ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
দেশের বাজারে জুন মাসের জন্য তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল সরকার ত্রিমুখী কার্যক্ষমতাসম্পন্ন ক্যানসারের নতুন ইনজেকশন রোগীর টিউমার পুরোপুরিই নির্মূল করতে সক্ষম দেশের সামনে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে, হেসেখেলে চললে দেশের ক্ষতি হবে: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সংবাদ সম্মেলন সোমবার দেশে গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু ৩ মাস সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ১ জুন থেকে কার্যকর আজ রোববার বাংলাদেশের আকাশে এক বিরল পূর্ণিমা বা ব্লু মুন দেখা যাবে মার্কিন বাহিনীর বাগদাদ কিংবা তেহরান—কোথাও সামরিক অভিযানে যাওয়া ঠিক হয়নি: ট্রাম্প মরুর বুকে চীনের বিশাল গোপন ‘অস্ত্রভাণ্ডার’, উপগ্রহচিত্রে মিলল সামরিক তোড়জোড় আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা

শিনজো আবে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে মারা গেছেন। দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

জাপানের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাত দিয়ে শুক্রবার (৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

এর আগে শুক্রবার সকালে জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় নারা শহরে প্রচার কর্মসূচিতে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হন আবে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেই জানানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।

এদিকে শিনজো আবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তার দলীয় এক কর্মকর্তা। পাবলিক ব্রডকাস্টার এনএইচকে-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, নারা শহরে হামলার শিকার হওয়া স্থানের কাছাকাছি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিনজো আবে মারা যান।

সংবাদমাধ্যম বলছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় নারা শহরে প্রচার কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাপানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ওপর গুলি চালানো হয়। এরপরই লুটিয়ে পড়েন শিনজো। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিবিসি বলছে, প্রচার কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেকে পেছন থেকে গুলি করা হয়েছিল।

পৃথক একটি জাপানি সংবাদমাধ্যম কিয়োদো জানায়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে জাপানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী অচেতন অবস্থায় ছিলেন।

হামলার ঘটনার কিছু সময় পর বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানের রাজধানী টোকিওর সাবেক গভর্নর ইয়োচি মাসুজো টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর কার্ডিওপালমোনারি’তে আক্রান্ত হয়েছেন।

বিবিসি বলছে, জাপানে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করার আগে এই শব্দটি প্রায়শই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মূলত গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই শিনজো আবে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের সবচেয়ে কমবয়সী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০০৭ সালে দায়িত্ব নেন শিনজো আবে। তবে অসুস্থতার কারণে ২০২০ সালের আগস্টের শেষে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও এক বছর আগেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান আবে।

৬৭ বছর বয়সী শিনজো আবে সেসময় জানিয়েছিলেন, তার আলসারেটিভ কোলাইটিস রয়েছে এবং নতুন ওষুধ ব্যবহার করে তার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বহু বছর থেকে আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগে ভুগছিলেন।

২০১২ সালে আবারও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া শিনজো আবে সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে দায়িত্ব পালন করা জাপানি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এর আগে ২০০৭ সালেও প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি আলসারেটিভ কোলাইটিসে ভুগতে থাকায় হঠাৎ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। মূলত কৈশোর থেকেই এই রোগে ভুগছিলেন আবে।

প্রসঙ্গত, জাপানে বন্দুক সহিংসতার ঘটনা বেশ বিরল। কারণ পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে হ্যান্ডগান বা বন্দুক নিষিদ্ধ।

Tag :
জনপ্রিয়

দেশের বাজারে জুন মাসের জন্য তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল সরকার

শিনজো আবে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন

Update Time : ১০:০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ জুলাই ২০২২

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে মারা গেছেন। দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

জাপানের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাত দিয়ে শুক্রবার (৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

এর আগে শুক্রবার সকালে জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় নারা শহরে প্রচার কর্মসূচিতে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হন আবে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেই জানানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।

এদিকে শিনজো আবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তার দলীয় এক কর্মকর্তা। পাবলিক ব্রডকাস্টার এনএইচকে-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, নারা শহরে হামলার শিকার হওয়া স্থানের কাছাকাছি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিনজো আবে মারা যান।

সংবাদমাধ্যম বলছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় নারা শহরে প্রচার কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাপানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ওপর গুলি চালানো হয়। এরপরই লুটিয়ে পড়েন শিনজো। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিবিসি বলছে, প্রচার কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেকে পেছন থেকে গুলি করা হয়েছিল।

পৃথক একটি জাপানি সংবাদমাধ্যম কিয়োদো জানায়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে জাপানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী অচেতন অবস্থায় ছিলেন।

হামলার ঘটনার কিছু সময় পর বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানের রাজধানী টোকিওর সাবেক গভর্নর ইয়োচি মাসুজো টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর কার্ডিওপালমোনারি’তে আক্রান্ত হয়েছেন।

বিবিসি বলছে, জাপানে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করার আগে এই শব্দটি প্রায়শই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মূলত গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই শিনজো আবে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের সবচেয়ে কমবয়সী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০০৭ সালে দায়িত্ব নেন শিনজো আবে। তবে অসুস্থতার কারণে ২০২০ সালের আগস্টের শেষে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও এক বছর আগেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান আবে।

৬৭ বছর বয়সী শিনজো আবে সেসময় জানিয়েছিলেন, তার আলসারেটিভ কোলাইটিস রয়েছে এবং নতুন ওষুধ ব্যবহার করে তার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বহু বছর থেকে আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগে ভুগছিলেন।

২০১২ সালে আবারও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া শিনজো আবে সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে দায়িত্ব পালন করা জাপানি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এর আগে ২০০৭ সালেও প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি আলসারেটিভ কোলাইটিসে ভুগতে থাকায় হঠাৎ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। মূলত কৈশোর থেকেই এই রোগে ভুগছিলেন আবে।

প্রসঙ্গত, জাপানে বন্দুক সহিংসতার ঘটনা বেশ বিরল। কারণ পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে হ্যান্ডগান বা বন্দুক নিষিদ্ধ।