটন দাবি করছে। তবে জাহাজ চলাচলের আন্তর্জাতিক ট্র্যাকিং ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অবরোধ সত্ত্বেও কিছু জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।

সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী সমুদ্রপথে ইরানের ভেতরে ও বাইরে সব ধরণের বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ট্র্যাকিং ডেটার এই ভিন্নতা মার্কিন অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে এই সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ‘দুই দিনের মধ্যে’ পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে নতুন করে বৈঠক হতে পারে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যার মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হবে।

Tag :
জনপ্রিয়

নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ১০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

Update Time : ০৬:০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেখানে নতুন করে ১০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ এবং এর সহগামী যুদ্ধজাহাজ বহরে করে প্রায় ৬ হাজার সেনাসদস্য বর্তমানে সমুদ্রপথে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ মাসেই তারা গন্তব্যে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ এবং ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’ নামে দুটি শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রয়েছে। ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ সেখানে পৌঁছালে এই সংখ্যা তিনে দাঁড়াবে। এছাড়া চলতি মাসের শেষের দিকে ‘বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ’ এবং ১১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের আরও ৪ হাজার ২০০ সেনা সদস্য ওই অঞ্চলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

পেন্টাগনের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অভিযানের পর এ পর্যন্ত অঞ্চলটিতে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিপুল পরিমাণ সৈন্য সমাবেশ একদিকে যেমন আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের হাত শক্তিশালী করবে, তেমনি এটি যেকোনো সময় বড় ধরণের হামলার প্রস্তুতি হিসেবেও কাজ করতে পারে।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি, তাদের ঘোষিত নৌ-অবরোধ এখন ‘পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর’। এর ফলে ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে ওয়াশিংটন দাবি করছে। তবে জাহাজ চলাচলের আন্তর্জাতিক ট্র্যাকিং ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অবরোধ সত্ত্বেও কিছু জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।

সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী সমুদ্রপথে ইরানের ভেতরে ও বাইরে সব ধরণের বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ট্র্যাকিং ডেটার এই ভিন্নতা মার্কিন অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে এই সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ‘দুই দিনের মধ্যে’ পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে নতুন করে বৈঠক হতে পারে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যার মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হবে।