ঢাকা ০১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
প্রায় সব ধরনের সবজি, মাছ, ডিম, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ব্যক্তিগত সফর সংক্ষিপ্ত করে দুপুরে দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আজ পদত্যাগ করছেন মোদীর আশ্বাসে থামছে না দেশব্যাপী আন্দোলন; অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ককরোজ জনতা পার্টি ব্রাজিলের পণ্যের উপর আরোপিত শুল্ককে স্বেচ্ছাচারী ও অযৌক্তিক আখ্যা দিয়েছে ব্রাজিল ট্রাম্প প্রশাসনের ৮০টির বেশি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের ঘোষণা শিক্ষা সচিব বিনীত জোশীকে সরিয়ে দিয়েছে মোদি সরকার মধ্যরাতে ভিডিও বার্তায় মোদীর প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা ইরানের বিরুদ্ধে টানা ১৩তম রাতের সামরিক অভিযান সম্পন্ন, বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা

অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করার ঘটনায় চার র‍্যাব সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

রাজধানীর মীরবাগের বাসিন্দা তামজিদ হোসেনকে (২৭) অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করার ঘটনায় চার র‍্যাব সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই ব্যক্তিকে অপহরণের পর তার বোনকে ফোন করে দুই কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয়েছিলো বলে অভিযোগ।

শুক্রবার (৯ এপ্রিল) তাদের গ্রেফতার করার কথা জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। ভুক্তভোগী তামজিদের ছোট বোন রাইয়ানা হোসেন হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার এজাহারে রাইয়ানা হোসেন বলেন, ‘আমার বড় ভাই তামজিদ হোসেন বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে উত্তরা যাওয়ার কথা বলে আমাদের মীরবাগের বাসা থেকে বের হন। বেলা ১২টার দিকে এক ব্যক্তি নিজেকে র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আমার মোবাইল নম্বরে কল করেন। তিনি আমাকে জানান, আমার বড় ভাই (তামজিদ) র‍্যাব হেফাজতে আছে। এ বিষয়ে থানা পুলিশ বা ডিবিকে না জানানোর কথা বলেন ওই কর্মকর্তা। পুলিশ বা ডিবিকে এ বিষয়ে জানালে আমার বড় ভাইকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলেও তিনি আমাকে জানান। এরপর র‍্যাবের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেওয়া সেই ব্যক্তি ফোনের লাইন কেটে দেন। পরবর্তী সময়ে আমি অনেকবার তার সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। কিন্তু বারবার আমার কল কেটে দেন।’

মামলার বাদী বলেন, ‘পরে দুপুর দেড়টার দিকে সেই ব্যক্তি আবার কল দেন। মোবাইলফোনে তিনি আমাকে জানান, আমার বড় ভাইকে র‍্যাব অফিসে সিনিয়র অফিসাররা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তার নামে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা হবে। আমার বড় ভাইকে র‍্যাবের কোন অফিসে, কোন সিনিয়র অফিসার জিজ্ঞাসাবাদ করছেন- তা জানতে চাইলে, সেই ব্যক্তি জানান, এই মুহূর্তে আপনার ভাই র‍্যাবের কোন অফিসে আছেন- তা বলা যাবে না। তাকে ক্রসফায়ারও দেওয়া হতে পারে। যদি আপনার ভাইকে বাঁচাতে চান, তাহলে দুই কোটি টাকা রেডি করেন।’

রাইয়ানা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘এর কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তি ফোনে আমার ভাইকে তার সহযোগীদের দ্বারা মারধর করার শব্দ শোনান এবং আমার ভাইকে মোবাইলফোন দিলে সে কাঁদতে কাঁদতে জানায়, তাকে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে মারধর করা হচ্ছে। আমার ভাই কাঁদতে কাঁদতে বাঁচার আকুতি জানায়। পরে একই নম্বর থেকে অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন ফোন করে টাকা জোগাড় করেছি কি না আমার কাছে জানতে চান।’

ভুক্তভোগীর বোন বলেন, ‘আমি তখন তাদেরকে বলি, আমরা গরিব মানুষ। এত টাকা কোথায় পাব? এক পর্যায়ে ব্যাবের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেওয়া সেই ব্যক্তি ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন। আমাদের কাছে কোনো টাকা নেই জানালে সে আমাকে নগদ ১২ লাখ টাকা নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কে যেতে বলেন। এ সময় সে আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, থানা পুলিশ বা ডিবি পুলিশে জানালে আমার ভাইকে প্রাণে মেরে ফেলবেন।’

রাইয়ানা বলেন, ‘পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সেই ব্যক্তি আমাকে ফোনে করে আমার বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। আমার ভাই তখন তাকে খুব মারধর করছে বলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের দাবি করা টাকা দিয়ে দিতে বলে। আমরা তখন তার অবস্থান জানতে চাইলে সে জানায়, তার হাত-পা ও চোখ বাঁধা। সে কোথায় আছে বলতে পারবে না।’

‘পরে আমার কাছে মনে হয়, তারা আমার ভাইকে অপহরণ করে কোথাও আটকে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার হাতিরঝিল থানায় একটি অভিযোগ করি।’

এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রশিদ বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এছাড়া চারজন গ্রেফতার রয়েছেন। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই অপহরণ চক্রে মোট ছয়জন ছিল। তাদের মধ্যে ৫ জন র‌্যাব সদস্য আর একজন সাধারণ নাগরিক। র‌্যাবের তিনজন সেনাবাহিনীর, একজন বিমান বাহিনীর, একজন বিজিবির সদস্য। তারা এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে তার কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করেন। অভিযোগ আসার পর অভিযান চালিয়ে তাদের মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। বিজিবি সদস্য ও সাধারণ নাগরিক এখনও পলাতক।

র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের প্রধান কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, আটককৃত চারজনকে পুলিশের পক্ষ থেকে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তবে কাউকে অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত পাওয়া গেলে কোন ছাড় দেয়া হবে না।

Tag :
জনপ্রিয়

প্রায় সব ধরনের সবজি, মাছ, ডিম, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে

অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করার ঘটনায় চার র‍্যাব সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

Update Time : ০৪:২৪:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ এপ্রিল ২০২১

রাজধানীর মীরবাগের বাসিন্দা তামজিদ হোসেনকে (২৭) অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করার ঘটনায় চার র‍্যাব সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই ব্যক্তিকে অপহরণের পর তার বোনকে ফোন করে দুই কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয়েছিলো বলে অভিযোগ।

শুক্রবার (৯ এপ্রিল) তাদের গ্রেফতার করার কথা জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। ভুক্তভোগী তামজিদের ছোট বোন রাইয়ানা হোসেন হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার এজাহারে রাইয়ানা হোসেন বলেন, ‘আমার বড় ভাই তামজিদ হোসেন বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে উত্তরা যাওয়ার কথা বলে আমাদের মীরবাগের বাসা থেকে বের হন। বেলা ১২টার দিকে এক ব্যক্তি নিজেকে র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আমার মোবাইল নম্বরে কল করেন। তিনি আমাকে জানান, আমার বড় ভাই (তামজিদ) র‍্যাব হেফাজতে আছে। এ বিষয়ে থানা পুলিশ বা ডিবিকে না জানানোর কথা বলেন ওই কর্মকর্তা। পুলিশ বা ডিবিকে এ বিষয়ে জানালে আমার বড় ভাইকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলেও তিনি আমাকে জানান। এরপর র‍্যাবের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেওয়া সেই ব্যক্তি ফোনের লাইন কেটে দেন। পরবর্তী সময়ে আমি অনেকবার তার সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। কিন্তু বারবার আমার কল কেটে দেন।’

মামলার বাদী বলেন, ‘পরে দুপুর দেড়টার দিকে সেই ব্যক্তি আবার কল দেন। মোবাইলফোনে তিনি আমাকে জানান, আমার বড় ভাইকে র‍্যাব অফিসে সিনিয়র অফিসাররা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তার নামে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা হবে। আমার বড় ভাইকে র‍্যাবের কোন অফিসে, কোন সিনিয়র অফিসার জিজ্ঞাসাবাদ করছেন- তা জানতে চাইলে, সেই ব্যক্তি জানান, এই মুহূর্তে আপনার ভাই র‍্যাবের কোন অফিসে আছেন- তা বলা যাবে না। তাকে ক্রসফায়ারও দেওয়া হতে পারে। যদি আপনার ভাইকে বাঁচাতে চান, তাহলে দুই কোটি টাকা রেডি করেন।’

রাইয়ানা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘এর কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তি ফোনে আমার ভাইকে তার সহযোগীদের দ্বারা মারধর করার শব্দ শোনান এবং আমার ভাইকে মোবাইলফোন দিলে সে কাঁদতে কাঁদতে জানায়, তাকে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে মারধর করা হচ্ছে। আমার ভাই কাঁদতে কাঁদতে বাঁচার আকুতি জানায়। পরে একই নম্বর থেকে অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন ফোন করে টাকা জোগাড় করেছি কি না আমার কাছে জানতে চান।’

ভুক্তভোগীর বোন বলেন, ‘আমি তখন তাদেরকে বলি, আমরা গরিব মানুষ। এত টাকা কোথায় পাব? এক পর্যায়ে ব্যাবের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেওয়া সেই ব্যক্তি ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন। আমাদের কাছে কোনো টাকা নেই জানালে সে আমাকে নগদ ১২ লাখ টাকা নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কে যেতে বলেন। এ সময় সে আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, থানা পুলিশ বা ডিবি পুলিশে জানালে আমার ভাইকে প্রাণে মেরে ফেলবেন।’

রাইয়ানা বলেন, ‘পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সেই ব্যক্তি আমাকে ফোনে করে আমার বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। আমার ভাই তখন তাকে খুব মারধর করছে বলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের দাবি করা টাকা দিয়ে দিতে বলে। আমরা তখন তার অবস্থান জানতে চাইলে সে জানায়, তার হাত-পা ও চোখ বাঁধা। সে কোথায় আছে বলতে পারবে না।’

‘পরে আমার কাছে মনে হয়, তারা আমার ভাইকে অপহরণ করে কোথাও আটকে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার হাতিরঝিল থানায় একটি অভিযোগ করি।’

এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রশিদ বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এছাড়া চারজন গ্রেফতার রয়েছেন। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই অপহরণ চক্রে মোট ছয়জন ছিল। তাদের মধ্যে ৫ জন র‌্যাব সদস্য আর একজন সাধারণ নাগরিক। র‌্যাবের তিনজন সেনাবাহিনীর, একজন বিমান বাহিনীর, একজন বিজিবির সদস্য। তারা এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে তার কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করেন। অভিযোগ আসার পর অভিযান চালিয়ে তাদের মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। বিজিবি সদস্য ও সাধারণ নাগরিক এখনও পলাতক।

র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের প্রধান কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, আটককৃত চারজনকে পুলিশের পক্ষ থেকে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তবে কাউকে অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত পাওয়া গেলে কোন ছাড় দেয়া হবে না।