ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুদের পড়াশুনা অব্যাহত রাখতে স্কুল খোলা রাখার আহবান জানিয়েছে :ইউনিসেফ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৪৮:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২
  • ৩০১ Time View

শিশুদের পড়াশুনা অব্যাহত রাখতে স্কুল খোলা রাখার আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুদের উন্নতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ সংস্থা ইউনিসেফ।

শুক্রবার ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।

করোনার ‘ওমিক্রন’ ধরনটি ছড়িয়ে পড়ায় স্কুল পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ থাকার কারণে বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৬১ কোটি ৬০ লাখ শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইউনিসেফের বিবৃতিতে বলা হয়, সংকটময় পরিস্থিতিতে সবসময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় যে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে তা আমরা স্বীকার করি। এক্ষেত্রে ঝুঁকিও বেশি। তবে শিশুদের স্কুলে রাখার জন্য সম্মিলিতভাবে আমাদের পক্ষে সম্ভব সবকিছু করতে হবে।

হেনরিয়েটা ফোর বলেন, অগ্রাধিকার প্রাপ্য জনগোষ্ঠীকে পুরোপুরি সুরক্ষিত করার পর এবং টিকার যথেষ্ট প্রাপ্তি নিশ্চিত হলে ইউনিসেফ শিশুদের টিকাদানকে সমর্থন করে। সশরীরে স্কুলে যাওয়ার জন্য টিকাদানকে পূর্বশর্ত করবেন না।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ টিকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে সশরীরে স্কুলে যাওয়ার শর্ত আরোপ করলে তা শিশুদের শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ না পাওয়া এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউনিসেফ শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের টিকাদান ছাড়াই স্কুলগুলো খোলা রাখার এবং কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ কৌশল যাতে পড়াশোনা ও সামাজিক জীবনের অন্যান্য দিকগুলোতে শিশুদের অংশগ্রহণকে সহজতর করে তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করে।

এদিকে গত বছরের নভেম্বরে করোনা ভাইরাসের অতি সংক্রামক ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশেও ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে নতুন এ ধরনটি। এমন অবস্থায় গত ২১ ডিসেম্বর দুই সপ্তাহের জন্য সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এছাড়াও পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক বিধিনিষেধের মধ্যে মার্চ মাসে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার। প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় (৫৪৩ দিন) পর ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে ফেরে শিক্ষার্থীরা।

Tag :
জনপ্রিয়

শিশুদের পড়াশুনা অব্যাহত রাখতে স্কুল খোলা রাখার আহবান জানিয়েছে :ইউনিসেফ

Update Time : ০৫:৪৮:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২

শিশুদের পড়াশুনা অব্যাহত রাখতে স্কুল খোলা রাখার আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুদের উন্নতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ সংস্থা ইউনিসেফ।

শুক্রবার ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।

করোনার ‘ওমিক্রন’ ধরনটি ছড়িয়ে পড়ায় স্কুল পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ থাকার কারণে বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৬১ কোটি ৬০ লাখ শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইউনিসেফের বিবৃতিতে বলা হয়, সংকটময় পরিস্থিতিতে সবসময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় যে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে তা আমরা স্বীকার করি। এক্ষেত্রে ঝুঁকিও বেশি। তবে শিশুদের স্কুলে রাখার জন্য সম্মিলিতভাবে আমাদের পক্ষে সম্ভব সবকিছু করতে হবে।

হেনরিয়েটা ফোর বলেন, অগ্রাধিকার প্রাপ্য জনগোষ্ঠীকে পুরোপুরি সুরক্ষিত করার পর এবং টিকার যথেষ্ট প্রাপ্তি নিশ্চিত হলে ইউনিসেফ শিশুদের টিকাদানকে সমর্থন করে। সশরীরে স্কুলে যাওয়ার জন্য টিকাদানকে পূর্বশর্ত করবেন না।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ টিকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে সশরীরে স্কুলে যাওয়ার শর্ত আরোপ করলে তা শিশুদের শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ না পাওয়া এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউনিসেফ শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের টিকাদান ছাড়াই স্কুলগুলো খোলা রাখার এবং কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ কৌশল যাতে পড়াশোনা ও সামাজিক জীবনের অন্যান্য দিকগুলোতে শিশুদের অংশগ্রহণকে সহজতর করে তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করে।

এদিকে গত বছরের নভেম্বরে করোনা ভাইরাসের অতি সংক্রামক ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশেও ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে নতুন এ ধরনটি। এমন অবস্থায় গত ২১ ডিসেম্বর দুই সপ্তাহের জন্য সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এছাড়াও পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক বিধিনিষেধের মধ্যে মার্চ মাসে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার। প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় (৫৪৩ দিন) পর ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে ফেরে শিক্ষার্থীরা।